https://www.prothomalony.com/

9592

bangladesh

বাংলাদেশ

বোরোর বাম্পার ফলন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হোক

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৪ ১৫:০০

উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ও অনুকুল আবহাওয়ায় বোরো আবাদ বেড়েছে। বোরোর আশানুরূপ ফলনে সারা দেশের কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। হাওড়গুলোয় পুরোদমে চলছে ধান কাটা-মাড়াই ও শুকানোর কাজ। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে ধান ঘরে তুলেছেন।

তবে কৃষকরা বলছেন, ফলন ভালো হলেও ঝড় বৃষ্টির আশঙ্কায় আগাম ধান কাটতে হচ্ছে। এ ছাড়া অনেক জায়গায় ধানের ভালো দাম পাওয়া গেলেও কিছু কিছু জায়গায় তা মিলছে না। অতিরিক্ত গরমে ধান কাটাও যথেষ্ট কষ্টসাধ্য হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

 কিন্তু সোনার ধানে ঘর-আঙিনা ভরে উঠলেও কৃষকের মুখে নেই হাসি। কারণ, সরকার এবার ধানের দাম মনপ্রতি ১ হাজার ২৮০ টাকা নির্ধারণ করলেও কেনা শুরু করবে ৭ মে থেকে। ফলে কৃষক চাষাবাদের খরচের দেনা শোধ, ধান কাটা ও মাড়াইয়ের খরচ মেটাতে এখনই ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কতিপয় ফড়িয়া ও আড়তদার এ সুযোগ নেওয়ায় কৃষক পাচ্ছেন না ন্যায্যমূল্য।

চলতি মৌসুমে সার, সেচ-এসব উপকরণ বাবদ অতীতের তুলনায় বেশি খরচ করতে হয়েছে। ভালো দাম পেয়ে বাড়তি খরচের কথা ভুলে যাচ্ছেন কৃষক। তারা বলছেন এবার আবাদ খরচ মিটিয়ে তাদের লাভ থাকছে। এটা খুশির খবর। বোরোর একটি বড় অংশ আসে হাওড়াঞ্চল থেকে। এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই হাওড়াঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ ধান কাটার খবরটি ইতিবাচক। প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরু হওয়ার আগে হাওড়ের বোরো ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রতিবছর চিন্তিত থাকেন কৃষক। এ অবস্থার অবসানে ধানের নতুন জাত আবিষ্কার করা দরকার, যেটির জীবনকাল প্রচলিত ধানের জাতের চেয়ে কম। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের কৃষকদের বংশপরম্পরায় অর্জিত জ্ঞান এখন তেমন একটা কাজে লাগছে না। এ অবস্থায় নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে কৃষক যাতে বাম্পার ফলন অব্যাহত রাখতে পারেন, সেজন্য তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

কৃষক কষ্ট করে ফসল উৎপাদন করলেও দামের বেলায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা বঞ্চিত হন, এ খবর বেশ পুরোনো। কখনো কখনো, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে বিভিন্ন ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন কৃষক। কৃষককে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সরকারি নীতিমালা থাকা দরকার। সরকার চালকল মালিকদের কাছ থেকে চাল কিনলে লাভবান হন চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীরা। সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হলে কৃষক লাভবান হবেন।

বাম্পার ফলন হলেও সার, ঔষধ ও শ্রমিক খরচে লাভ নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা। মাঠ জুড়ে এখন বোরো ধানের বাম্পার ফলনের হাতছানি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার ধান যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে। সার, ঔষধ, বারতি সেচ ও শ্রমিক খরচে চাষিদের কপালে চিন্তার ভাজ। কৃষি কাজে ব্যবহৃত কিটনাশকসহ সেচ ব্যবস্থা সহজলভ্য ও ধানের সঠিক মূল্য পেলে সাধারন কৃষকেরা লাভবান হবে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিভিন্ন সংকটের কারণে আগামী দিনে বহু দেশ খাদ্যপণ্য রপ্তানি সীমিত করতে পারে, যা বহুল আলোচিত। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য কৃষকের হাতে সঠিক সময়ে কৃষি উপকরণের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হলে কৃষকদের যথাযথভাবে উৎসাহিত করা দরকার। দেশে কৃষিপণ্য বিপণনের যে ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, এর পরিবর্তন করা জরুরি। লক্ষ করা যায়, অনেক সময় কৃষক উৎপাদিত পণ্যের যে দাম পান, তা উৎপাদন খরচের সমান। লাভ হয় মূলত মধ্যস্বত্বভোগীদের। দেশে এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার, যাতে কৃষক সরাসরি ভোক্তার কাছে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারেন। এতে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি উপকৃত হবেন ভোক্তারাও। আগামী দিনে কৃষকদের উৎপাদন খরচ আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এটি বিবেচনায় রেখে কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষিপ্রধান এ দেশের মোট জনশক্তির অধিকাংশই কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থেই কৃষকের কথা গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হলে কৃষক যেন দুর্দশাগ্রস্ত না হন, এজন্য তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সবার খাদ্যের জোগান দিতে কৃষক যেভাবে মাথার ঘাম পায়ে ফেলেন, তা স্মরণে রেখে সরকারকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রতি বছর ধানের দাম নির্ধারণ ও ক্রয়ের উদ্যোগ যেন সময়োপযোগী হয়, সরকারকে সেদিকে নজর রাখতে হবে। ব্যবসায়ীরা যেন নিজেদের স্বার্থে সিন্ডিকেট তৈরি করে চাল নিয়ে চালবাজি করতে না পারে, সেজন্য সরকার পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন