https://www.prothomalony.com/

9551

north-america

উত্তর আমেরিকা

উইন রোজারিও উপর পু লি শে র গু লি চালানো: নিউইয়র্কে ক্ষু ব্ধ বাংলাদেশিদের আ ন্দো ল নে র প্রস্তুতি

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৪ ১০:৩৯

নিউইয়র্ক পুলিশের হাতে নিহত ১৯ বছর বয়সের বাংলাদেশি যুবক উইন রোজারিওর মৃত্যুকালীন সময়ের ভিডিও ফুটেজ অবমুক্ত করা হয়েছে। বীভৎস ভিডিও ফুটেজ দেখে ক্ষুব্ধ নিউইয়র্কের বাংলাদেশি জনসমাজ। এ নিয়ে করণীয় নির্ধারণের জন্য নতুন করে তাগিদ এসেছে। নিউইয়র্ক পুলিশের সহিংসতার বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে।

গত ২৭ মার্চ নিউইয়র্কের ওজন পার্কে উইন রোজারিও নিজের ঘরে পুলিশের উপর্যুপরি গুলিতে নিহত হন। কিছুটা মামানসিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া উইন রোজারিওর অস্বাভাবিক আচরণের জন্য পুলিশের সাহায্য চেয়ে সিটির ৯১১ নাম্বারে কল দেয়া হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রোজারিওর ঘরে প্রবেশ করে। তার হাতে একটি কাঁচি ছিল। পুলিশের বডি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কোন উদ্যোগই নেয়নি। প্রথমে টেজার দিয়ে উইন রোজারিওকে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। উইন রোজারিওর মা তাঁর ছেলেকে গুলি না করার জন্য আর্ত চিৎকারে আকুতি জানাচ্ছিলেন। উইনের ছোট ভাইও এসময় গুলি না করার জন্য আকুতি জানাচ্ছিল। সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিস্থিতিতে পুলিশ মায়ের আগলে ধরা সন্তানকে গুলি ছুড়লে উইন ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়তে দেখা যায়। নিকটস্থ জামাইকা হাসপাতালে নেয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এ ঘটনার পরপরই বাংলাদেশি জনসমাজ, ড্রামসহ সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন প্রতিবাদ জানাতে থাকে। এমন নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের পর যেভাবে কমিউনিটি ফুঁসে উঠার কথা ছিল তা হয়নি। শুরু থেকেই এ ঘটনা নিয়ে প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা সহ নিউইয়র্কের বাংলা সংবাদমাধ্যম পুলিশের এমন নৃশংস আচরণ নিয়ে সংবাদ করে আসছিল।

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের উদ্যোগে ৩ মে শুক্রবার ঘটনার পুলিশ বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশদের নিয়মিত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বিকল্প দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব পুলিশ সদস্য কোন আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতে পারবেন না।



বডি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশের পর উইন রোজারিওর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বাবা, মা এবং পারিবারিক সদস্যদের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ভিডিও থেকে আবারও দেখা যাচ্ছে পুলিশ উসকানিমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে ঠান্ডা মাথায় উইন রোজারিওকে হত্যা করেছে। সন্তানহারা পরিবারের সদস্যরা বিবৃতিতে উইন রোজারিওকে হারানোর বেদনা বহন করে চলার কথা উল্লেখ করেছেন। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য দায়ী পুলিশদের শাস্তি দাবি করেছেন তারা।

জাস্টিস কমিটি নামের নাগরিক সংগঠনের পরিচালক লোয়েডা কলন বলেছেন, এ ঘটনা আবারও মনে করইয়ে দিচ্ছে সিটির ৯১১ কল পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশদের মানসিক সমস্যা নিয়ে কাজ করার সঠিক প্রশিক্ষণ নেই।
 
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ থেকে জানানো হয়েছে, তারা প্রতিবছর ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯১১ কল পেয়ে থাকেন। এসব কলের জের ধরে ১ শতাংশের নিচে পুলিশকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে হয়। উইন রোজারিওর মৃত্যু ঘটনা নিয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ তাদের বিভাগীয় তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। দায়ী পাওয়া গেলে পুলিশের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে এ নিয়ে বাংলাদেশি জনসমাজকে নতুন করে নড়েচড়ে উঠতে দেখা গেছে। নিউইয়র্ক ভিত্তিক অনলাইন টিভি টাইম টেলিভিশনে এ নিয়ে আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজুমল আহসান, টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী, ড্রামের সংগঠক কাজী ফৌজিয়া, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ সোসাইটির নেতা মোহাম্মদ আলী, নাগরিক সংগঠক আল আমীন রাসেল বলেছেন, দ্রুতই বাংলাদেশি জনসমাজকে নিয়ে রাজপথে বিক্ষোভ করা হবে। দল, সংগঠন নয়, পুলিশের নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে জনসমাজকে মাঠে নামার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘটনাটিকে স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে তারা এ নিয়ে সোচ্চার হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এরমধ্যেই জনসংযোগ শুরু হয়েছে। ড্রামের সংগঠক কাজী ফৌজিয়া জানিয়েছেন, ৮ মে বুধবার সিটি হলের সমানে সংবাদ সম্মেলন ও সমাবেশ করা হবে। সকাল ১১টায় এ সংবাদ সম্মেলন এবং সমাবেশে যোগ দেয়ার জন্য তিনি সকল বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।         

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন