https://www.prothomalony.com/
9518
north-america
ভূমিকাঃ আব্রাহাম লিঙ্কন বলেছেন, 'শ্রম হল পুঁজির চেয়ে উচ্চতর এবং অনেক বেশি বিবেচনার দাবি রাখে-এমন কিছু।' মে মাসের ১ তারিখ, দিনটি খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে রক্তঝরা সংগ্রামের দিন। এ দিনটি ইতিহাসের পাতায় তাদের জন্য একটি গৌরবময় দিন। ১৮৮৬ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা তাদের বুকের রক্ত ঝরিয়ে অতি নগন্য মজুরিতে সপ্তাহে ৬ দিন গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা কাজ করার বদলে ৮ ঘন্টা দৈনিক মজুরিতে কাজ করার অধিকার আদায় করেছিলেন। ওইদিন তাদের আত্মদানের মধ্যদিয়ে শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আমেরিকা ও কানাডাতে অবশ্য সেপ্টেম্বর মাসে শ্রম দিবস পালিত হয়। মহান মে দিবসের ইতিহাসকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বা কতটা তারা ভোগ করতে পারছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তবু প্রতি বছর ইতিহাসের সেই দিনটির কথা আমাদের স্মরণ করতেই হয়, সম্মান জানাতে হয় তাদের যাদের জোরালো কণ্ঠ আর আত্মত্যাগের বিনিময়ে দৈনিক ৮ ঘন্টা মজুরিতে কাজ করার অধিকার আদায় হয়েছিল। আজ, তাদের স্মরণে উত্তরের সাহিত্য পাতাটি সাজানো হয়েছে ভিন্ন এক আমেজে। আটজন শিশুদের হাতে আঁকা শ্রমিকদের শৈল্পিকচিত্রে 'শ্রমিক দিবস' সংখ্যাটি সাজানোর কারণ হলো-বিশ্বের সকল স্তরের শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা এবং এই শিশুদের মধ্যে শ্রম ও শ্রমিকদের নিয়ে কিছুটা ধারণা বিতরণ করা। সেই সাথে আমাদের শিশুদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে জানতে উৎসাহিত করা। শ্রমিক দিবস নিয়ে শিশুদের এই চিত্র অঙ্কনের পেছনে যে সকল বাবা-মা তাদের উৎসাহিত করেছেন, তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শ্রমিক দিবসের শুভেচ্ছা সবাইকে- এইচ বি রিতা।

আদর আহনাফ বর্ণ। দশ বছর বয়সী বর্ণ 'পি এস ১২১ (Gifted and Talented Program)' তে ৫ম শ্রেণিতে পড়ে। তার বাবা আবদুল বাতেন এবং মা রিনা পারভীন। বর্ণের একটি ছোট ভাই রয়েছে পরিবারে। শ্রমিক দিবস নিয়ে বর্ণ এঁকেছে তিনটি ছবি। প্রথম ছবিতে দেখা যাচ্ছে দুই হাত ধরে আছে গোলাকার পৃথিবী, পৃথিবীর উপরের অংশে একটি হ্যাট, তারউপর অপেন এন্ডেড স্প্যানার, ব্রাশ, শাবল। পৃথিবী যেন দুই হাত মেলে স্বাগত জানাচ্ছে সকল প্রকার শ্রমিকদের। দ্বিতীয় ছবিটাতে একটি হাতুড়ি, এর শেষাংশ ধরে রেখেছে একটি পেন্সিল। তারউপর হাঁটছে একটি লোক বস্তা কাঁধে, তার হাতে একটি বই। শিক্ষা আর দরিদ্রতার মধ্যে এক দ্বন্ধ, তবু খেটে খাওয়া মানুষ উন্নতির পথে অগ্রসর হয়।
তৃতীয় ছবিটি ধরে রেখেছে শ্রমিকের শক্তি শক্ত হাতে, কাঁধে কুড়াল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একজন শহরের বিল্ডিংগুলোর উপর, যে শহর গড়ে তোলতে এই শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য।
বর্ণ চার বছর বয়স থেকে ছবি আঁকে। ফেসবুকে মোটামোটি সবাই তার অঙ্কন সম্পর্কে অবগত। বর্ণ সব ধরনের ছবি আঁকতে পছন্দ করে। তার একটি ফেসবুক পেইজও রয়েছে যেখানে সে নিয়মিত অঙ্কন পোস্ট করে। শ্রমিকদের নিয়ে এই ছবিটি সম্পর্কে বর্ণ বলে, 'সব কাজই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যেকেরই সমান প্রাপ্য। আমি সব কাজকে মূল্যায়ন করি। তারাই আমাদের শক্তি।'

দশ বছরের পাললিক প্রান্তী, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। থাকে ভার্জিনিয়া। প্রান্তীর মা দীনা ফেরদৌস এবং বাবা মাহবুব লীলেন। শ্রমিক দিবস নিয়ে একটি ছবি এঁকেছে প্রান্তী খুশী মনে। তার চিত্রটিতে দেখা যায়, নীল আকাশের নিচে কয়েকটি ঘর। তারই একপাশে এক নারী মাথায় কিছু বহন করছে। মাথার ওজন আকাশ ছুঁই ছুঁই করছে। আরেক কোণে একটি গাছের তলে এক নারী হাতুরি হাতে ইট ভাঙ্গছে। নিন্মবিত্ত খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং এই বোঝা যে কতটা কঠিন-তা আমরা দেখতে পাই ছোট শিশু প্রান্তীর রং তুলিতে।
প্রান্তী কিন্ডারগার্টেন থেকে ছবি আঁকে। সে সময় প্রান্তী এক্সটেনডেড ডে কেয়ারে ছিল। ওখানে ছবি আঁকানো হতো বাচ্চাদের দিয়ে। বাসায় এসে নিজে নিজে ছবি আঁকার প্রাক্টিস করত প্রান্তী। সময় পেলে তার মা সাহায্য করতো। তখন তিনি চাকরি করতেন। শিক্ষকরা প্রান্তীর ছবি আঁকা দেখে খুব খুশি হতো, তাই তার মা আরো উৎসাহ দিত। প্রান্তীর মা দীনা ফেসদৌস বলেন, অনেকদিন ধরে ছবি আঁকা হয় না প্রান্তীর, কারণ এখন সে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, মঞ্চ নাটক, ভায়োলিন বাজানো ও কোরাস গানের উপর। গত ৬ই এপ্রিল, ব্যারোনিকা নামে একটা বিশেষ চরিত্রে "দ্যা ক্লো" নামক ১ ঘন্টার মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেছে প্রান্তী। তাছাড়া স্কুলে সে গার্লস স্কাউট এর সাথেও যুক্ত। আর সে স্কুল পেট্রল ডিউটি দেয় প্রতিদিন।

যায়ান সাদিক। নিউজার্সির ম্যাককিনলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। যায়ানের বাবা সায়ান সাদিক এবং মা রোকেয়া দীপা। যায়ান দুই বছর বয়স থেকে পেন্সিল ও রং তুলিতে আঁকা শুরু করে। শ্রমিক দিবস নিয়ে যায়ানের কাছে একটি ছবি চাইলে, সে খুব সিরিয়াস হয়ে উঠে। স্কুলের পড়া শেষ করেই দ্রুত আঁকতে বসে যায়। তার আঁকা ছবিতে দেখা যায়, ভাঙ্গা ইটের স্তুপের উপর একটি ছোট বাচ্চা হাতুরি দিয়ে ইট ভাঙ্গছে। তার গা খালি, হাফ প্যান্ট পরা। মাথার উপর এবং ডানে ছাতা রয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে সোনালি, হলুদ, কিছুটা কমলা রং যা দুপুরের তীব্র রোদকে রিপ্রেজেন্ট করে। এই অঙ্কনে আমরা শিশুশ্রম সম্পর্কে ধারণা পাই। অঙ্কনে ছাতার ব্যবহার নিয়ে জায়ান বলে, 'বাইরের আবহাওয়া খুব খারাপ। অনেক গরম। ছাতাগুলি ওকে নিরাপদ রাখতে পারছে না। ও সিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। ওর কষ্ট হচ্ছে কাজ করতে।' শিশুশ্রমের ধারণাটি কীভাবে মাথায় এলো, জানতে চাওয়া হলে যায়ান বলে, 'আমি গুগল সার্চ করে শিশুশ্রম নিয়ে জেনেছি। আগে জানতাম না। অনেক শিশুরা স্কুলে না গিয়ে কাজ করে, এখন জেনেছি। এই বয়স কাজ করার জন্য নয়, স্কুলে যাওয়ার জন্য। শিশুশ্রম রিয্যালি স্যাড এন্ড আনহেল্দি।'

দশ বছর বয়সী চারুলতা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। চারুলতা নিউইয়র্ক সিটির টেলফর্ড লওন এলেমেন্টারি স্কুলে পড়াশোনা করছে। চারুলতার মা তামান্না গাজী এবং বাবা আদনান সৈয়দ। শ্রমিক দিবস নিয়ে চারুলতা এঁকেছে কালো রঙে ছবিটি। ছবিতে দেখা যায়, একটি হাত শক্ত করে ধরে আছে ডবল অপেন এন্ডেড স্প্যানারটি। ওপেন-এন্ডেড স্প্যানারটিতে দুটো U- আকৃতির প্রান্ত রয়েছে, যা বিভিন্ন আকারের বোল্ট এবং ফিক্সিংগুলিকে আঁকড়ে ধরে সেগুলিকে আঁটসাঁট এবং আন-টাইট করার জন্য বযবহার করা হয়। ওপেন-এন্ডেড স্প্যানার বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করা হয় যেমন বাড়ি, ওয়ার্কশপ, শিল্প এবং গ্যারেজ যেখানে যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজ করা হয়। অঙ্কনটি সম্পর্কে চারুলতা বলে, 'কঠিন কাজে মানুষ এটি ব্যবহার করে।'
এ বছরের শুরুতে নিউ ইয়র্কের 'দ্য মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্ট'-এ চারুলতার আঁকা একটি ছবি তাদের গ্যালারির জন্য চুড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছে। ওর আরেকটি ছবিও এ বছর কুইন্স মিউজিয়াম নির্বাচন করেছে। চারুর স্কুল থেকে জানিয়েছে মে মাস থেকে কুইন্স মিউজিয়াম এবং জুন মাস থেকে দ্য ম্যাট(মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্ট) প্রদর্শনীর জন্য স্থান পাবে। প্রদর্শনীর ছবিগুলো চারুলতা এঁকেছে চারকোল অর্থাৎ কয়লা দিয়ে।

নওরোজ সাফায়েত মজুমদার। বয়স ১৬ হলেও নওরোজ আমাদের আরেকটি শিশু। নওরোজ The Felician School For Exceptional Children এ দশম শ্রেণিতে পড়ে। বাবার নাম সাফায়েত উল্লাহ মজুমদার, মা কুলসুম আক্তার সুমী। নবনীতা সাফায়েত দ্বিমিত্রা নামে বড় এক বোন আছে তার। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বোন বিশেষ করে ছুটিতে এলে ব্যস্ত রাখার জন্যই নওরোজকে দিয়ে ছবি আঁকায়। নওরোজ স্কুলেও নানা সময়ে অনেক ছবি আঁকে। মাঝেমাঝে সেসব ছবি বাসায় নিয়ে আসে নওরোজ। শান্ত স্বভাবের নওরোজকে শ্রমিক দিবসের জন্য একটি ছবি আঁকতে অনুরোধ করি। তার মা সুমী, শ্রমিক দিবস সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দেয় নওরোজকে। তারপর কিছু ছবি দেখায়। ব্যাখ্যা করে কোন জিনিস দিয়ে শ্রমিকরা কি কাজ করে। নওরোজ বোঝার চেষ্টা করে। ওকে দু'টো ছবি আঁকতে দেয় তার মা। সাথে পেন্সিল, রং তুলি। নওরোজ দু'টো ছবি আঁকে এবং রং করে। একটি ছবিতে দেখা যায়, একটি হ্যাট। আরেকটি ছবিতে হাতুড়ি আর অপেন এন্ডেড স্প্যানার। নওরোজ এখন জানে এগুলি কে ব্যবহার করে এবং কেন করে। নওরোজকে শিশু বলার কারণ, সে অটিজম নিয়ে বাস করছে। অথচ কত নিঁপুনতার সাথে সে মায়ের নির্দেশনা অনুসরণ করেছে-তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। অন্য বাচ্চাদের তুলনায় হয়তো তার একটু বেশি গাইডেন্স দরকার হয়েছে, একটু বাড়তি সমযের দরকার হয়েছে, কিন্তু নওরোজ অন্যদের মতো শ্রমিক দিবস এর জন্য চমৎকার একটা অঙ্কন আমাদের উপহার দিয়েছে।

আয়মান বিনতে জাহিদ কাওসার, বয়স নয়। বাংলাদেশের গোলগোথা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। বাবা-এডভোকেট জাহিদ কাওছার। মা-আফসিয়া নিগার মিঠী। চার বছর বয়স থেকে সে ছবি আঁকতে শুরু করে। শ্রমিক দিবস নিয়ে আয়মান তার নিজ পছন্দের অঙ্কনটি এ সংখ্যার জন্য পাঠিয়েছি। তার আঁকা ছবিটিতে আমরা দেখতে পাই, একজন পুলিশ, একজন ডাক্তার, একজন শিক্ষক, ফুড-ডেলেভারিম্যান এবং হাজমত কর্মী রয়েছে। তাদের পেশা কি এবং কেন এই ছবিটি আঁকা হলো, জানতে চাওয়া হলে আয়মান বলে, 'তাদের সবার পেশা একই, আমাদেরকে যত্ন করা। ছবির প্রতিটি মানুষ পরিশ্রমী। তারা জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করে। কিন্তু এর পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের সেবা করার জন্য তারা তাদের রক্ত, ঘাম এবং চোখের জল ফেলে। অতএব, প্রতিটি পেশা সমান এবং সবাইকে সমানভাবে প্রশংসা করা উচিত।'
.jpeg)
ফারিহা আফরিন রাইসা, বাংলাদেশ বসবাস করছে। তার পরিবারে বাবা, মা ও এক ভাই আছে। রাইসার মা ফারজানা ইয়াসমিন। রাইসার বয়স পাঁচ বছর। গ্লোরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ -এ নার্সারিতে পড়ে। রাইসার মা জানান, চার বছর বয়স থেকে রাইসা ছবি আঁকা শুরু করেছে। শ্রমিক দিবস নিয়ে তার অঙ্কনটি বয়স অনুপাতে দুর্দান্ত ভাবনার প্রতিফলন। ছবিতে দেখা যায় দুটো শিশুর একজন মাথায় বাঁশের টুকরি এবং আরেকজন হাতে হাতুরি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই ছবিটি নিয়ে ছোট্ট রাইসা জানায়, 'ছোট ছোট বাচ্চারা কাজ করছে টাকা রোজগারের জন্য। এজন্য এঁকেছি।' পাঁচ বছর বয়সের একটি শিশুর ভাবনা, অবাক করার মতো। সে এ বয়সেই শ্রম ও শ্রমিকদের জানতে শুরু করেছে। রাইসার মা বলেন, 'আমি অবাক হয়েছি মেয়ের ভাবনার প্রসার জেনে।'
.jpeg)
শ্রমিক দিবসের আরো একটি ছবি এঁকেছে ছয় বছর বয়সী আওসাফ যাইন। সে ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। বাবা আসাদ রাসেল এবং মা জিনাত রেহানা। যাইন চার বছর বয়স থেকে ছবি আঁকে। তার আঁকা ছবি ও গল্প একধিক জাতীয় পত্রিকায় ছাপা হয়েছে ইতোমধ্যে। ছবিটিতে আমরা দেখতে পাই, নীল ও সবুজ রঙের গোলাকার পৃথিবীর উপরিভাগের চারপাশে নানা ধরনের যন্ত্রপাতি-হাতুড়ি, অপেন এন্ডেড স্প্যানার, করাত, ব্রাশ, শাবল। সবুজ ও নীল-রঙ দুটো জীবনের ভালো মন্দ, সুখ-দুঃখ, লড়াই-স্বাচ্ছন্দ কিংবা সফলতা-ব্যর্থতার প্রতীক হতে পারে। যন্ত্রপাতিগুলোতেও রয়েছে লাল, কমলা, হলুদ, ছাই ও কালো রঙ যা শক্তির প্রতীক। ছবিটি নিয়ে যাইন বলে, 'কুলি, মজুর,কামার , কুমার সহ নানা শ্রমিকরাই আমাদেরকে নানাভাবে সহায়তা করেন। ছবিতে আমি সেটাই তুলে ধরতে চেয়েছি।'
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন