https://www.prothomalony.com/
9351
north-america
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪ ১১:৩৪
প্রতি বছরের মত এ বছরও কোয়ান্টাম মেডিটেশন সোসাইটি, ইউএসএ, বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে আয়োজন করে একটি ব্যাতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান “বর্ষবরণ ও ভর্তা উৎসব ১৪৩১"। ঈদের আনন্দের মাঝেই এসেছে আরেক আনন্দ নববর্ষ। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল "নিজেকে ভালো ভাবুন, দেশকে বড় ভাবুন"। সঞ্চালনায় ছিলেন কোয়ান্টাম মেডিটেশন সোসাইটি, ইউএসএ এর প্রেসিডেন্ট; ব্যাক ইন মোশন লিমিটেড: আমেরিকান হেলথ এন্ড ওয়েলনেস সেন্টার, ঢাকা এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং চিফ মেডিকেল কনসালট্যান্ট ডাঃ মোঃ আবদুল্লাহ ইউসুফ।
অনুষ্ঠানটি শুরু হয় একটি অসাধারণ মেডিটেশন "ভালো দেশভাবনা" দিয়ে। এর পর ভালো দেশ ভাবনা বিষয় সামনে রেখে মূল আলোচনা করেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও কোয়ান্টাম মেথড এর উদ্ভাবক শহীদ আল বোখারী।আলোচনায় তিনি বলেন, আসলে ঈদ এবং নববর্ষ দুই আনন্দ একসাথে যুগলবন্দি হয়ে আসায় আমরা পরম করুণাময়ের কাছে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আসলে সামাজিক ও অতিথিপরায়ণ জাতি হওয়ায় উৎসব-পার্বনে ছেলে বুড়ো নির্বিশেষে অনাবিল আনন্দে মিশে যাওয়া আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য। আমাদের হৃদয়ভরা এত টান স্বজনের প্রতি বন্ধুর প্রতি আত্মীয়ের প্রতি। আর এই হৃদয়ভরা টানের কারণে বাঙালি পৃথিবীর সবচেয়ে অসাম্প্রদায়িক জাতি।
কোয়ান্টাম ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে আমাদের চিরায়ত এই অসাম্প্রদায়িক চেতনাকেই লালন করে এসছে। বান্দরবান লামার কোয়ান্টামমে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে সকল ধর্মের সকল বর্ণের ২২ জাতিগোষ্ঠীর ২৮শ শিক্ষার্থী একসাথে পড়ালেখা করছে। একসাথে খাওয়াদাওয়া করছে। খেলাধুলা করছে। আবার যে যার ধর্ম পালন করছে। আত্মপ্রত্যয়ী দেশপ্রেমিক অসাম্প্রদায়িক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছে। ১৬ লক্ষ ব্যাগ রক্ত, রক্ত উপাদান সরবরাহ থেকে শুরু করে মাতৃমঙ্গল চিকিৎসাসেবাসহ প্রতিটি সেবাই কোয়ান্টামে দেয়া হচ্ছে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে। শুধু ধ্যান ও আত্মউন্নয়নমূলক কার্যক্রমই নয় রমজানের আখেরি দোয়ায়ও অংশ নেন ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষ।
২০১৩ সালে আমরা ভাবলাম যে না ইলিশের প্রাচুর্য আনতে হবে এবং প্রাচুর্য আনতে হলে বৈশাখে ইলিশ বর্জন করতে হবে।কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের আহ্বানে হাজার হাজার সদস্য বৈশাখে ইলিশ বর্জন করল। পান্তার সাথে আস্ত তেলাপিয়া ভাজা যোগ করে পান্তা ইলিশের পরিবর্তে পান্তাপিয়া নামে নতুন মেনু তৈরি করল। উদ্দেশ্য একটাই- নির্বিচারে ইলিশ নিধন বন্ধ করে ইলিশের জোয়ার সৃষ্টি করা। আমরা সেইদিন বলেছিলাম শুধু পহেলা বৈশাখে ইলিশ খাওয়া বন্ধ করলে পাঁচ বছরে ইলিশের আকার বড় হবে ওজন বাড়বে সংখ্যা বাড়বে স্বাদ বাড়বে। আস্তে আস্তে সচেতন বিশিষ্টজনরা ও মিডিয়া বৈশাখে ইলিশ বর্জনের গুরুত্ব অনুভব করলেন। তারা এই ব্যাপারে সোচ্চার হতে শুরু করলেন। ২০১৬ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পহেলা বৈশাখের মেনু থেকে ইলিশ বাদ দিলেন। ২০১৭ সালে তিনি শুধু নিজে নন, সরকারি পর্যায়ে বৈশাখে ইলিশ বর্জনের নির্দেশ দিলেন। পান্তা-ইলিশ আস্তে আস্তে তার জৌলুশ হারিয়ে ফেলল। এক সর্বনাশা রাহুগ্রাস থেকে ইলিশ মাছ মুক্তি লাভ করল। বাংলাদেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান এখন এক শতাংশ। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান ১২ শতাংশ।

তাই আসুন, এবার বৈশাখে আমাদের দেশ নিয়ে ইতিবাচক ভাবনার সামাজিকায়ন ঘটাই। আমাদের দেশ এখন লক্ষ-কোটিপতির দেশ। আমাদের সম্পদের কোনো অভাব নাই অভাব শুধু ভালো মানুষের। আসুন, আমরা আমাদের ভাবনাকে বড় করি। সবাই মিলে এই শুভক্ষণে একসাথে ভাবি, ভালো মানুষ ভালো দেশ, স্বর্গ ভূমি বাংলাদেশ।দেশকে দেশের মানুষকে দেশের সমাজকে কোন মানবিকতায় কোন উচ্চতায় কোন দক্ষতায় কোন প্রাচুর্যে আমরা নিতে চাই সেই ইতিবাচক ভাবনাকে জোরদার করি। সেই ইতিবাচক ভাবনার মধ্যে আমরা ডুবে যাই। আমরা পৃথিবীর নেতৃত্বস্থানীয় জাতি হিসেবে নিজেদের ভাবি। দেশ নিয়ে আমরা বড় কিছু ভাবি, ভালো ভাবি ইতিবাচক ভাবি। আমাদের দেশ ইনশাআল্লাহ স্বর্গভূমিতেই রূপান্তরিত হবে। সবসময় ভালো ভাবুন। ভালোর সাথে থাকুন। এই প্রত্যাশা রেখে তিনি আলোচনা সমাপ্ত করেন।
আলোচনা শেষে শুরু হয় মনোমুগ্ধকর সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পরিবেশন করা হয় গান, কবিতা ও হাসি-আনন্দের গল্প। অংশগ্রহণকারীরাও শেয়ার করেন তাদের নিজেদের ভাবনা ও আনন্দের অনুভূতি গুলি। এই প্রাণবন্ত এবং আনন্দময় অনুষ্ঠানটি অনলাইনে লাইভ স্ট্রিমিং এর মাধ্যমে সরাসরি উপভোগ করেন আমেরিকার বিভিন্ন স্টেট ও কানাডার বিভিন্ন প্রভিন্স এ বসবাসকারী বাংলাদেশীরা। আর কোয়ান্টাম মেডিটেশন সোসাইটি, ইউএসএ-এর জ্যামাইকা অফিসে হলভর্তি মানুষের সমাবেশ হয়। সবশেষে, ভাত, নানা রকম ভর্তা, পিঠা, পায়েস এবং সেমাই দিয়ে সবাইকে আপ্যায়নের মাধ্যমে এই আনন্দময় আয়োজনের সমাপ্তি হয়।
কোয়ান্টাম মেডিটেশন সোসাইটি ইউএসএ প্রতি রবিবার আয়োজন করে উন্মুক্ত প্রোগ্রাম ‘সাদাকায়ন’ সুখী ও প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরপুর সুস্থ মানুষের সবটুকু প্রয়োজন পূরণের প্রক্রিয়াই রয়েছে কোয়ান্টামে। এখানে রয়েছে মনোযোগ, সচেতনতা, সাফল্য, সুস্বাস্থ্য, ও প্রশান্তি বাড়ানোর বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া - মেডিটেশন। আরো রয়েছে অসুস্থ ও সমস্যা পীড়িতদের জন্যে হিলিং এবং ফ্রি কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা। কোয়ান্টামই আধুনিক মানুষের জীবনযাপনের বিজ্ঞান যা উপহার দিয়েছে টোটাল ফিটনেস। নিয়মিত মেডিটেশন করুন, আসুন কোয়ান্টামের সকল উন্মুক্ত প্রোগ্রামে। স্থানঃ কোয়ান্টাম লার্নিং সেন্টার হল ৮৬-৪৭ ১৬৪ স্ট্রিট, জ্যামাইকা, নিউইয়র্ক ( ফোন: ৫১৬ ৭৬১ ১৬১৪)। ফাউন্ডেশনের শাখা কার্যক্রম রয়েছে আপনারই অপেক্ষায়!
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন