https://www.prothomalony.com/
9335
opinion
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বলেছেন- “মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।”
পৃথিবীতে খুব কম জাতিরই নিজস্ব নববর্ষ আছে- বাঙালিরা সেই ঐতিহ্যবাহী গর্বিত জাতি যাদের নিজস্ব নববর্ষ, নিজস্ব ভাষা, নিজস্ব শক্তিশালী বর্ণমালা, নিজস্ব ষড়ঋতু, নিজস্ব উঁচুমানের সংস্কৃতি রয়েছে- এবং সারা বিশ্বে একমাত্র বাঙালিরাই তাদের নিজস্ব ষড়ঋতুকে আলাদা আলাদা করে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেয়। বাংলাদেশ তথা বাংলা ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও ছয় ঋতু নেই- এটাই বাঙালির গর্ব করার মত বিচিত্র বৈশিষ্ট্য। অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক উৎসবে এবং অপার আনন্দের সাথে বাঙালি এর মধ্যে খুঁজে পেয়েছে তার প্রকৃত পরিচয়।
পহেলা বৈশাখ। শুভ নববর্ষ। বৈশাখের উৎসব সার্বজনীন। এটা বাঙালির উৎসব। বর্ষ বরণের উৎসব প্রতিটি দেশেই আছে। ১৯৫২ সালের ১লা বৈশাখে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় কিশোর কিশোরীদের বাংলা নববর্ষ জানাতে লিখেছিল: “ আজ ১ লা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের সূচনা হল আজ। এই নূতন দিনটিতে প্রাণভরা শুভেচ্ছা জানাচ্ছি তোমাদের। বাংলা তারিখ গণনাকে আমরা অনেকেই প্রায় ভূলে যেতে বসেছিলাম। ইংরাজের অধীনে থেকে থেকে ইংরাজী আদব কায়দা রফত করার সাথে সাথে আরো অনেক কারণে বাধ্য হয়েই ইংরাজী সনকে আমরা দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করতে অভ্যস্ত হয়েছিলাম। বাংলা সন মাস কালের অনুসন্ধান গ্রাম্য পন্ডিতদের পাঁজি পুথির ভেতরেই প্রায় সীমাবদ্ধ হতে চলেছিল। কিন্তু এই বাংলা মাস ও সালের পেছনে আমাদের যে অন্তরের যোগ, তা কিছুতেই মুছে যাবার নয়।… আমাদের মনের মাঝে উকি দেয় বাংলা মাসগুলোর আগমনবার্তা। কিন্তু নতুন বছর কেবল এই দিক দিয়েই নতুন নয়। বাংলা ইংরাজী যে কোনো মাসই হোক না কেন, তার প্রথম দিনটিতে আমাদের মনপ্রাণ ভরে দেয় নতুন উৎসাহ, নতুন উদ্দীপনা।” ( দৈনিক আজাদ ১৪ এপ্রিল ১৯৫২)
বাংলাদেশের মানুষ উৎসব প্রিয়। নানান রকমের উৎসব আমাদের জাতীয় জীবনে জড়িয়ে আছে। তেমনি বাংলা নববর্ষ আমাদের আর্থ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের দাবীদার। বাংলাদেশের কৃষি নির্ভর আর্থ সামাজিক কাঠামোর সাথে বাংলা দিনপঞ্জীর সম্পর্ক গভীর। এখনো এদেশের কৃষকরা বাংলা তারিখের হিসেবেই বীজ বোনে, ফসল কাটে। বাংলা সনের প্রবর্তন কবে হয়েছিল, কে তার প্রবর্তক তা নিয়ে নানান বিতর্ক রয়েছে। তবে বাংলা সন সৃষ্টির পেছনে দুইজন মুসলমান শাসকের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এদের একজন সুলতান হোসেন শাহ ও অন্যজন মোগল সম্রাট আকবর। তবে অধিকাংশের মতামত হলো মোগল সম্রাট আকবরই বাংলা সনের প্রধান প্রবর্তক।
পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথম এই দিনকে উৎসবে আনন্দে বরণ করে নেয় বাঙালি। এটি বাঙালির একটি সর্বজনীন লোকউৎসব। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদ্যাপিত হয় নববর্ষ। পহেলা বৈশাখ নিয়ে কবি সাহিত্যিকদের আগ্রহের কমতি নেই। তাইতো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন,‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর,তোর সব জয়ধ্বনি কর ওই নূতনের কেতন ওড়ে, কালবৈশাখী ঝড় তোর সব জয়ধ্বনি কর’।বাঙালির নববর্ষ এক অনন্য বৈশিষ্ট্যময় উৎসব। কেননা পৃথিবীতে প্রচলিত অধিকাংশ বর্ষপঞ্জির উৎপত্তি কোনো না কোনো ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু বাংলা নববর্ষের সঙ্গে ধর্মীয় অনুষঙ্গ নেই। মূলত কৃষিকাজ ও খাজনা সংগ্রহের ব্যবস্থাকে ঘিরে এর প্রচলন। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় ব্যবসা-বাণিজ্যের দেনা-পাওনার হিসাব মেটানো। দিনে-দিনে পয়লা বৈশাখ হয়ে ওঠে এক সর্বজনীন সাংস্কৃতিক আনন্দ-উৎসব।ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে বাংলা ভূখণ্ডের সব মানুষের প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ।
বাঙালির এ উৎসবে অসাম্প্রদায়িক দিকটি ফুটে ওঠে। বাঙালির মধ্যে প্রাণ-সঞ্চারিত হয়। বেশ কিছু নতুন বিষয় সংযুক্ত হয় পহেলা বৈশাখকে ঘিরে। সাহিত্যেও প্রভাব রয়েছে বৈশাখের রুদ্ররূপ ও বিভিন্ন উৎসব নিয়ে। রবীন্দ্রনাথ-নজরুল থেকে হালের কবি-সাহিত্যিকগণ বৈশাখ নিয়ে কবিতা-সাহিত্য রচনা করছেন।বাঙালি ‘হালখাতা’ নামে ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন করে হিসাব শুরু করে। বাংলা নববর্ষে বেচাকেনায় ছাড় দেওয়ার সংস্কৃতি আছে। বাঙালির এ উৎসব অসাধারণ বৈশিষ্ট্যময়। বাংলা নববর্ষের এই ঐতিহ্য মাটি ও মানুষের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এখানে কোনো জাতিভেদ ও ধর্মভেদ নেই। শহর-গ্রামে তরুণ-তরুণীসহ সবাই উৎসবে মেতে ওঠেন। পাশাপাশি প্রবাসেও এই উৎসব উদঢ়াপনে বাঙালিদের মাঝে প্রানের সঞ্চার করে। সূর্য উঠার সাথে সাথে রবীন্দ্রনাথের গানটি ' এসো হে বৈশাখ ' গেয়ে ওঠে নূতন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় নজরুল বলেছেন, ধ্বংস আর যুদ্ধ থেকেই নতুনের সৃষ্টি হয়! তেমনই বাংলা নববর্ষের কালবৈশাখী ঝড় বা রুদ্র রূপ থেকেই অনুপ্রেরণা পায় বাঙালি। বাংলাদেশে আমাদের অস্তিত্ব ‘স্বাধীনতা অর্জন’। আর নয় মাসের যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এতে রক্ত ও সম্পদ বিসর্জন দিতে হয়েছে। স্বাধীনতার প্রথম মাসেই এসেছিল পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ। তাই তো কবি সমুদ্র গুপ্তের ‘বৈশাখ: একাত্তরে’ কবিতায় স্মৃতিচারণ পাই; মুক্তিযুদ্ধের আবেগ ও ব্যঞ্জনা, যুদ্ধাবস্থার কথা জানতে পারি।পহেলা বৈশাখ উৎসব শুরুর দিক ছিল মূলত গ্রামাঞ্চল। গ্রামীণ-মেলা, লোকজ খেলাধুলা ও নৃত্য-সংগীত ছিল প্রধান আকর্ষণ। দিনে-দিনে তা শহরাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। বাঙালির আদি সাংস্কৃতিক পরিচয় বহনকারী এ অসাম্প্রদায়িক উৎসব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে আমাদের বিশেষ প্রেরণা জুগিয়েছে। এ ভূখণ্ডের বাঙালির ঐক্যবদ্ধ করেছে এ সাংস্কৃতিক-উৎসব ও চেতনা। বাংলা নববর্ষ এ দেশের প্রাচীনতম ঐতিহ্য। পহেলা বৈশাখের উৎসবের মধ্যদিয়ে এ দেশের মানুষ এ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে। বৈশাখী মেলায় সম্প্রদায় নির্বিশেষে মানুষের আনাগোনা। মৈত্রী-সম্প্রীতির এক উদার মিলনক্ষেত্র। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর সবাই আসে মেলায়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিকিকিনির আশা আর বিনোদনের টান। কৃষিক্ষেত্রেও বৈশাখ মাসের গুরুত্ব অনেক। বৃক্ষের ক্ষেত্রেও নব উদ্যমে নতুন জীবন শুরু হয়- নতুন পাতা গজিয়ে।
কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে। পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে। এসময় ঢাকায় নাগরিক পর্যায়ে ছায়ানটের উদ্যোগে সীমিত আকারে বর্ষবরণ শুরু হয়। আমাদের মহান স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে এই উৎসব নাগরিক জীবনে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। পয়লা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক এবং গণতান্ত্রিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটতে থাকে। কালক্রমে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান এখন শুধু আনন্দ-উল্লাসের উৎসব নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির একটি শক্তিশালী ধারক-বাহক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শুধু তাই নয় , উৎসবের পাশাপাশি স্বৈরাচার-অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। যা ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়।
বাংলা নববর্ষ বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় উৎসব আনন্দে মেতে ওঠার দিন। আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড় গণমুখী উৎসব। নববর্ষ সেজন্যই আমাদের আর্থসামাজিক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় বাঙালির ঐতিহ্যের অহংকার। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেকেও খ্রিস্টীয় সালের দিনক্ষণ মেনে চলতে হয়। তবুও বাঙালির ঐতিহ্যের শিকড়ে প্রোথিত বাংলা নববর্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। মহিমায় উজ্জ্বল। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বাংলা নববর্ষই দেশের সর্বজনীন বড় উৎসব।
কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও ই-মেইলের আধুনিক এ যুগে এখনও দেশের ব্যবসায়ী সমাজ আড়ম্বরে শুভ হালখাতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। যাতে শুধু বর্ষ পরিক্রমার ইতিহাস নয়, বাঙালি জাতির স্বতন্ত্র বাংলা ভাষা সংস্কৃতি এবং আবহমান ঐতিহ্যের সঙ্গে অবিচ্ছিন্নভাবে সম্পৃক্ত এই দিনে আমাদের দেশের মানুষ পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার বন্ধনকে আরও গাঢ় করে তোলে। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির দোর্দণ্ড প্রতাপের মধ্যেও বাঙালির হৃদয়ের গভীরে সে চিত্রটি প্রতিনিয়ত দোলা দেয়, সেটি পয়লা বৈশাখ, একান্ত আপন ঠিকানা।
আবহমান কাল বাঙালির নববর্ষের উৎসব পূর্বসূরির জীবনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। নগরবাসীর জীবনে নববর্ষ দীর্ঘ কালব্যাপী ছিল উপেক্ষিত। এখানে আমাদের নাগরিক জীবনের কাজকর্ম, দেনাপাওনা ব্যবসা-বাণিজ্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত খ্রিস্টীয় সন তারিখ ধরে চলে।
বাঙালিয়ানার প্রতি আমাদের আন্তরিক আনুগত্যের কারণেই বাংলা নববর্ষ আমাদের প্রত্যেকের মনে ঐতিহ্য চেতনার রঙিন আলো ছড়িয়ে দিয়েছে। এই রূপান্তরের অর্থ পল্লিবাসীগণ নগরবাসীর জীবন যাপনের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে। বাংলা নববর্ষ আমাদের ঐতিহ্য-সংস্কৃতির নব আনন্দধারা যা নগরবাসীর চিত্তকেও আজ অনুরণিত করে।
নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নববর্ষের একাল সেকালের হিসেব কষলে দেখা যায় নববর্ষের সঙ্গে জড়িত হয়েছিল নানা আনুষাঙ্গিক বিষয়। এর কিছু লুপ্ত হয়ে গেছে কিছু আবার বিশেষ কিছু অঞ্চলে প্রচলিত রয়েছে। হালখাতা এখনও অটুট। কিন্তু প্রায় লুপ্ত হয়ে গেছে এমন একটি অনুষ্ঠান পুণ্যাহ। এর উদ্ভব কবে সে সম্পর্কে জোড়ালো তেমন কিছু জানা যায় না। কিন্তু চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বিলুপ্তির পূর্ব পর্যন্ত তা বলবৎ ছিল। পুণ্যাহ যুক্ত ছিল নববর্ষের সঙ্গে। ওই দিন প্রজারা ভালো পোশাক পরে জমিদারের কাছারিতে যেতেন খাজনা কিংবা নজরানা দিতে। যেন পুণ্য কাজ করতে যাচ্ছেন। বলা যায় পুণ্য থেকে পুণ্যাহ।
আসলে আমাদের দেশের নববর্ষের মেলাগুলো ও প্রাচীন আর্তিব (ঋতুধর্মী) উৎসব ও কৃষ্যৎসব প্রভৃতির বিবর্তিত রূপ ব্যতীত আর কিছুই নয়। কারণ এগুলোতে এখন পর্যন্ত স্থানীয় কৃষি ও শিল্পজাত দ্রব্যাদির বেচাকেনা হয়। বাংলা নববর্ষ এখন আমাদের প্রধান জাতীয় উৎসব। ক্রমেই এ উৎসব বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে বিশাল থেকে বিশালতর হয়ে উঠছে।
বাঙালি সংস্কৃতির অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আরো পরিস্কার হওয়া উচিত। কেননা এটা বাঙালি সংস্কৃতির একটি গৌরবোজ্জ্বল দিক। আজকের এই পহেলা বৈশাখে, আধুনিক প্রযুক্তিময় বিশ্বের প্রেক্ষাপটে আমাদের সংস্কৃতিকে আরও উর্ধ্বে তোলা ধরার চেষ্টা করা উচিত। দেশজ সংস্কৃতি যদি প্রাণ ফিরে পায় তাহলেই প্রকৃত বাংলাদেশকে আমরা বিশ্বে তুলে ধরতে পারবো।
অভিমত থেকে আরো পড়ুন