https://www.prothomalony.com/

9222

north-america

উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে সোমবার পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, দিন হবে রাতের মতো

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৪ ১০:৩০

এক পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে উত্তর আমেরিকার বাসিন্দারা। সোমবার (৮ এপ্রিল) চাঁদ, সূর্যের মুখকে অবরুদ্ধ করার সাথে সাথে দিনের আলো নিভে গিয়ে ক্ষণিকের জন্য রাতের দৃশ্য উপভোগের এক বিরল সুযোগ পাওয়া যাবে। মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি রাজ্য এবং পূর্ব কানাডার একটি ছোট অংশজুড়ে এই গ্রহণ দেখা যাবে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য রাজ্যের বাসিন্দারা একটি আংশিক সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হবে। যেখানে চাঁদ সূর্যের কিছু অংশকে গ্রাস করবে।

সূর্যগ্রহণ কি?

চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ পথে কখনও কখনও চাঁদ এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। তখন তারা থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যগ্রহণ ঘটে। অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। সূর্যগ্রহণ হয় তিন ধরনের। আর এই ধরনগুলো নির্ভর করে চাঁদ সূর্যকে কতটা ঢেকে ফেলেছে তার ওপর।

একটি সম্পূর্ণ চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ পথে কখনও কখনও চাঁদ এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। তখন তারা থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যগ্রহণ ঘটে। অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে।

সূর্যগ্রহণ হয় তিন ধরনের। আর এই ধরনগুলো নির্ভর করে চাঁদ সূর্যকে কতটা ঢেকে ফেলেছে তার ওপর।হল যখন চাঁদ সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে আবৃত করে, যেখানে একটি আংশিক সূর্যগ্রহণ মানে এটি সূর্যের মুখের একটি অংশকে অবরুদ্ধ করে। সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ ঘটে যখন সূর্য, পৃথিবী এবং চাঁদ এমন অবস্থানে আসে যখন চাঁদ সূর্যের আলোকে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেয়। তখন কয়েক সেকেন্ডের জন্য (কখনও কখনও এমনকি কয়েক মিনিটের জন্যও) আকাশ এতই অন্ধকার হয়ে যায় যে মনে হয় সেটা রাতের আকাশ।

নাসার কথায়, ‘মহাজাগতিক একটা সমন্বয় ঘটলে একমাত্র সূর্যের পূর্ণ গ্রহণ সম্ভব হয়’ : সূর্য চাঁদের তুলনায় ৪০০ গুণ চওড়া এবং চাঁদ পৃথিবী থেকে যত দূরে, সূর্য তার চেয়ে আরও ৪০০ গুণ বেশি দূরে। এই ভৌগলিক অবস্থানের অর্থ হল, চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী যখন একই লাইনে একেবারে সঠিক জায়গায় এসে পৌঁছয়, তখন সূর্য পুরোপুরি ঢেকে যায় এবং সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ হয়।

পৃথিবী পৃষ্ঠে যে লাইন বরাবর চাঁদের ছায়া পড়ে তাকে বলা হয় "পূর্ণ গ্রাসের পথ"। আর এই ছোট পথের মধ্যেই পুরো অন্ধকার নেমে আসার চোখ ধাঁধানো প্রক্রিয়াটি দেখা যায়। যে অংশে আলোক উৎস পুরো ঢেকে যায়, ছায়ার সেই ঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশের লাতিন ভাষায় বলে 'আমব্রা'।

এই পথের দুপাশে কয়েক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত গ্রহণ দেখা যায় আংশিকভাবে। পুরো অন্ধকারে ঢেকে যাবার এই পথ থেকে পৃথিবীতে আপনার অবস্থান যত দূরে হবে, তত আপনি দেখবেন সূর্যের অপেক্ষাকৃত ছোট অংশ চাঁদে ঢাকা পড়েছে। আর গ্রহণ কতক্ষণ থাকবে সেটা নির্ভর করে, সূর্য থেকে পৃথিবীর অবস্থান, পৃথিবী থেকে চাঁদের অবস্থান আর পৃথিবীর কোন্ অংশ অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে তার ওপর।

আমরা অনেক সময় ভাবি সূর্যগ্রহণ বেশ বিরল একটা প্রক্রিয়া। তা কিন্তু নয়। প্রতি প্রায় ১৮ মাস অন্তর সূর্যগ্রহণ হয়। যেটা আসলে খুবই বিরল সেটা হল একই স্থান থেকে সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ দেখতে পাওয়া। ঠিক একই জায়গা থেকে সূর্যের পূর্ণ গ্রহণ দেখা যায় গড় হিসাবে প্রতি ৩৭৫ বছরে একবার।

কোথায় এবং কখন সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে?



গ্রহণকৃত সূর্য দেখার একটি সহজ এবং নিরাপদ উপায়। ছবি: নাসা

এবারের সূর্যগ্রহণটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনবহুল অঞ্চল ছাড়াও আরও কিছু পথ অতিক্রম করবে। নাসা অনুমান করে যে ৩১.৬ মিলিয়ন মানুষ সূর্যগ্রহণের পথে বসবাস করে। এছাড়া আরও ১৫০ মিলিয়ন মানুষ সূর্যগ্রহণের পথের ২০০ মাইললের মধ্যে বসবাস করছে। যারা আংশিক সূর্য গ্রহণের সাক্ষী হবে।

গ্রহনটি টেক্সাস, ওকলাহোমা, আরকানসাস, মিসৌরি, ইলিনয়, কেনটাকি, ইন্ডিয়ানা, ওহাইও, পেনসিলভেনিয়া, নিউইয়র্ক, ভার্মন্ট, নিউ হ্যাম্পশায়ার এবং মেইনের মধ্য দিয়ে যাবে। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে মিশিগান এবং টেনেসির কিছু অংশ থেকে পূর্ণ  সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। গ্রহনটি কানাডায় অতিক্রম করার পরে, এটি নোভা স্কটিয়ার পূর্ব প্রান্তে দক্ষিণ অন্টারিও, ক্যুবেক, নিউ ব্রান্সউইক, প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ড এবং কেপ ব্রেটনের উপর দিয়ে যাবে।

আর যারা এই পথের বাইরে রয়েছে তারা আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখতে পাবে। আর এই গ্রহনের সময় স্থান অনুযায়ী ভিন্ন হবে। যদিও নাসা বলছে কিছু কিছু স্থানে চাঁদ ৪ মিনিট ২৮ সেকেন্ড পর্যন্ত সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে রাখতে পাবে।

কিছু স্থানের সূর্যগ্রহণের সময়

ডালাস: আংশিক গ্রহণ শুরু হয় দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে। পূর্ণ সূর্যগ্রহণ: ১টা ৫১ মিনিটে।
লিটল রক, আর্কানসাস: আংশিক গ্রহণ শুরু হবে ১২টা ৩৩ মিনিটে এবং পূর্ণ সূর্যগ্রহণ: ১টা ৫১ মিনিটে।
ক্লিভল্যান্ড: আংশিক গ্রহণ শুরু হয় দুপুর ১টা ৫৯ মিনিটে এবং পূর্ণ সূর্যগ্রহণ: ৩টা ১৩ মিনিটে।
বাফেলো, নিউইয়র্ক: আংশিক গ্রহণ শুরু হয় ২:০৪ মিনিটে। এবং পূর্ণ সূর্যগ্রহণ: ৩টা ১৮ মিনিটে।
ল্যাংকাস্টার, নিউ হ্যাম্পশায়ার: আংশিক গ্রহণ শুরু হয় দুপুর ২ টা ১৬ মিনিটে এবং পূর্ণ সূর্যগ্রহণ: ৩টা ২৭ মিনিটে।

নিরাপদে সূর্যগ্রহণ দেখার উপায়

অনেকেই হয়তো জানেন, খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখা চোখের জন্য ক্ষতিকর। তবে এটি কি সত্যিই নাকি প্রচলিত কল্পকথা? এটি শুধু একটি মিথ নয় বরং এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণও আছে। বিশেষ করে আপনি যদি খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখার চেষ্টা করেন তাহলে চোখের রেটিনার ক্ষতি হতে পারে, বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা। খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখলে সৌর রেটিনোপ্যাথি হতে পারে। আলোর এই এক্সপোজার রেটিনার (চোখের পেছনে) কোষগুলোর ক্ষতি করতে পারে বা এমনকি ধ্বংস করে দিতে পারে।

চশমা: খালি চোখে কখনোই সূর্যগ্রহণের সময় আকাশে তাকানো উচিত নয়। এতে শুধুমাত্র চোখের ক্ষতি নয় বরং ঘটতে পারে অন্ধত্বের মতো ঘটনা। তাই যারা সূর্যগ্রহণ দেখতে চান তাদের জন্য উপায়ও আবিষ্কৃত হয়েছে। গ্রহণ দেখার জন্য বিশেষ এক ধরণের চশমা পাওয়া যায় বাজারে। সেই চশমা পরে আকাশের দিকে তাকালে অনেকটাই নিরাপদ থাকবে আপনার চোখ। কারণ বেশিরভাগ সূর্যরশ্মিই ওই চশমা ভেদ করে চোখে প্রবেশ করতে পারে না।

তবে গ্রহণের চশমার পরিবর্তে সাধারণ কোনো সানগ্লাস ব্যবহার করলে তা যে আপনাকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে এমন ধারণা করাটা ভুল। কারণ সাধারণ সানগ্লাস পরে সূর্যের দিকে তাকালে তা চোখ নষ্টের কারণ হতে পারে। তাই অবশ্যই বিশেষ ওই সানগ্লাস ব্যবহার করুন।

পিনহোল প্রোজেক্টর: সূর্যগ্রহণ দেখার অন্য আরেকটি নিরাপদ উপায় হচ্ছে পিনহোল প্রোজেক্টর। দুইটি কাগজ গিয়ে এই প্রোজেক্টর বানিয়ে নিতে পারেন আপনি। এই প্রোজেক্টর বানাতে হলে প্রথমে একটি কাগজের মাঝে ছিদ্র করতে হবে। এরপর সেটি ধরতে হবে দ্বিতীয় কাগজটির উপরে। মূলত দ্বিতীয় কাগজটিতেই সূর্য দেখবেন আপনি। প্রথমটির ছিদ্র দিয়ে গ্রহণ দেখা যাবে দ্বিতীয় কাগজটির উপরে। ছবিটি বড় আকারে দেখতে চাইলে ছিদ্রযুক্ত কাগজটি সরিয়ে নিতে হবে স্ক্রিন হিসেবে ব্যবহৃত কাগজ থেকে দূরে।

সোলার ফিল্টার: সূর্য গ্রহণের ছবি সাধারণ ছবির মতো করে তুলতে চাইলে তা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে আপনার ক্যামেরাকে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, সূর্যগ্রহণের ছবি তোলার পূর্বে আপনার ক্যামেরায় সোলার ফিল্টার ব্যবহার করুন।

পরবর্তী সূর্যগ্রহণ যখন

পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ২০২৬ সালে হবে। তবে এটি বেশিরভাগই আর্কটিক মহাসাগরের উপর দিয়ে যাবে। গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, পর্তুগাল এবং উত্তর স্পেনে কিছু স্থানে দৃশ্যমান হবে। এরপর ২০২৭ সালে পুরো সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে স্পেনে এবং উত্তর আফ্রিকার একটি অংশে।

উত্তর আমেরিকা থেকে দৃশ্যমান পরবর্তী মোট সূর্যগ্রহণ ২০৩৩ সালে হবে, তবে শুধুমাত্র আলাস্কা জুড়ে। তারপর ২০৪৪ সালে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ মন্টানা, নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা, কানাডার কিছু অংশ এবং গ্রিনল্যান্ড অতিক্রম করবে।

পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণটি ২০৪৫ সালে ঘটবে৷ সেই গ্রহণের সম্পূর্ণতার পথটি ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাদা, উটাহ, কলোরাডো, নিউ মেক্সিকো, ওকলাহোমা, কানসাস, টেক্সাস, আরকানসাস, মিসৌরি, মিসিসিপি, লুইসিয়ানা, আলাবামা, জর্জিয়া এবং ফ্লোরিডা। আর নিউইয়র্কে এই দৃশ্য দেখা যাবে ২০৭৯ সালে।

পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখতে প্রস্তুত নিউইয়র্কবাসী,  বিনামূল্যে মিলছে চশমা।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দাদের মতো নিউইয়র্কবাসীও প্রস্তুত হয়েছে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখতে। নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যেগুলোর মধ্যে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথে থাকা একটি। রাজ্যের বেশ কয়েকটি অঞ্চল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সরাসরি পথে থাকবে। অন্যান্য অংশ আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখতে সক্ষম হবে। সিটির শিক্ষা বিভাগ শিক্ষার্থীদের এই অভিজ্ঞতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, পরবর্তীতে ২০৭৯ সালেই হবে নিউইয়র্কে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। তাই শিক্ষার্থীদের এটি দেখা উচিত এবং অভিজ্ঞতা লাভ করা উচিত।

এদিকে সূর্যগ্রহণ উপভোগ নিরাপদে করতে সকলকে সতর্ক করেছেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস। ইতিমধ্যে সিটির বিভিন্নস্থানে সূর্যগ্রহণ দেখার নিরাপদ গ্লাস দেওয়া হচ্ছে।  সেই সাথে সকলকে দিনটি উপভোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সিটি এরিক অ্যাডামস এক সংবাদ সম্মেলনে সময়  সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তিনি নিউইয়র্কবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘সরাসরি সূর্যের দিকে তাকাবেন না।’’ তিনি বলেন, মানুষ মনে করে খালি চোখে আপনি এর দিকে তাকাতে পারেন। তবে এটি ভুল খালি চোখে তাকানো চোখের জন্য ক্ষতিকর। আমি সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আপনার রেটিনায় কোন ব্যথা রিসেপ্টর নেই, তাই আপনি এটি ঘটছে বলে অনুভব করবেন না। সর্বোত্তম সমাধান হল এক জোড়া স্বীকৃত গ্রহণ চশমা পরা। নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক লাইব্রেরির শাখাগুলি শুক্রবার থেকে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে বিনামূল্যে চশমা দেওয়া শুরু করেছে৷

এছাড়াও আপনি ওয়ারবাই পার্কার লোকেশনে চশমা নিতে পারেন এবং নিউইয়র্ক স্টেট ওয়েলকাম সেন্টারে বিনামূল্যে আই লাভ এনওয়াই আইএসও-প্রত্যয়িত ইক্লিপস চশমা অফার করছে। নিউইয়র্ক সিটির ময়নিহান ট্রেন হল, এমটিএ লং আইল্যান্ড রেল রোডের টিকিট কাউন্টারে প্রতিদিন সকাল ৬টা ৩০ থেকে রাত ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে বিনামূল্যে গ্রহণ চশমা বিতরণ করা হচ্ছে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন