https://www.prothomalony.com/
8922
north-america
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৪ ০৯:১৩
নতুন নাগরিকত্ব আইন নিয়ে মার্কিন বিবৃতি অযৌক্তিক: ভারতে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ বা সিএএ নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের বিবৃতির কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। ১৫ মার্চ শুক্রবার ভারত এ প্রতিক্রিয়া জানায় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের বিবৃতিতে বলা হয়েছে আইনটি বাস্তবায়নের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন এবং মার্কিন প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, মার্কিন বিবৃতি ভুল, এমন ভুল তথ্য দেওয়া অযৌক্তিক। জয়সওয়াল বলেছেন, সিএএ নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার বিষয়ে নয়। এটি রাষ্ট্রহীনতার সমস্যাকে মোকাবিলা করে। এছাড়া এটি মানবিক মর্যাদা প্রদান করে এবং মানবাধিকারকে সমর্থন করে। ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএএ) ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর ভারতের সংসদে পাস হওয়া একটি আইন।
চলতি সপ্তাহে ভারতে নতুন আইন করার পর থেকে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। মুসলিম গোষ্ঠী, বিরোধী দল ও সমালোচকেরা বলেছেন, আইনটি বৈষম্যমূলক এবং দেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানকে দুর্বল করেছে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, মৌলিক গণতান্ত্রিক নীতির অংশ হিসেবে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সমানাধিকার বিবেচনায় আইনটির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন।
মার্কিন বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় ১৫ মার্চ শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘আমরা মনে করি, এটি ভুল ব্যাখ্যা, ভুল তথ্য এবং অযৌক্তিক। ভারতের বহুত্ববাদী ঐতিহ্য এবং দেশভাগের পরবর্তী ইতিহাস সম্পর্কে যাদের সীমিত ধারণা রয়েছে, তাদের এ বিষয়ে বক্তব্য না দেওয়াই ভালো।’
১৯৪৭ সালে ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতার সময় উপমহাদেশে দেশভাগ হয়। সংখ্যালঘুদের বিষয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই উল্লেক করে জয়সওয়াল বলেন, ‘দুর্দশাগ্রস্তদের সাহায্যার্থে করা কোনো প্রশংসনীয় উদ্যোগের সঙ্গে ভোট ব্যাংকের রাজনীতি না গুলানোই ভালো।’
১৯৪৭ সালে ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতার সময় উপমহাদেশে দেশভাগ হয়। সংখ্যালঘুদের বিষয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই উল্লেক করে জয়সওয়াল বলেন,‘দুর্দশাগ্রস্তদের সাহায্যার্থে করা কোনো প্রশংসনীয় উদ্যোগের সঙ্গে ভোট ব্যাংকের রাজনীতি না গুলানোই ভালো।’ ভারতের নতুন নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ভারতে পালিয়ে আসা নির্যাতিত হিন্দু, শিখ, পার্সি, বৌদ্ধ, জৈন ও খ্রিষ্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তবে মুসলমানদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ রাখা হয়নি।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নামে পরিচিত আইনের পক্ষ নিয়ে বলেছিল, ‘ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোতে বছরের পর বছর ধরে নিপীড়নের শিকার জাতি-গোষ্ঠীদের উপকার করবে এই আইন।’
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও জাতিসংঘ আইনটির বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারতে মে মাসের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন, এরই মধ্য সাম্প্রদায়িক এমন আইন পাস করল মোদি সরকার।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন