https://www.prothomalony.com/
8848
decoration
ঈদ কালেকশন নিয়ে শাটী, সামিনাজ, সিন্ডারেলা'স ড্রিম ক্লোজেট এবং সেরতাজ
রোজার মাস শুরু হয়েছে। আসন্ন ঈদ নিয়ে সবার ভাবনা সর্বত্র। ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদ মানে আকাশে নতুন চাঁদ, নতুন প্রত্যাশা, মেহেদি রাঙা হাত। নিজেকে এবং পরিবারের সবাইকে সাজাতে শুরু হয় কেনাকাটা। কাছের মানুষ আর প্রিয় মানুষকে উপহার পাঠাতে ইচ্ছে জাগে মনে। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে সময় ছকেবাঁধা। তাই কেনাকাটার কথা ভাবলেই মাথায় আসে 'অনলাইন নাকি অফলাইন?' কারণ কয়েক বছর আগেও প্রবাসে থেকে মানুষ তার পছন্দের দেশিয় শাড়ি, গয়না, পাঞ্জাবি তার শহরে পেতেন না। তখন অনলাইন ব্যবসা এতোটা উন্নত ছিল না। এখন হাজার সমস্যার মধ্যেও আমাদের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। মানুষ ধীরে ধীরে অনলাইন কেনাকাটাতেও অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। প্রবাসে অনেকে মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটার সময় পান না। তাদের কাছে প্রথম পছন্দ অনলাইন কেনাকাটা। অনলাইন শপিং জনপ্রিয়তা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। প্রবাসে চাহিদা অনুযায়ী প্রায় সবকিছু অনলাইনে পাওয়া যায়। এছাড়া গুণগত মান ও উন্নত গ্রাহকসেবাও পাওয়া যাচ্ছে। তাই কেনাকাটার আধুনিকতম এই মাধ্যম ব্যবহার করছে অনেকেই। অনলাইন শপিংয়ের ক্ষেত্রে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেইসবুক দিন দিন জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। বিশেষ করে ফেসবুকের অনলাইন শপিংয়ের ফ্যান পেইজগুলো। ফেইসবুকে পেইজ তৈরি করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা তাতে দেশি বিদেশি নানান ধরনের পণ্য বিক্রি করছেন। আমাদের শিল্পঘরে আজ তেমনি কয়েকজন মিলে উপস্থিত হয়েছেন। সবাইকে ঈদ শুভেচ্ছা-রোকেয়া দীপা।

আইরিন রহমানের সিন্ডারেলা'স ড্রিম ক্লোজেট
নারী-শাড়ি, সালোয়ার কামিজ যাই পরুক না কেন, তার কোনো না কোনো গয়না চাই। আর গয়না না হলে কোনো সাজকেই যেন সম্পূর্ণ করা যায় না। তাই এবারের ঈদে সিন্ডারেলা'স ড্রিম ক্লোজেটে রাখা হয়েছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। মুক্তা, রুবিসহ নানা রকম পাথরের নিখুঁত কারুকাজ করা কানের দুল, লকেট, চোকার, মুক্তার ছোট টপ বা হাতে একটি এক লহরের ব্রেসলেট পরার মতো জুয়েলারি। আছে গলায় পরার মতো এক লহরের মুক্তার মালা। ঈদের জন্য সিন্ডারেলা'স ড্রিম ক্লোজেটের দুর্দান্ত সব মাস্টার পিস কালেকশন রয়েছে। এবার ঈদের জন্য বেশ কিছু মেলার আয়োজন রেখেছেন এবার আইরিন রহমান। ক্রেতাদের জন্য আরো থাকছে বিশেষ ছাড়, ফ্রি গিফ্টের ব্যবস্থা।
আইরিন রহমান, আমেরিকার স্বনামধন্য ব্যাংকে ওমেন'স বিজনেস এডভোকেট হিসেবে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি নারী উদোগ্যতা হিসেবেও অল্প বিস্তর কাজ করে যাচ্ছেন। আইরিন রহমান বলেন, 'শুধুমাত্র স্বপ্নকে পুঁজি করে অনলাইন ডিজাইনার জুয়েলারি ব্যবসার সূচনা করি। পেশাগত জীবন এবং পারিবারিক জীবনের ব্যস্ততম সময়ের মাঝেও ছেলেবেলার অনেক স্বপ্নের একটি যেন, হঠাৎ করে আবার আমার মাঝে জেঁকে বসে। তাই কোভিড পরবর্তী সময়ে আবারও অনলাইন ক্লাস শুরু করি। নিউইয়র্কের নামকরা একটি ইউনিভাসিটি থেকে জুয়েলারি ডিজাইনার কোর্স সম্পন্ন করে নিজের ডিজাইন করা জুয়েলারি নিয়ে অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি! মায়ের গয়নার বাক্সের চোখ ধাঁধানো সব গয়নার প্রতি ঝোঁক ছিল ছোটবেলা থেকে। মা, নানীরা যে সমস্ত গয়না পরতেন অনেকটা সে ধাঁচের সাথে মিল রেখে তার সাথে কিছুটা নতুনত্ব এনে মূলত গয়নাগুলো ডিজাইন শুরু করা হয়। এছাড়াও প্রাচীন মোগল আমলের নারীদের গয়নার ডিজাইনগুলোর প্রতিও একধরনের ভালোবাসা থেকে মূলত সে রকম ধাঁচের আদলে ডিজাইনার গয়নাগুলোর বেশিরভাগই হাতে তৈরি করা হয়; সিন্ডারেলা'স ড্রিম ক্লোজেটে।"
মূলত জুয়েলারিই সিন্ডারেলা'স ক্লোজেটের মূল উপাদান। তবে ক্লায়েন্টদের অনুরোধে তাদের চাহিদা অনুযায়ী নানা ধরনের শাড়ি, মেয়েদের পোষাক, ছেলেদের পাঞ্জাবি প্রি-অডারের ভিত্তিতে সরবরাহ করা হয় বলে জানান, আইরিন রহমান।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করার প্রথম বছরেই বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য একেবারে ভিন্ন মাত্রায় ব্রাইডাল সেট সহ বিয়ের সকল অতিথিদের জন্য সফলতার সাথে দারুণ সব ডিজাইনের জুয়েলারি সরবরাহ করে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছেন সিন্ডারেলা'স এর কর্ণধার এবং ডিজাইনার আইরিন রহমান! ব্রাইডাল সেট বা হলুদসহ বিয়ে, অ্যানিভার্সারি সহ যে কোন অনুষ্ঠানের জন্য গ্রাহকরা রুচিমত জুয়েলারি বা পোষাক পেতে পারেন এখানে। আইরিন রহমান বলেন, 'ভবিষ্যতে বাংলাদেশে সিন্ডারেলা'স এর একটি শাখা খোলার জন্য উদ্যেগ নেয়ার ইচ্ছা আছে যাতে করে দেশের মানুষরাও আমার ডিজাইনার কালেশনকে হাতের মুঠোয় পেতে পারেন। সব বয়সের মেয়েরা যাতে সুন্দর পরিপাটি সেজে খুব সাধারণ গয়নায় নিজেকে আরও আকর্ষণীয় করে রাখতে পারেন সেটাই মূল লক্ষ্য। গয়না ছাড়া কোন সাজই পরিপূর্ণ হয়না।'
শিকাগো, ওমাহা, বোস্টন, নিঊজার্সি, ফ্লোরিডা, ক্যালিফ্রোনিয়া ,ডেলোয়ার, কানেক্টিকাতে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি জুয়েলারি শো করা হয়েছে। দেশি এবং বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে বিপুল সাড়া পাওয়া গেছে এ সমস্ত জুয়েলারি শো'গুলো থেকে। এছাড়াও নিয়মিত অনলাইনে ফ্রি শিপিংসহ আমেরিকার বিভিন্ন স্টেটে হোল-সেলেও গয়না সরবরাহ করা হয় সিন্ডারেলা'স ড্রিম ক্লোজেট থেকে। যে কোন অনুষ্ঠানের জন্য সুলভমূল্যে একেবারেই নতুন এবং ভিন্ন রকমের কাস্টম মেইড ডিজাইনার জুয়েলারির জন্য যোগাযোগ করতে পারেন আইরিন রহমানের সাথে। এক এক পিসের ডিজাইনার জুয়েলারি অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায় সিন্ডারেলা'স অন লাইন পেজে। ফেসবুকে Cinderella's Dream Closet page গিয়ে বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দের গয়নাটি। সিন্ডারেলা'স ক্লোজেট থেকে আপনার কাছে পৌছে যাবে আপনার কাঙ্খিত জুয়েলারি সহ ডিজাইনার পোষাকটি! সাথে দেয়া হবে বিশেষ ছাড়সহ নানা রকম ফ্রি গিফট।

সেরতাজ শিরিন চৌধুরী'র-সেরতাজ
'সেরতাজ' এর কর্ণধার সেরতাজ শিরিন চৌধুরি, থাকেন
নিউজার্সিতে। তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজারের মেয়ে। জন্ম, পড়াশুনা, বেড়ে উঠা সবই সিলেটে টাউনে। বিবাহ সূত্রে তিনি আমেরিকাতে পাড়ি জমান। এখানে আসার পর দুই মেয়ের মা হোন তিনি, ফাইজা এবং যাহারা। সংসার, চাকুরি করার পাশাপাশি ব্যস্ত জীবনে সুযোগ খুঁজতে থাকেন তিনি ছোটবেলার স্বপ্নটাকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার।
সেরতাজ বলেন, 'ছোটবেলা থেকেই আমার একটা স্বপ্ন ছিল নিজের একটা বুটিক হবে, যেখানে দেশের ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে নিজের ডিজাইনের কাপড় থাকবে। ছোটবেলার স্বপ্নকে কিছুটা হলেও বড় হয়ে রূপান্তর করতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। দেশের বাইরে থেকে দেশের ঐতিহ্যকে সবার সামনে তুলে ধরার অক্লান্ত চেষ্টা এখনো অব্যাহত। যখন অনলাইনের যোগ ছিল না তখন থেকেই আমি অনেক রকমের ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলাম, স্বামীর সাথে। মাঝখানে আবার একটা লম্বা বিরতি হয়ে যায় কারণ মেয়েদেরকে সম্পুর্ণ সময়টা দিতে হয় আমাকে। কাজের মধ্য থেকেও কোভিড-১৯ শুরু হওয়ার পর থেকে আবার ব্যবসাটি শুরু করি। আলহামদুলিল্লাহ সবার অনেক সাপোর্ট পেয়েছি এবং পাচ্ছি এই কাজের জন্য।'
সেরতাজ-এ এবার ঈদে রয়েছে অভিনব সব কালেকশন। ঈদে সবাই সবার থেকে আলাদা কিছু পরতে পছন্দ করেন আর সেই ভাবনা থেকেই সেরতাজের কালেকশন হবে আলাদা, অভিনব কিছু। তবে সেরতাজ শিরিন চৌধুরী বলেন, কালেকশনে কী আনা হবে, সেটা না হয় সারপ্রাইজ থাক। তবে ঈদের জন্য সেরতাজে থাকবে বিশেষ ছাড়।
সেরতাজ শিরিন চৌধুরী একই ধরনের কাজ করতে পছন্দ করেন না বলে জানান। তিনি বলেন, 'কাস্টমাররা এখন আর সিমিত কোন কিছু কিনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। তারা এখন পণ্যের ভিন্নতাতে বিশ্বাসী। সেই সাথে ভালো কোয়ালিটি আছে কিনা তাও দেখেন। আর আমিও নতুনত্ব পছন্দ করি। তাই কাস্টমারের চাহিদা আর নিজের ধারণাকে কাজে লাগিয়ে সব সমই নতুন এবং অভিনব কিছু কাস্টমারদের দিতে আগ্রহী থাকি। আমার কাছে আছে দেশিয় শাড়ি থেকে শুরু করে শীতল পাটি এবং পাঠির উপরে নানা রকম প্রোডাক্ট তোলে নিয়ে আসি। যেমন-হাতপাখা, ব্যাগ, জুতি, গয়না। এর পরে গামছা দিয়ে বানানো হ্যান্ড পেইন্ট শাড়ি, পাঞ্জাবি ব্লাউজ নানা রকম জুয়েলারি। মনিপুরি শাড়ির উপরে হ্যান্ড পেইন্ট এবং মসলিন শাড়ির উপর নিজস্ব ডিজাইনের হেন্ডপেইন্ট থাকে। এগুলো সম্পুর্ণ সেরতাজ টিমের কাজ। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী আলি আমজাদ সাহেবের ঘড়ি এবং কিন ব্রিজ এর ছবি দিয়ে হেন্ডপেইন্ট করে শাড়ি বানালাম যা সত্যি আমার সম্মানিত কাস্টমারদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে।'
ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে সেরতাজ শিরিন চৌধুরী বলেন, 'যে কোন ব্যবসায় বা কাজে চেষ্টা করলে ছোট থেকে ধীরে ধীরে বড় হওয়া যায়। আমি ও অনেক স্বল্প পরিসরে শুরু করেছিলাম। আজ আমার কষ্ট এবং আমার শুভাকাঙ্ক্ষী কাস্টমারদের কারণে আমার ব্যবসাটি আলহামদুলিল্লাহ মোটামোটি ভালো চলছে। ভবিষ্যতে ইচ্ছা আছে ব্যবসাটিকে আরো বড় করার এবং শুধু মাত্র আমার দেশের ঐতিহ্যবাহী জিনিস নিয়ে কাজ করার যা কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে।'
বাংলার ঐতিয্যকে নতুন করে সবার সামনে তোলে ধরার প্রাত্যাশা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সেরতাজ শিরিন চৌধুরী।
তার এই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য স্বামী হেলালুল ইসলাম চৌধুরি প্রতিনিয়ত পাশে থাকছেন। সেরতাজ শিরিন চৌধুরী বলেন, 'উনি যেভাবে আমাকে সাপোর্ট করেন, আমি মনে করি প্রতিটি মানুষের সাথে এইরকম একজন মানুষ থাকা উচিত। সালাম জানাই আমার বাবা-মা সহ পরিবারের প্রতিটি মানুষকে আমাকে সাপোর্ট করার জন্য। আমার এই কাজের সাথে যারা আমার পাশে ছিলেন, আজ আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি এর জন্য প্রতিটি মানুষকে আমি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।'

সামিনা নাজ এর-সামিনাজ কালেকশন
বাহারি পোশাক-গয়না নিয়ে ঈদের আয়েজনে ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন সামিনাজ কালেকশন। ঈদের জন্য থাকছে শাড়ি, বাংলাদেশি এবং ভারতীয় গয়না, পুরুষদের জন্য পাঞ্জাবি ও শিশুদের পোশাক। সামিজা নাজ বলেন, 'সবসময় আমরা চেষ্টা করি মানসম্পন্ন ও অত্যাধুনিক কিছু করতে। আগামী মার্চ এর ১ থেকে ৩ তারিখ পর্যন্ত সামিনাজ কালেকশনের প্রি-রমাজান এক্সিভিশন। অনলাইনের গ্রাহকরাও এই সুবিধা পাবেন। ঐ ৩ দিন থাকছে সব কিছুর উপর ৫ শতাংশ মূল্যহ্রাস। এ ছাড়াও নিয়মিত লাইভ সেশন চলবে চাঁদ রাত পর্যন্ত।'
সামিনাজ কালেকশনের কর্ণধার সামিনা নাজ। তিনি বলেন, '১৯৯৭ সালের নভেম্বর মাসে, যখন বাংলাদেশ ছেড়ে আমি কানাডায় স্থায়ীভাবে থাকার ইচ্ছা নিয়ে আসি, তখন একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম। তখনও নামটা ঠিক করিনি। কিন্তু কিছু করবো এটার একটা পরিকল্পনা ছিল মাথায়। তাই কিছু দেশিয় হ্যান্ডি ক্রাফট, গয়না সাথে এনেছিলাম। তারই ফলশ্রুতিতে ১৯৯৮ সালে সামিনাজ কালেকশনের জন্ম হয়। ধীরে ধীরে বেড়ে উঠা আমার এই স্বপ্নটি ছিল আমার তৃতীয় সন্তানের মত। ভীষণ ভালোবাসা, প্যাশন থেকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়ে যাই সময়ের স্রোতে। পাশাপাশি কাজও চালিয়ে যাই। প্রচণ্ড একাগ্রতা, নিষ্ঠা, সততার ফসল আমার এই সন্তান (সামিনাজ কালেকশন'স)। পরম করুনাময় আল্লাহ পাকের অশেষ রহমতের কল্যাণে আজ আমি এখানে। আর পাশাপাশি রয়েছে আমার মা, স্বামী, সন্তানদের সহযোগিতা। আর বিশেষভাবে আমার আজকের সামিনাজ পরিবাবের সাপোর্ট আর ভালোবাসা।'
গত বছর সেপ্টেমবর মাসে, ২৫ বছর পূর্ণ করেছে সামিনাজ কালেকশন। গ্রাহকদের প্রয়োজনের দিকে লক্ষ্য রেখেই সামিনা নাজ এই কালেকশনের সম্প্রসারণ করেছেন। শুরুর দিকে কেবল শাড়ি, সালোয়ার কামিজ দিয়েই সীমাবদ্ধ থাকলেও ভারত, পাকিস্তান এবং বিশেষ করে বাংলাদেশি গয়না, হিজাব, আবায়া, ছেলেদের পাঞ্জাবি ও শিশুদের পোশাকও যুক্ত হয়েছে সামিনাজ কালেকশনে।
কানাডা ছাড়াও আমেরিকার সর্বত্রই সামিনা নাজ সামগ্রী পাঠিয়ে থাকেন। আমেরিকার বাঙ্গালিদের জন্য একটি সুখবর হল, গত বছর অক্টোবর মাসে সামিনাজ কালেকশন আমেরিকায় তার প্রথম ব্রাঞ্চ উদ্বোধন করেছে। সেই সুবাধে গ্রাহকরা আমেরিকা থেকেও সামিনাজ এর সামগ্রী পাবেন এবং অনলাইনের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন বলে জানান, সামিনা নাজ। ভবিষ্যতে আরো অনেক কিছু করার ইচ্ছা রাখেন সামিনা নাজ। তিনি বলেন, 'সেটার মধ্যে একটা সম্প্রতি বাস্তবায়ন হয়েছে। আমরা আমাদের কথায় ও কাজে খুবই দৃঢ়। মানসম্মত পণ্য গ্রাহকের কাছে ঠিক সময়ে পৌছে দেওয়া আমাদের লক্ষ্য। আমেরিকার আমার এই নতুন উদ্যোগ সফল হবে আমি খুবই আশাবাদী, ইনশাআল্লাহ।'
সবশেষে, প্রথমআলো উত্তর আমেরিকার এই ঈদ সংখ্যার পাতাটির জন্য রোকেয়া দীপাকে ধন্যবাদ জানান সামিনা নাজ। তিনি বলেন, 'এই প্ল্যাটফর্মে সামিনাজ কালেকশনকে রিপ্রেজেন্ট করার এই সুযোগ কখনো আসবে আমি কল্পনাও করিনি।'
নাদিরা ওয়াহিদ এর-শাটী
এবারের ঈদ কালেকশনে শাটী নিয়ে আসছে রাজশাহীর বলাকা সিল্ক শাড়ি ও মসলিন শাড়ি, নতুন ডিজাইনের কুর্তি এবং পাঞ্জাবি। সেইসাথে বরাবরের মতই শাটীর নিজস্ব ডিজাইনের সুতির শাড়ি ও তার সাথে মানানসই নকশার ব্লাউজ থাকছে।
নাদিরা ওয়াহিদ, শাটীর কর্ণধার। তিনি বলেন, 'শাটীর যাত্রা শুরু হয় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। আমি আমার ফ্যাশন ডিজাইনিং ক্যারিয়ার শুরু করি ১৪ বছর বয়সে। এবং জাতীয় পুরস্কার পাওয়া শুরু করি ১৫ বছর বয়সে। তখন থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের জন্য কিছু করা। যেখানে আমার ডিজাইনিং দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারব। এভাবেই শাটীর পথচলা শুরু। বর্তমানে শাটীর সাথে প্রায় ৮০-র অধিক মেয়ে কাজ করে
টাঙ্গাইল হ্যান্ডলুম শাড়ি, রাজশাহী সিল্ক ও মসলিন শাড়ি, ব্লাউজ, পাঞ্জাবি, কামিজ, কুর্তি- আমাদের সব পোশাকেই হ্যান্ড ব্লক এবং হাতের কাজ থাকে। আমাদের কাঠের ব্লকের নকশা থেকে শুরু করে সুতার রঙ পর্যন্ত সবকিছুই আমাদের নিজস্ব আনন্য ডিজাইনে তৈরি করা হয়। '
শাটীর কালেকশন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে দুটি ঈদ মেলায় অংশ নিচ্ছেন নাদিরা ওয়াহিদ। তিনি বলেন, 'আবুল হোসেন কোরাইশি প্রকল্পকে সহযোগিতা করতে শাটী ব্রান্ডটি প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হল শাটীর রিসেলারদের মাধ্যমে দেশিয় পণ্য বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেয়া।'
সাজসজ্জা থেকে আরো পড়ুন