https://www.prothomalony.com/
8822
north-america
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৪ ০৬:১৯
গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে আত্মাহুতি দেয়া মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য অ্যারন বুশনেল বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদী জনতার অণুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যায় মার্কিন সামরিক ভূমিকার প্রতিবাদে ওয়াশিংটন, ডিসি-তে ইসরায়েলি কনস্যুলেটের সামনে আত্মহনন করেছিলেন অ্যারন। ইয়েমেন থেকে মালয়েশিয়া পর্যন্ত, ফিলিস্তিন থেকে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবাদকারীরা অ্যারন বুশনেলের আত্মাহুতিকে স্মরণ করছেন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মসজিদে মসজিদে স্মরণ করা হচ্ছে মার্কিন এ বীরকে। বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অ্যারন বুশনেলের প্রতি মানুষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাচ্ছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলি দূতাবাসের সামনে শরীরে কেরোসিন ঢেলে নিজেই নিজেকে পুড়িয়ে মানবতা বিরোধী হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন অ্যারন। তার এ প্রতিবাদী আত্মাহুতি মার্কিন মিডিয়ায় খুব একটা আলোচনা না হলেও আমেরিকার বাইরে এ নিয়ে বড় বড় সমাবেশ হয়েছে। গাজায় ক্রমাগত ইসরাইলি হামলা এবং মার্কিন সমর্থনের প্রতিবাদে আত্মাহুতি দেয়া অ্যারনকে বীরের মর্যাদা দিয়ে স্মরণ করা হচ্ছে সর্বত্র।
৫ মার্চ ওরাগণ রাজ্যের পোর্টল্যান্ডে অ্যারন বুশনেলকে স্মরণ করে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। এ সমাবেশে যুদ্ধ বিরোধী প্রাক্তন মার্কিন সেনারা নিজেদের ইউনিফর্মে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন।
ওয়ার্কার ওয়ার্ল্ডস পার্টি নামের নাগরিক সংগঠনের অ্যাক্টিভিস্ট জনী লুইস বলেছেন, সর্বত্র যুব তরুণদের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেছেন, যুব তরুণরা আন্দোলন করেই ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে আমেরিকাকে সরে আসতে বাধ্য করেছিল। আজকের সময়ে প্যলেস্টাইনের গাজায় হামলা থেকে মার্কিনিদের সম্পূর্ণভাবে সরে আসার দাবি জানাচ্ছে যুব তরুণ সমাজ, তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যান্য মুসলিম আমেরিকানদের মত বাংলাদেশি আমেরিকানরাও অ্যারন বুশনেলের স্মরণে এগিয়ে এসেছেন। ৮ মার্চ শুক্রবার, ইসলামিক সোসাইটি অফ সেন্ট্রাল ভার্জিনিয়া শার্লোটসভিলে, আ্যরন বুশনেলের জন্য দোয়া করা হবে। ভার্জিনিয়া, নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন এলাকায় মসজিদে মসজিদে অ্যারন বুশনেলকে মানবতার পক্ষে আত্মাহুতি দেয়া বীর হিসেবে লোকজন স্মরণ করছেন। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মুসলিম ধর্মবিশ্বাসীরা অ্যারনের জন্য জান্নাত কামনা করছেন আল্লাহর দরবারে।
আত্মহুতির আগে ইসরাইলি দূতাবাসের গেটের দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় ভিডিও বার্তায় অ্যারন শান্তভাবে বলেছিলেন, ‘আমি আর এক মুহূর্তও গণহত্যায় জড়িত থাকব না। আমি প্রতিরোধের চরম একটি পথ বেছে নিতে যাচ্ছি। কিন্তু ঔপনিবেশিক দখলদারের হাতে ফিলিস্তিনের অধিবাসীরা যে পরিস্থিতির সম্মুখীন, তার তুলনায় এই প্রতিবাদ মোটেও চরম কিছু নয়। আমাদের শাসকগোষ্ঠী এ পরিস্থিতিকেই স্বাভাবিক বলে গ্রহণ করেছে।’
পুলিৎজার পুরস্কারপ্রাপ্ত মার্কিন সাংবাদিক ক্রিস হেজেস বলেছেন," সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমের পাশাপাশি মূলধারার সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার শিকার বুশনেলের আত্মাহুতি এমনই একটি প্রতিবাদ। এর মানে হলো, ঘটনাটি এখনও জানা যায়নি। বুশনেল নিজের জীবনপ্রদীপ এমনভাবে নিভিয়ে দিয়েছেন, যেভাবে হাজার হাজার ফিলিস্তিনির জীবন নিভে যাচ্ছে; যেখানে শিশুরাও বাদ যায়নি। আমরা তাঁকে আগুনে জ্বলে মরতে দেখেছি। ঠিক একই ঘটনা আমাদের কারণে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গেও ঘটছে। "
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন