https://www.prothomalony.com/
8423
literature
একটি শিশুতোষ বই লেখার উপকরণগুলো কী হতে পারে কিংবা শিশুদের জন্য বই লিখতে তাদের বয়স বাছাই করা কি জরুরি কিনা, এমন প্রশ্ন উঠে আসে প্রায়শই শিশুদের বই লিখতে গিয়ে। হ্যাঁ! শিশুদের বই লিখতে গিয়ে একজন লেখকের জন্য সবার আগে শিশুর বয়স বাছাই করা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয় এবং শিশুর বয়স ও চাহিদা অনুযায়ী সহজ-সরল ভাষায় লিখিত ছড়া, কবিতা ও গল্পকে সাজাতে হয় যা পড়ে শিশুরা আনন্দ পায়, খুশি হয় এবং নতুন কিছু জানতে, বোঝতে ও শিখতে পারে। শিশুদের মনস্তত্ত্ব বিবেচনায় রেখে, তাদের পড়ার ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে শিশুসাহিত্য এমন বিষয়গুলির উপরও লেখা হয় যা শিশুদের আগ্রহী করে তোলে। অর্থাৎ, শিশুদের উপযোগী সাহিত্যই হলো শিশুতোষ সাহিত্য।
শিশুদের বই লিখতে গিয়ে একজন লেখককে ক্যাটাগরি নির্ণয় করতে হয়, কি-ফিচার অর্থাৎ যা নিয়ে লিখছেন, মূল বৈশিষ্ট্যগুলির সাথে লেখাটি সম্পর্কিত কিনা, এর লক্ষ্য কি এবং সংশ্লিষ্ট কোনো ঝুঁকি আছে কিনা তা বিবেচনায় রাখতে হয়। চরিত্রের উপর জোর দিতে হয়, গল্পকে আকর্ষক করে তোলতে হয়, ইলাস্ট্রেশনের সঠিক ব্যবহার করতে হয়, উপযুক্ত একটি শিরোনাম তৈরি করতে হয়, প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হয় এবং কী এড়িয়ে চলতে হবে, তা বিবেচনায় রাখতে হয়। শিশুদের বইগুলো কেন এত সতর্কতার সাথে লিখতে হয়? কারণ শিশুদের জন্য একটি উপযুক্ত এবং মানসম্পন্ন বই তাদের জ্ঞানীয় বিকাশে সহায়তা করে। একটি শিশু বই পড়ার মাধ্যমে স্বাধীন চিন্তাভাবনা করতে শিখে। ভাষাগত দক্ষতার সাথে সামাজিকীকরণে উৎসাহিত হয়। মজাদার এবং আকর্ষণীয় উপায়ে শিশুরা গল্প, কবিতা, ছড়া পড়ার মাধ্যমে বিশ্ব সম্পর্কে জানতে শুরু করে, যেখানে থাকে সৌহার্দ্য সম্প্রীতি, আনন্দ, বিনোদন, দ্বন্দ্ব, সমস্যা, সমাধান, রহস্য, নতুন তথ্য-ব্যাখ্যা এবং আবিস্কার। একটি বয়স ও চাহিদা উপযুক্ত বই শিশুদের সমস্যা নির্ণয় ও সমাধান করা সহ তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দেয় এবং আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে সাহায্য করে।
ছোট শিশুদের জন্য শিশুসাহিত্যের মূল্য ব্যক্তিগত এবং একাডেমিক উভয়ই হয়। একাডেমিক শিশুসাহিত্যে স্কুল সম্পর্কিত শিক্ষা আদান প্রদানের ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষণীয় কৌশল ও স্তরগুলোর এক বিস্তর বিন্যাস বা মডেল থাকে। ব্যক্তিগত শিশুসাহিত্য শিশুদের আনন্দ দেয়, কল্পনাশক্তি এবং সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং তাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সুযোগ দেয়। সহজপাঠ্য গল্প, ছড়া, কবিতা, ভাষাগত সারল্য, সহজ বার্তা, চিত্র ও বর্ণের সমাবেশ, কল্পনা, রূপকথা, লুলাবাই(ঘুম পারানি গান), জ্ঞান-বুদ্ধির উপস্থাপনা, এ্যাডভেঞ্চার, লৌকিক ও পৌরানিক কাহিনী এবং অন্যান্য প্রাথমিকভাবে মৌখিকভাবে প্রেরিত সামগ্রী সহ বিস্তৃত কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে শিশুতোষ বই। একাডেমিক শিশুতোষ বইয়ের মতো শেখার বিস্তৃতি ও বিস্তর প্রভাব ব্যক্তিগত শিশুতোষ বইতেও একটা সরল আলোকবর্তিকা উপস্থাপিত হয়।
শিশুতোষ বইতে কল্পনার ছোয়া থাকে কারণ শিশুরা তাদের কল্পনাশক্তির মাধ্যমে চিন্তা করে, শিখে, ভবিষ্যতের কার্যক্রমের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে। শব্দ, ভাষার প্রযোগ তাদের প্রাথমিক বা চলমান ভাষাকে সুসংবদ্ধ করে। রঙ্গিন ছবির সাথে গল্পগুলো, শুরুর বয়সে পড়তে না জানা শিশুদের গল্পের ঘটনা, বিষয়বস্তু বুঝতে সাহায্য করে। বাক্যের পুনরাবৃত্তি শিশুদেরকে অক্ষর ও শব্দ একত্রিত করে শব্দ ও বাক্যের গাঁথুনি শক্ত করে। এর মাধ্যমে তারা নতুন শব্দ ও ভোকেবুলারি শেখার ও জানার সুযোগ বৃদ্ধি করে। রূপকথার গল্পগুলি শিশুদের দেখায় কীভাবে লোকেরা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয় এবং তারা নিজের উপর বিশ্বাস রেখে কীভাবে সেই বাধাগুলি অতিক্রম করে। গল্পগুলি শিশুদের বাস্তব জীবনের ভয় এবং উদ্বেগগুলিকে একটি চমৎকার পরিবেশে মোকাবেলা করতে সাহায্য করতে পারে। রূপকথার গল্প শিশুদেরকে বিভিন্ন সংস্কৃতির কাছে তুলে ধরে। রূপকথার নৈতিকতা হল-মানুষকে কীভাবে ভাল মানুষ হতে হয় তা জানতে সাহায্য করা। এ্যাডভেঞ্চার বা দুঃসাহসিক গল্প, সমস্যা সমাধান, স্থিতিস্থাপকতা এবং সহানুভূতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা লালন করতেও শিশুদের সাহায্য করে। জলদস্যু এবং গুপ্তধনের সন্ধান থেকে শুরু করে দূরবর্তী দেশে সাহসী ভ্রমণের উত্তেজনা ও কৌতুহল তৈরি করে।
শিশুদের জন্য বই লিখতে গেলে বয়সের উপর নজর দিতে হয়। আঠারো বছরের কম বয়সী সকল মানুষই শিশু। শিশুদের জন্ম থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রারম্ভিক শৈশব ধরা হয়। ৬ বছর থেকে ১২ বছর বয়স পর্যন্ত মধ্যশৈশব ধরা হয় এবং ১২ বছর থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত কৈশোরকাল ধরা হয়। শৈশব-কৈশোরের এই পর্যায়গুলিতে শিশুর বিকাশ ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্বতন্ত্র গতিতে ঘটে। তাই বয়স অনুযায়ী তাদের বিভিন্ন ধরনের বইও থাকে।
নবজাতক থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বোর্ড বুক রাখা হয়। ধরনের বই দ্রুত এবং পড়া সহজ। শিশুদের জন্য বোর্ড বইগুলি অনেকগুলি পূর্ণ-রঙের চিত্র সহ ছোট আকারের হয়৷ এগুলি গল্প, বা ধারণা বা অভিনব বই হতে পারে। এই বইগুলির মূল লক্ষ্য হল ছোট বাচ্চাদের মৌলিক ভাষার দক্ষতা শেখানো যেমন, তাদের ABC বা অ আ মুখস্থ করানো, আকার এবং রঙ সনাক্ত করা ইত্যাদি। বোর্ড বই শুধুমাত্র এই বয়সীদের জন্য ডিজাইন করা হয় যার পৃষ্ঠাগুলি পুরু, বলিষ্ঠ পেপারবোর্ড দিয়ে তৈরি করা হয়। এ বয়সের অনেক শিশুদের মধ্যে বই বাঁকানো, ছিঁড়ে ফেলা বা চাবানোর সম্ভাবনা থাকে। তাই এই নির্মাণের বই তাদের জন্য উপযুক্ত।
৪ বছর বয়সে তারা আবার বোর্ড বইগুলো পড়তে নাও চাইতে পারে। তারা পিকচার বইগুলোতে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে। এর মানে তারা সম্ভবত মৌলিক দক্ষতা বিকাশ করতে শুরু করেছে, যেমন অক্ষর সনাক্তকরণ করা, ধ্বনিগত সচেতনতা এবং সম্ভবত সহজ শব্দ পড়া। প্রতিটা শিশু তাদের নিজস্ব গতিতে- এবং তাদের নিজস্ব উপায়ে শিখে এবং বৃদ্ধি পায়।
২ থেকে ৫ বছর বয়সীদের জন্য আর্লি পিকচার বুক উপযুক্ত। এই বইতে রঙ্গিন ছবি সহ ৮০০ শব্দ থাকতে পারে, তবে ৫০০ শব্দে লক্ষ্য রাখতে পরামর্শ দেন অনেক গবেষকরা। এই বইগুলির গড় ৩২ পৃষ্ঠা হতে পারে এবং প্রতিটি পৃষ্ঠায় পূর্ণ-রঙের ছবি থাকে। এই বইতে সাধারণ ও সহজ গল্প, ধারণা, কার্যকলাপ এবং অভিনব ছবি থাকে। এই বই ছবির সাথে ছড়াতেও লেখা হয়।
৫ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুদের জন্য পিকচার বুক উপযুক্ত। এই বয়সে শিশুরা প্রাথমিক পাঠক হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ হয় এবং বয়সের সাথে ছবির বই থেকে এক ধাপ উপরে উঠে। এই বয়সীদের জন্য ছবির বইগুলি ১০০০ থেকে ৩০০০ শব্দের মধ্যে হতে পারে, যাতে পূর্ণ-রঙের চিত্র থাকে এবং একটি উপযুক্ত গল্প থাকতে পারে। এই বয়সের জন্য উপযুক্ত কার্যকলাপ সহ অভিনবত্ব এবং কার্যকলাপের বইগুলিও সাধারণ। ছোট বইগুলো কখনো সিরিজ আকারেও আসতে পারে যাতে বাচ্চাদের বিনোদন বা রহস্যের সাথে পড়ার আগ্রহ ও দক্ষতা তৈরি করতে সহায়তা করে। এই বইগুলি শব্দের উপর বেশি এবং চিত্রের উপর কম ফোকাস করে।
৬ থেকে ৯ বা ১০ বছর বয়সে ছোট বইয়ের পরে, শিশুদের জন্য ছোট অধ্যায় ও গ্রাফিক উপন্যাসের বই রয়েছে। এই বইগুলিতে সাধারণত স্কেচ থাকে এবং পূর্ণ-রঙের চিত্রে করা হয় না। অধ্যায়ের বইগুলি এমন শিশুদের জন্য যারা নিজেরা পড়তে শিখেছে এবং চ্যালেঞ্জিং কিছু পড়ার জন্য খুঁজছে তবে সম্পূর্ণ উপন্যাসে ডুব দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। এই বইগুলিতে ছোট অধ্যায় থাকে, একটি সাধারণ প্লট থাকে এবং সাধারণত ৫০০০ থেকে ১০,০০০ শব্দে হতে পারে। ছোট বইয়ের মতো, এগুলিও প্রায়শই সিরিজে আসতে পারে।
৮ থেকে ১২ বছর বয়স হল শিশুদের মিডল-গ্রেড, এ বয়সে অধ্যায়মূলক বই এবং মিডলগ্রেড ফিকশন বই তাদের জন্য উপযুক্ত। এ বয়সের শিশুরা একটি উন্নত শক্তিশালী গল্প এবং গদ্য সহ বই চায়। একটি প্রধান চরিত্রের সাথে বইতে চরিত্রগুলি ত্রুটিপূর্ণ এবং প্রেমময় হতে পারে। দ্বন্ধ, সমস্যা ও রহস্য থাকে, সমাধানের সন্ধান থাকে। এই বয়সে, তাদের উন্নত পাঠক দক্ষতা থাকে। মিডল-গ্রেডের বই পিকচার বুক-এর চেয়ে বেশি পরিশীলিত কিন্তু তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের ফিকশনের মতো আবেগগত বা বিষয়গতভাবে উন্নত নয়। উদাহরণস্বরূপ- মিডল-গ্রেড ফিকশনে রয়েছে হ্যারি পোটার এবং জে.কে. রাউলিং, যেখানে চরিত্রগুলির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বগুলি এই বয়সের শিশুরা তাদের দৈনন্দিন জীবনে খুঁজে পায়, যেমন বন্ধুত্ব গঠনের সময় এবং বুলিং আচরণ মোকাবেলা করার সময় সহানুভূতি ও বিনয়ী হওয়া। বিভিন্ন ঘরানার কাজগুলিকে মিডল-গ্রেডের ফিকশন হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা যেতে পারে,যেমন- গ্রাফিক নভেল, ফ্যান্টাসি এবং সায়েন্স ফিকশন, মাঙ্গা নভেল এবং আরও অনেক কিছু অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। মিডল-গ্রেডের বই ২ হাজার ৫০০ থেকে ৫০ হাজার শব্দে হতে পারে। বইগুলিতে কম চিত্র থাকে বা কখনও কখনও কোন চিত্রই থাকে না।
মিডল-গ্রেড ফিকশনের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেমন-এগুলিতে কোনও অশ্লীলতা বা গ্রাফিক সহিংসতা থাকবে না, রোমান্স বলতে ক্রাশ এবং প্রথম চুম্বনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হতে হবে, চরিত্রের বয়স ১০ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে হবে। মিডল গ্রেডের উপন্যাসগুলি তৃতীয় ব্যক্তির মাধ্যমে বলা হয়। চরিত্রগুলি সাধারণত বন্ধু এবং পরিবারের উপর ফোকাস রেখে তাদের নিকটবর্তী জগতে তাদের সাথে যা ঘটে তার প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখায়। চরিত্রগুলি সাধারণত আত্ম-প্রতিবিম্বের মধ্যে খুব বেশি অনুসন্ধান করে না বরং বাস্তব জীবনের পরিস্থিতির উপর ফোকাস করে।
১২ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের জন্য ইয়ং এডাল্ট ফিকশন সহ উপন্যাস এবং গ্রাফিক উপন্যাস উপযুক্ত। এই বয়সের বইগুলিকে কখনো কখনো দুটি বয়সের গ্রুপে ভাগ করা হয়, ১২ থেকে ১৫ এবং ১৬ থেকে ১৮। এই বয়সের বইগুলি সাধারণত শিশুদেরকে একটি অপরিচিত জগতের চরিত্রের সাথে পরিচিতি ঘটায় এবং একীকরণের অন্বেষণ করে, চরিত্রের যাত্রা এবং আত্মদর্শনের উপর জোর দেয় কারণ শিশুরা এতে নিজেদের অবস্থান আবিষ্কার করে। ইয়ং এডাল্ট গল্প বা উপন্যাসগুলো কিশোর চরিত্রগুলি নিয়ে লেখা হয় এবং এগুলি সিরিজ আকারে সমাপ্তি ঘটতে পারে। সাধারণত এই বইয়ের শব্দ সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে ৮০ হাজার শব্দের মধ্যে পড়ে।
১২ থেকে ১৮ অর্থাৎ কিশোরদের বইগুলির কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে, যেমন-তাদের পরিপক্কতা অনুযায়ী, নিন্দা বা কিছু অপ্রীতিকর শব্দ এবং গ্রাফিকস্ অনুমোদিত। রোমান্স অনুমোদিত, কিন্তু কামোত্তেজকতা নয়। ইয়াং অ্যাডাল্ট উপন্যাসগুলির চরিত্র ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী উপযোগী হয়। কল্পকাহিনী সাধারণত ফোকাস করা হয় কিভাবে প্রধান চরিত্র তাদের পরিবার এবং বন্ধুদের বৃত্তের বাইরে গিয়ে বৃহৎ জগতে পরিচিত হয়, মানানসই হয়- কল্পকাহিনী এইসব ঘটনাগুলিকেই প্রতিফলিত করে এবং তাদের অর্থ বিশ্লেষণ করে। তারা কারা, তারা কোথায় প্রবেশ করছে, কেন করছে সে সম্পর্কে গভীরভাবে বোঝতে আত্ম-প্রতিফলন ঘটায় এবং অভ্যন্তরীণতার পরিমাণের কারণে উপন্যাসগুলি প্রায়শই চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রথম ব্যক্তির মধ্যে বলা হয়।
শিশুসাহিত্যকে সাধারণত, সাতটি ধারায় শ্রেণীবদ্ধ করা হয়: পিকচার বুক(ছবির বই), ট্র্যাডিশনাল লিটারেচার(ঐতিহ্যবাহী বা প্রথাগত সাহিত্য), রিয়্যালিস্টিক ফিকশন(বাস্তবসম্মত সাহিত্য), হিস্টোরিকাল ফিকশন(ঐতিহাসিক সাহিত্য), ফ্যান্টাসি এন্ড সাইন্স ফিকশন(ফ্যান্টাসি এবং সায়েন্স সাহিত্য), নন-ফিকশন(প্রকৃত তথ্যভিত্তিক সাহিত্য) এবং পোয়েট্রি(কবিতা)।
ছবির বই- এমন বই যা ছবির ব্যবহারে গল্প বলার মাধ্যমে শিশুদের একটি চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
ঐতিহ্যবাহী বা প্রথাগত সাহিত্য- এর মধ্যে রয়েছে লোককাহিনী, রূপকথা, পৌরাণিক কাহিনী, কিংবদন্তি, উপকথা, এবং অন্য যেকোন ধরনের গল্প প্রজন্ম ধরে চলে গেছে।
বাস্তবসম্মত কথাসাহিত্য - মূলত আধুনিক সময়ে সেট করা বই এবং আধুনিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে লেখা হয়। এই গল্পগুলি প্রায়শই বাচ্চাদের তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বা জীবনধারা অনুভব করতে দেয়।
ঐতিহাসিক সাহিত্য - একটি অতীত সময়কালে সেট করা বই যা সেই সময়কাল বা একটি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে। এটি একটি শিশুর দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে ইতিহাসকে তোলে ধরে।
ফ্যান্টাসি এবং সায়েন্স সাহিত্য - এই ধারায় কল্পনা, জাদু এবং মিথের জগত বা ভিনগ্রহের গ্রহগুলিতে সেট করা গল্পের ব্যবহার জড়িত থাকে।
নন-ফিকশন বা প্রকৃত তথ্যভিত্তিক সাহিত্য - তথ্যমূলক বই যা বাস্তব জগতে একটি বিষয় বা ধারণা সম্পর্কে তথ্য ব্যাখ্যা করে।
কবিতা - বিভিন্ন পাঠের স্তরে লেখা বই যা পাঠকদেরকে ঘনীভূত ভাষা, এবং চিত্রকল্পের পাশাপাশি সৃজনশীল অভিব্যক্তি এবং কল্পনাপ্রসূত উপলব্ধির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।
শিশুদের বইগুলি সমস্ত আকারেই আসে। সেই সাথে কণ্ঠস্বর, চরিত্র, প্লটের প্রকার এবং শব্দভান্ডারের স্তরে আসে। কোনটি একটি বইকে আরও গুরুত্বপূর্ণ, অর্থবহ ও জনপ্রিয় করে তোলতে পারে বা অন্যটির চেয়ে সহজ করে তোলে, সেই প্রশ্নগুলি ব্যাপকভাবে বিতর্কিত। তবে এখানে তিনটি বৈশিষ্ট্য উপস্থাপন করছি যা শিশুদের জন্য একটি ভালো বইতে থাকতে পারে।
(১) একটি আকর্ষণীয় গল্পঃ শিশুদের একটি ভালো বইয়ের গল্প আকর্ষণীয় এবং চিত্তাকর্ষক হতে হয়। সেটি হতে পারে পারিবারিক পোষা প্রাণী সম্পর্কে একটি বাস্তবসম্মত গল্প কিংবা মঙ্গল গ্রহের একটি ক্যাসলের মতো কাল্পনিক বা পরাবাস্তব গল্প। গল্পের কিছু দিক বা চরিত্র শিশুদের সাথে সম্পর্কিত হলে আরো ভালো। হয়তো মঙ্গল গ্রহের চরিত্রটি একটি শিশু হতে পারে বা একটি দানব হতে পারে যার মাধ্যমে কোনো কিছু ভাগ করে নেওয়া শেখা যায়। শিশুরা যখন গল্পের সাথে সম্পর্কিত হয় তখন তারা এটির সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত হতে পারে এবং আরও স্পষ্টভাবে গল্পটি বুঝতে পারে, মনে রাখতে পারে। 'ইউ আর অনলি ইয়াং টুয়াইস: চিল্ড্রেন লিটারেচার এন্ড ফিল্ম এর লেখক অধ্যাপক টিম মরিস বলেছেন যে, "শিশুরা যে বইটি পছন্দ করবে তার একটি কেন্দ্রীয় চরিত্র থাকে যা একটি বিশ্বাসযোগ্য শিশু, এবং দেখায় যে শিশুটি শক্তি এবং কল্পনাশক্তির সাথে বিশ্বের মুখোমুখি হচ্ছে।" শিশুদের বইগুলি সময়ের পরীক্ষায় দাঁড়ায় কারণ তাদের লেখকরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে লেখেন।
(২) আকর্ষক ভাষার ব্যবহারঃ শিশুদের জন্য একটি ভালো বইতে আকর্ষণীয় ভাষা থাকা দরকার। ভাষার ছন্দ হতে হবে আনন্দদায়ক এবং গল্পের শব্দগুলো পৃষ্ঠা থেকে পৃষ্ঠায় এমনভাবে প্রবাহিত হবে, যাতে শব্দগুলি শিশুরা ধারণ করতে পারে। শিশুদের শব্দ শেখায় রাইমিং হল একটি জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী উপায়। এটি শিশুদের সক্রিয় শ্রবণ দক্ষতা এবং ধ্বনিগত সচেতনতা বিকাশে সম্পৃক্ত করে এবং প্রাথমিকভাবে পড়তে শেখার সময় তাদের ধ্বনিবিদ্যা দক্ষতা বাড়ায়। বইতে ভোকেবুলারি বা শব্দভান্ডার সম্পর্কযুক্ত হওয়া উচিত। তবে শিশুদের বয়স অনুযায়ী এটা যেন চ্যালেঞ্জিং না হয়ে উঠে, সেটা খেয়াল রাখতে হবে।
(৩)বহুসংস্কৃতি অন্তরভুক্ত বইঃ শিশুদের জন্য একটি ভালো বই মানে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তথ্যপূর্ণ করে তোলা। বইতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন চরিত্র, গল্প, গান এবং ঐতিহ্য অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। বিভিন্ন সংস্কৃতিকে সম্মানে করে লেখা শিশুদের এমন বইগুলি তাদেরকে বন্ধু, সহপাঠী এবং সম্প্রদায়ের সদস্যদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারে। সেই সাথে ছোট থেকেই ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি সম্মান ও বোঝাপড়া বাড়াতে শুরু করতে পারে।
তবে, রূপকথার গল্প এবং এ্যাডভেঞ্চার গল্পগুলো নিয়ে কিছু অভিভাবকদের নেতিবাচক চিন্তাধারা রয়েছে। কারণ এগুলো অনেক শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক ও ভয় জাগায়। শিশুদের মধ্যে পলায়নবাদের সূচনা করতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা এর বিপরীত দিক অর্থাৎ ইতিবাচক দিকটাতেই নজর দেন বেশি। সেক্ষেত্রে, একজন অভিভাবক তার সন্তানের মনস্তত্ত্ব বোঝে উপযুক্ত বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। লেখককেও এই ধরণের শিশুতোষ বই লিখতে গিয়ে শিশুর বয়স এবং তার ধারণ ক্ষমতা বিবেচনায় রেখেই গল্পের প্লট, চরিত্র ঘটনায় রহস্য বা উত্তেজনার উপর ভারসাম্য রাখা দরকার।
একটি ভালো শিশুতোষ বই শিশুরা সত্যিকার অর্থে উপভোগ করে। শিশুরা যখন একটি ভাল বই খুঁজে পায় যা তাদের সাথে অনুরণিত হয় তখন তারা এটি একাধিকবার শুনতে বা পড়তে চায়। উচ্চ মানের শিশুদের বই শিশুদেরকে তাদের নিজের সম্পর্কে এবং বিশ্ব সম্পর্কে উন্মুক্ত চিন্তা করতে শেখায়, তাদের জ্ঞানীয় বিকাশ ঘটায়
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন