https://www.prothomalony.com/

7974

opinion

অভিমত

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারী ২০২৪ ১১:১৩

নতুন বছর, নতুন সম্ভাবনা, নতুন প্রত্যাশা

স্বাগতম ২০২৪। রক্ত ও বেদনায় ২০২৩ সাল শেষ হলো যুদ্ধের ডামাডোলে। ঘটন-অঘটনের পালা শেষ করে শুরু হয়েছে নতুন বছর। প্রত্যাশা-প্রাপ্তির যোগসূত্র মিলিয়ে এবার পূর্ণ উদ্যোমে এগিয়ে যাওয়ার পালা। নতুন বছরকে আরও কার্যকর করার আকাঙ্খা সকলের। গত বছরে দেশে যেমন অনেক দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে, তেমনি কিছু কিছু ক্ষেত্রে থেকে গেছে অপূর্ণতা। আর তাই নতুন বছরে প্রত্যয় হোক অসমাপ্ত কাজ কিংবা প্রত্যাশা পূরণের অঙ্গীকার।

রাজনৈতিক অঙ্গনসহ, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০২৩ ছিল ঘটনাবহুল। নানা চ্যালেঞ্জ এসেছে, উত্থান-পতনের ঘটনাও ঘটেছে। সবকিছু পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বছরের শুরুতেই তাই থাকছে প্রত্যাশিত কিছু চাহিদা যা চলমান উন্নয়নকে আরও বেগবান করতে সক্ষম। 

ইংরেজী নববর্ষ উপলক্ষে দেশের মানুষ ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অন্যান্য বার্তা পাঠানো মাধ্যমে তাদের প্রিয়জনন ও বন্ধু-বান্ধবদের শুভ কামনা জানিয়েছেন। সাধারণত নববর্ষকে সামনে রেখে সারা বিশ্বে বিদায়ী বছরকে বিদায় জানাতে এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ব্যাপক উৎসবের আয়োজন করা হয়।

দেশের অবকাঠামো, অর্থনীতি, কৃষি, আইটি খাতে ব্যাপক উন্নয়ন এবং মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা লাভ করাসহ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের জন্য ২০২৩ সালকে বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগামী ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নববর্ষ উদযাপনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা দেশের মানুষকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য নানাভাবে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করছে। সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং স্মার্ট দেশ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গত ২৭ ডিসেম্বর দলের নির্বাচনী ইস্তেহার ঘোষণা করেছেন।

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কূটনীতিসহ নানা কারণে ২০২৪ একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ বছর নির্বাচনের আগে ও পরে কী হতে যাচ্ছে, সেদিকেই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেশের মানুষের। পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও দেশের মানুষের সার্বিক কামনায় থাকবে।

বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার যে ধারাবাহিকতা চলছে, ২০২৪ সালে তাতে যুক্ত হবে নতুন মাত্রা। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতিক-সব ক্ষেত্রে দেশ আরও এগিয়ে যাবে, এমন প্রত্যাশা সবার। গত বছর যে আশা নিয়ে পথচলা শুরু হয়েছিল, এর অনেকখানি হয়তো পূরণ হয়নি। কিন্তু তাতে কী! নতুন উদ্যম নিয়ে এগিয়ে গেলে সাফল্য আসবেই। আজকের দিনে দেশবাসীর এ প্রত্যয়।

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিএনপি এ নির্বাচন বর্জন করেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ আরও কয়েকটি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বছরের শুরুতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনই দেশের মানুষের সবচেয়ে আগ্রহের বিষয়। কারণ, এ নির্বাচনে জয়ী হলে আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবার সরকার গঠন করবে। সেক্ষেত্রে শরিক দলগুলোর বিজয়ী প্রার্থীসহ কীভাবে সরকার গঠিত হবে, সেদিকেও নজর থাকবে সবার।

গত বছর যুদ্ধসহ নানা অজুহাতে দফায় দফায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ মাছ, মাংস, ডিম ও শাকসবজির দাম বাড়ানো হয়েছে। সারা বছরই সক্রিয় ছিল সিন্ডিকেট। দেশের মানুষ নতুন যে সরকারই আসুক তাদের কাছে এ বিষয়ে প্রত্যাশা রাখবে যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম হাতের নাগালে থাকে। এছাড়া গত বছরের অর্থনীতি, রিজার্ভ, ডলার, রেমিট্যান্সবিষয়ক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশ বজায়ের প্রত্যাশা সবার।

২০২৩ সালে সারা বছরই চোখ রাঙিয়েছে ডেঙ্গু। প্রিয়জন হারিয়েছেন অনেক মানুষ। কিন্তু মশার প্রজনন ও বিস্তার রোধে সে অর্থে উদ্যোগ দেখা যায়নি। দেশের মানুষ এ বিষয়ে সুরাহা চায়।

সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, রাজনৈতিক হানাহানি, সংঘাত, লড়াই, সহিংসতা চায় না দেশের মানুষ। সবার প্রত্যাশা-সমুন্নত থাকুক মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনা।

২০২৩ সালে বেশি আলোচনায় ছিল ফিলিস্তিনে ইসরাইলিদের নির্বিচারে মানুষ ও শিশুহত্যা। বিশ্বে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে শান্তিময় পরিবেশ বজায় থাকবে-এ চাওয়া পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের।

অভিমত থেকে আরো পড়ুন