https://www.prothomalony.com/

7002

bangladesh

বাংলাদেশ

মহাখালীর খাজা টাওয়ারে আগুন, সারাদেশে মুঠোফোন ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা ব্যহত

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৩ ০৪:১৬

মহাখালীর খাজা টাওয়ারে লাগা আগুনের কারণে সারাদেশে মুঠোফোন ও ব্রডব্যান্ড সেবা ব্যাহত হচ্ছে। দৈনন্দিন কার্যক্রম শেষ করতে বিপাকে পড়েছে বহু প্রতিষ্ঠান। চেক ক্লিয়ার করতে পারেনি অনেক ব্যাংক।

২৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ওই ভবনে আগুন লাগে। এরপর থেকে অনেক মুঠোফোন নম্বরে কল করা যাচ্ছে না বলে গ্রাহকেরা জানিয়েছেন। ব্রডব্যান্ড এবং মোবাইল, কোথাও ঝামেলাহীন ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন না গ্রাহকরা।

এই বিষয়ে মুঠোফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, খাজা টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোবাইল অপারেটরদের একে অপরের মধ্যে ভয়েস কলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ওই ভবনে ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) থাকার কারণে এমনটি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইসিএক্স অপারেটরদের সহযোগিতায় মুঠোফোন অপারেটররা দ্রুততম সময়ের মধ্যে আন্তসংযোগ ব্যবস্থা অন্যত্র পুনঃস্থাপনের জন্য কাজ করছে। দ্রুতই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে বলে তারা আশা করছে।

এই ঘটনায় ইন্টারনেট সেবা ব্যহত হওয়ার কথা জানিয়ে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) কোম্পানিগুলো বলেছে, খাজা টাওয়ারে দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টার রয়েছে। আগুন লাগার কারণে সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ইন্টারনেট–সেবা ব্যহত হচ্ছে।

আগুনের ফলে রাজধানী ঢাকা শহরের বেশিরভাগ এলাকা ইন্টারনেটহীন অবস্থায় আছে বলে জানায় আইএসপিএবি। সংগঠনটির সভাপতি ইমদাদুল হক জানান, কয়েকটি আইআইজি অপারেটর ওই ভবন থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে, যেখান থেকে ব্যান্ডউইথ পায় ব্রডব্যান্ড ও টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। আইআইজি থেকে ব্যান্ডউইথ না পাওয়ায় মোবাইল ইন্টারনেট ও ভয়েস সংযোগও ব্যাহত হবে। তিনি আরো জানান, সারাদেশের ৭০ শতাংশ ইন্টারনেট ব্রডব্যান্ডের মাধ্যমে খাজা টাওয়ার থেকে দেওয়া হতো। এখানে আগুন লাগায় সারাদেশেই ইন্টারনেটসেবা ব্যহত হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি জায়গায় বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেসব জায়গাতেও ইন্টারনেট কানেকশন দুর্বল।  মুঠোফোনে ইন্টারনেট সেবা সচল রয়েছে বলে জানান তিনি। 

এদিকে সারাদেশের ইন্টারনেটসেবা ব্যাহত হওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন গ্রাহকরা। ব্রডব্যান্ড সেবার পাশাপাশি মোবাইল ইন্টারনেটেও ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এ সেবাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইন্টারনেটকেন্দ্রীক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। অনেকগুলো ব্যাংক গ্রাহকদের চেক ক্লিয়ারিং করতে পারেনি। এ কারণে অনেক গ্রাহকের লেনদেন সম্পন্ন হয়নি। এছাড়া বিকাল ৫টার পর থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা বন্ধ রয়েছে।

ইন্টারনেট কেন্দ্রীক বেশকিছু প্রতিষ্ঠান যেমন আইটি হাউস, পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকা, টিভি চ্যানেল এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম প্রায় বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীক পরিচালিত হওয়া কোনো পত্রিকা বা অনলাইন পত্রিকা নির্বিঘে কাজ করতে পারছে না বলে জানা গেছে। অতিপ্রয়োজনীয় এ সেবাটি বন্ধ হওয়ায় বিমান, ট্রেন, বাস ও লঞ্চের অনলাইন টিকিট কাটা যাচ্ছে না।

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ফ্রিল্যান্সাররা। এ খাতের কর্মীদের কাজ সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ভিত্তিক। ইন্টারনেট সেবা ব্যহত হওয়ায় কাজ করতে পারছেন না তারা। 

মহাখালীর আমতলী এলাকার খাজা টাওয়ারটি ১৪ তলা। ভবনটির ১১, ১২ ও ১৩ তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সার্ভিসের সাথে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা যোগ দিয়েছেন। 

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন