https://www.prothomalony.com/
6842
bangladesh
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৩ ১০:২৯
প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছে বাংলাদেশ সোসাইটির ব্যাংক একাউন্ট। অল্পের জন্য অর্থ খোয়া যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে সংগঠনটি। ব্যাংক একাউন্ট থেকে জালিয়াতি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। সহসাই এ নিয়ে পুলিশ একাধিক বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করতে পারে বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশ সোসাইটির সকল ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এ ঘটনা অনুসন্ধান করছে। সোসাইটির অর্থ আত্মসাতের প্রচেষ্টায় সংগঠনের পক্ষে পুলিশ রিপোর্ট করেছেন কোষাধ্যক্ষ নওশেদ হোসেন। ঘটনার সাথে জড়িত মামুন আবু ও রফিক উল্লাহ নামের ২ জন বাংলাদেশির নাম এসেছে। এফবিআই ইতোমধ্যে একজন বাংলাদেশিকে সনাক্ত করলেও তার বিস্তারিত জানা যায় নি। শুধু একজন বাংলাদেশি, নাকি এর পেছনে কোনো চক্র কাজ করেছে তার তদন্ত চলছে। প্রথম ৫ হাজার ডলারের চেক জালিয়াতির পর তাৎক্ষণিক ব্যাংকে অভিযোগ জানানো হয়। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরো দুটি চেকে ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার ক্লিয়ারেন্স পায় । ঘটনা নজরে আসার সাথে সাথে তৎপর হওয়ায় জালিয়াতির অর্থ পুরোপুরি ফেরত পাওয়া গেছে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে টিডি ব্যাংক ডিটমার্স বুলেভার্ড শাখা থেকে একটি ফোন আসে। একজন নারী কর্মকর্তা জানান, জনৈক মামুন আবু ৫ হাজার ডলারের একটি চেক জমা দিয়েছেন। চেক নম্বর ২৯০৩। চেক ইস্যুর তারিখ লেখা ১৯ সেপ্টেম্বর। চেকের মেমোতে উল্লেখ করা হয়েছে ৭৩ স্ট্রিটে স্টেজ প্রোগ্রামের। নারী কর্মকর্তার কাছ থেকে এই তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চেকটি পরিশোধ না করার অনুরোধ জানানো হয়। ব্যাংক আর চেকের অর্থ পরিশোধ করে নি।
২০ সেপ্টেম্বর শনিবার বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রব মিয়া ও নওশেদ ব্যাংকে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে হিসাবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। এরপর সতর্কতার সাথে ব্যাংকের হিসাবে নজর রাখছিলেন কর্মকর্তারা। কিন্তু একইদিন বিকেলে নওশেদ দেখতে পান ব্যাংক হিসাব থেকে ১৪ হাজার ডলার তুলে নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের একাউন্টে জনৈক রফিক উল্লাহ নামে ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারের একটি চেক জমা করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক ১৪ হাজার ডলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কোষাধ্যক্ষ নওশেদ জানিয়েছেন, আমি তাৎক্ষণিক টিডি ব্যাংকের কল সেন্টারে ফোন করে এ ব্যাপারে আপত্তি জানাই। সাথে সাথে ১৪ হাজার ডলার একাউন্টে ফেরত আসে। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে ২২ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা ১০ মিনিটে একই অ্যাকাউন্টে সংগঠনের সভাপতি আব্দুর রব মিয়ার নামে ২০ হাজার ডলার অয়্যার ট্রান্সফার করা হয়। প্রতারক সভাপতি আব্দুর রব মিয়ার নামে নিজে একাউন্ট খুলে এ অর্থ ট্রান্সফার করে।
টিডি ব্যাংক সোসাইটির কর্মকর্তাদের জানায়, সংগঠনের সভাপতি আব্দুর রব মিয়ার নামে টিডি ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টে সভাপতি নিজে অয়্যার ট্রান্সফার করে ২০ হাজার ডলার নিয়েছেন। অথচ সভাপতি আব্দুর রব মিয়া জানিয়েছেন, টিডি ব্যাংকে তার কোনো অ্যাকাউন্টই নেই। আপত্তির পর ২০ হাজার ডলারও ফেরত এসেছে। উল্লেখ্য কিছুদিন আগে সভাপতির সোস্যাল সিকিউরিটি নম্বর কম্প্রোমাইজড হয়েছে। এমনকী তার ফোন নম্বরও ক্লোন হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- কেউ তার নামে অ্যাকাউন্ট করে এই অপকর্মটি করছিল।এ দিকে সোসাইটির নামের ২টি ব্যাংক একাউন্ট ক্লোজড করা হয়েছে। নতুন একাউন্ট খুলে সংগঠনের কাজকর্ম চালানো হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী বলেছেন, সোসাইটির ব্যাংক হিসাব জালিয়াতির ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম। তিনি বলেন, সোসাইটর সকল অর্থ সবার আমানত। সংশ্লিষ্ঠ সবার সহযোগিতায় অর্থ ফেরত এসেছে। তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক সনাক্ত হবে।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন