https://www.prothomalony.com/

6365

new-york

নিউইয়র্ক

গ্রাউন্ড জিরোতে এখনও লাশ সনাক্ত করা হচ্ছে

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:৪৬

ভয়াল ১১ সেপ্টেম্বর হামলার ২২ বছর পরও মৃত দেহ সনাক্ত হচ্ছে নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোতে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকার মাটিতে সন্ত্রাসীদের হামলা ঘটে। যাত্রী বিমান নিয়ে হামলা চালিয়ে আত্মঘাতী জঙ্গিদল টুইন টাওয়ার নামের বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্রের দু'টি ভবনই মাটিতে মিশিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল। গ্রাউন্ড জিরোতে গড়ে উঠেছে নাইন ইলেভেন মেমোরিয়েল। এ স্থাপনায় দাঁড়িয়ে হাজারও মানুষ স্বজনের জন্য এখনও হাহাকার করতে দেখা যায়। ভয়াল এ নারকীয় হামলায় নিহত সব মানুষের মরদেহ সনাক্ত করা হয়নি এখন পর্যন্ত। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন ও অগ্রসর ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেখে দেয়া ছাই ভস্ম এবং হাড় থেকে নিহতজনের পরিচয় উদঘাটনের চেষ্টা চলমান রয়েছে।
৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস এবং সিটির চিফ ম্যাডিকেল একজামিনার জেসন গ্রাহাম নতুন করে দুই ব্যক্তিকে সনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। সনাক্ত করা ব্যক্তিদের তালিকায় ১৬৪৮ এবং ১৬৪৯ ব্যক্তির নাম পরিবারের অনুরোধে প্রকাশ করা হয়নি। মেয়র অফিসের মুখপাত্র জানিয়েছেন পরিচয় সনাক্ত হওয়া একজন পুরুষ ও একজন নারী জরুরী বিভাগের কর্মি ছিলেন না।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলায় শুধুমাত্র নিউইয়র্কেই ২৭৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। দু'টি বিমান ঝাঁপিয়ে পড়েছিল নিউইয়র্কে। ক্যাপিটল হিলে হামলার জন্য যাওয়া বিমানটি যাত্রীদের হস্তক্ষেপে পেনসিলভেনিয়াতে বিধ্বস্ত হয়েছিল। পেন্টাগনে আরেকটি চতুর্থ বিমানটিও বিধ্বস্ত হলে আমেরিকা জুড়ে সেদিন হাহাকার শুরু হয়েছিল। এ হামলার জের ধরে আমেরিকা আল কায়দা নামের জঙ্গি সংগঠকে দায়ী করে। বিন লাদেনকে ধরতে গিয়ে আফগানিস্তান দখল করে নেয় আমেরিকা। যুদ্ধ ছড়িয়ে পরে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে। ২০ বছরের যুদ্ধে লাখো মানুষের মৃত্যু আর বহু সরকারের পতনের পরও আমেরিকা এ দিনটিকে ফিরে দেখে। শোকের দিন হিসেবে আমেরিকার মানুষ আজও ফিরে দেখে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরকে। এখনও দিনটিতে নারকীয় হামলায় হারিয়ে যাওয়া বহু লোকজনের মরদেহের সন্ধান পায়নি স্বজনরা।

নিউইয়র্ক সিটির দেয়া তথ্য মতে এখনও ১১০৪ জনের মরদেহ সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। গ্রাউন্ড জিরো থেকে সংগ্রহ করা ছাই ভস্ম সব সংরক্ষণ করা আছে। ডিএনএ বিজ্ঞানের দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। এর আগে ২০২১ সালে সর্বশেষ একজনের মরদেহ সনাক্ত করা হয়েছিল। নিহত লোকজনের স্বজন পরিজন তাদের প্রিয়জনের পরিচয় সনাক্ত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। নিউইয়র্কের মেডিকেল একজামিনার অফিস এ নিয়ে ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছে। স্বজনদের ইচ্ছে, যা গেছে তাতো গেছেই। মরদেহটা সনাক্ত করে নামফলকের পাশে দাঁড়ালেও শান্তি পাওয়া যাবে। এমন শান্তির অন্বেষণে প্রতিদিন লোকজন ছুটে আসে ম্যানহাটনের নাইন ইলেভেন মেমোরিয়েলে।

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন