https://www.prothomalony.com/

6223

opinion

অভিমত

বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম আমাদের গর্ব

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৩ ১১:০৭

তাজুল ইমাম। তাঁর সাথে প্রথম দেখা হয় প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার একটি ঘটা করা আয়োজনে। এর আগে বহুবার উনার কথা শুনেছি। কিন্তু সেদিন প্রথম দেখা। সবাই যখন উনার সাথে আন্তরিকতার সাথে কথা বলছেন, ছবি তুলছেন, আমি তখন গুটিয়ে আছি এক কোণে। ছোটবেলা পথেঘাটে শিক্ষকদের দেখলে এমন গুটিয়ে যেতাম। মনে হতো, তাঁরা আমাদের মতো সাধারণ মানুষ না। ছোঁয়ে দেখার ইচ্ছা হতো। বড়ো হওয়ার পর তাজুল ইমামদের মতো মানুষদের পাশে দাঁড়াতে সংকোচ বোধ করি। মনে হয়, তাঁরা আমার মতো সাধারণ কেউ নন, তাঁরা আরো উর্ধ্বের কেউ। 

তাজুল ইমাম। সবাই উনাকে চেনেন। একজন বীর ও গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম, দেশকে প্রাণ দিয়ে ভালবাসেন, দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। তাজুল ইমাম একজন ভার্সেটাইল সত্তার মানুষ। যিনি একাধারে একজন ‌গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী, চিত্রকর ও ডিজাইনার। ছবি আঁকতে ভালোবাসেন তিনি। বইয়ের অলঙ্করণ ও প্রচ্ছদ করেন। এক সময় পুতুল নাচও দেখাতেন, অভিনয়ও করতেন। তাজুল ইমাম ইচ্ছে হলেই কবিতা-ছড়া লিখতে বসেন। বুদ্ধিদীপ্ত ব্যঙ্গ-কৌতুকে আসর মাতানো-তাজুল ইমামের আরও একটু গুণগত বৈশিষ্ট্য। 

যেদিন প্রথম শ্রদ্ধেয় তাজুল ইমাম ভাই প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সাপ্তাহিক সম্প্রচার 'টক অফ দ্য উইক'-এ এলেন, সেদিন বুঝতে পারলাম, মানুষটা কত আন্তরিক, প্রাণখোলা। সেদিন থেকেই একজন মুক্তিযোদ্ধার সাথে কথা বলার যে সংকোচ বোধটা ছিল, তা ধীরে ধীরে কিছুটা কাটতে লাগল। গান শুনলাম তাঁর অনেকগুলো। 

তাজুল ইমাম ৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। চট্টগ্রাম চারুকলা কলেজ থেকে স্নাতক  তিনি।প্রকৃতির গতিগত গতি এখন তার প্রাথমিক আগ্রহ। দৈনন্দিন প্রকৃতির উপলব্ধিতে কাব্যিক পৌরাণিক কাহিনী তৈরি করেন তিনি, যেখানে প্রতিটি চিত্রের তরঙ্গের ধীর গতিতে বস্তুর অভ্যন্তরীণ গতিশীলতা বা সারমর্ম তোলে ধরেন তিনি। তাঁর ক্যানভাসে রঙ কেবল একটি চিত্রকেই প্রদর্শন করে না, একটি সুক্ষ্ম দর্শনও উপস্থাপন করে। যেখানে বার্তা থাকে, কথা থাকে, পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের সংকেত থাকে। থাকে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের করুণ আলোকে সত্যকে তুলে ধরার চিত্র। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম তরুণ বয়সে দেশকে স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধে নেমেছিলেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা দেশকে স্বাধীনকরার জন্য অপরিমিত সংঘর্ষ, সংগঠন এবং বিশেষ প্রতিশ্রুতির জন্য তাদের জীবনের প্রায় সবটুকু অর্পণ করেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা প্রতিশ্রয়, সক্রিয় প্রয়াস দ্বারা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা চিহ্নিত করেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা বীরত্ব, আত্মবল এবং দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি দ্বারা বিপুল প্রতিকূল ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও দেশের মুক্তি নিশ্চিত করেন। একজন তাজুল ইমাম তা-ই করেছেন। পাকিস্তানি শাসনের নির্মূলে একত্রিত হয়ে গুপ্তসংঘাত প্রতিষ্ঠা করেছেন, জনগণের মধ্যে জাগরুকতা বৃদ্ধি করেছেন, প্রতিস্থান প্রদান করেছেন যাতে একটি স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারেন। তাজুল ইমাম সাহস, উদ্যম এবং সংঘাতের মাধ্যমে দেশের মুক্তি নিশ্চিত করেছেন, তাজুল ইমামের মতো বহু বীর যোদ্ধাদের ত্যাগ ও প্রয়াসের ফলে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এই সকল বীরযোদ্ধারা আমাদের রত্ন, মুকুট, আমাদের গর্ব। তাজুল ইমাম আমাদের সেই মূল্যবান রত্নমুকুট, যার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাই কেবল বিলানো যায় জীবনভর। 
একাত্তর পেরিয়ে আজ ২০২৩-এ এসেও তাজুল ইমাম দূর প্রবাসে থেকেও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সুন্দর একটি বাংলাদেশের স্বপ্নে কাজ করে চলেছেন। হে বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম, আপনাকে বিনম্র শ্রদ্ধা। 

অভিমত থেকে আরো পড়ুন