https://www.prothomalony.com/
6194
literature
ওম দেও বুকের উষ্ণতা দিয়ে
শেখর ভট্টাচার্য
তুমি ভালোবাসার জল প্রপাত,আমি মেঘালয় পাহাড়,
মেঘের প্রলেপ সারা অঙ্গে মেখে তুমি হয়ে যাও দেবী আফ্রোদিতি কিংবা সূর্যমুখী।
পাহাড়ের বুকে মেঘের চাদর দিয়ে তুমি ঘুম পাড়িয়ে রাখো,
ওম দেও বুকের উষ্ণতা দিয়ে, যেন ভালোবাসা জেগে ওঠে,
খেলা করে নিকোনো উঠোনে সদ্য ভূমিষ্ঠ হাঁসের ছানার মতো।
তুমি মেঘ থেকে রূপান্তরিত হয়ে অবিরত কেঁদে যাও,
বাতাসে ভেসে ভেসে ছড়িয়ে দিতে চাও উষ্ণতা,
আমি সৌম্য, শান্ত, অপরূপ অ্যাডোনিস, বিরহে কাতর হয়ে
কঠিন পাহাড়ের মতো পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে আছি অনাদিকাল,
তুমি অবিরাম ঝর্ণাধারা হয়ে বয়ে যাচ্ছো বুকের ওপর দিয়ে
একদিন কঠিন পাহাড়ের বুক চিরে ভালোবাসার কোরাস ওঠবে, নদী ও বাতাস বলবে,
"বিতাড়িত অ্যালবাট্রোস এসেছে ফিরে”
মধুচন্দ্রিমার অনন্ত প্রহর শুরু হবে খরাক্রান্ত পৃথিবীর বুকে,
প্রাণের উচ্ছ্বাসে উচ্ছল ঢেউ- গান গাইবে মরা গাঙের;
বিবর্ণ তীরে।
কতিপয় গল্পকথক
আহসান জামান
দিকগ্বিক খুলে পড়ছে অশ্লীলতার
ছায়া; মৃত্যুর মৃণালে জড়িয়েছে
পৃথিবীর আয়ুপথ।
দূরত্বে গড়ে ওঠা বিপুনী মূখর শহরে
সবুজ সজীবতা ছুঁয়ে ছুঁয়ে
জেগে ওঠে হলুদ।
হেমন্ত হীমের চাদর বিছিয়ে নরোম
ঘাসের গায়ে শিশিরের মিছিল
গলে যাচ্ছে গল্পের শিরোনাম।
দূরপাল্লায় ভেসে যায় ডাউন টাউন
কালো অন্ধকার; রেলকামরায় আপার
ক্লাস হাসির হিল্লোলে ডুবে যাচ্ছে
প্রাণঘাতী মানুষের চিৎকার।
পিকনিক
মনজুর কাদের
আমি হই তাজ্জব
বলো দেখি কী কী তে
মিনহাজ শীতেষের
ব্যান্ড পরা টিকিতে
কী নিয়ে সে ব্যস্ত
কবিতা বা গান না
বামুনের পটু হাতে
গোপনের রান্না
সারা বন ম ম করে
সুরুয়ার গন্ধে
ছন্দের সব ভার
মৃদুলের স্কন্ধে
ছেলেদের গামছা ও
মেয়েদের উড়নী এ
কী দারুন হাওয়া পায়
তাজুলের সুর নিয়ে
মুগ্ধতা নিয়ে আমি
খানিকটা যাই ঝুঁকে
সুর নিতে যেই দেখি
সুতপা ও লাইজুকে
জোকসের ঝাঁকা বয়
কৃশ শহীদ উদ্দীন
কেউ ওঁকে তাড়াতাড়ি
এক বাটি দুধ দিন
কবিতায় ভালোবাসি
শেলী আর ভায়লাকে
এরকম গুণী মেয়ে
পাওয়া শুধু যায় লাখে
আমি ভাই দীন হীন
লুঙ্গিতে সাত তালি
খালি পেটে না বুঝেই
তবু দেই হাত তালি।
ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ এখন
শেখ জলিল
পৃথিবীটা যখন খুব কাছের ছিল, এই ধরো ইন্ডিয়ার সাথে অস্ট্রেলিয়া কিংবা আফ্রিকার সাথে আমেরিকা;
তখন তোমার আমার সাক্ষাত হতো খুব
আমাদের দু'জনার ভাষাটাও ছিলো বোধগম্য
আমরা আমাদের চোখের চাহনি দেখেই বুঝে নিতাম
অগাধ অন্তরের চাওয়া-পাওয়া৷
মাঝখানে সৌরঝড় এসেছে, অগ্নুৎপাত হয়েছে
ভূমিকম্পে তছনছ হয়েছে এই পৃথিবী বারবার
আমাদের হৃদয় টুকরো টুকরো হয়ে গেছে সাত-সাতটি মহাদেশে; আমরা দুই শতাধিক দেশ হাজার হাজার ভাষায় কথা বলি, আমাদের নাওয়া-খাওয়া, চাওয়া-পাওয়া সব বদলিয়েছি অনেকবার৷
পৃথিবীটা এখন খুব দূরের হয়ে গেছে! যদিও এসেছে টেলিফোন, ইন্টারনেট, দূরদর্শন-
আমরা হারিয়েছি চিঠির ভাষা, ভালোলাগা কথা
হারিয়ে ফেলেছি অপত্য স্নেহের যত অমূল্য বন্ধন
খুব প্রিয় বিষয়গুলো এখন বন্দিত্ব নিয়েছে অন্তর্জালে
ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ মেসেঞ্জারে, লাভসাইন, ইমোতে
আর তুমি আমি হয়ে যাচ্ছি ভিন্ন ভিন্ন গ্রহের বাসিন্দা কোনো!
শঙ্কাসংকেত
জাফর ওবায়েদ
আটলান্টিক ডিঙিয়ে
বাতাসে সওয়ার হয়ে, কী বার্তা আসে?
শংকাগ্রস্ত শিহরণে বিনাশের ইঙ্গিত।
সে বার্তায়, দৃষ্টি আমার ঝুলে আছে
হাজার মাইল দূরে এক পাগলা হাতির শূঁড়ে;
হাতিটি উপড়াতে চায় তোমার শেকড়।
আমার নির্ঘুমকাল, তোমার চিন্তনে
রাত্রি ও দিনের অভিন্ন মানে।
কবি
দেওয়ান নাসের রাজা
কবিতা লিখেন শুধু, চালচুলা নেই- ঘরে বসে চুপচাপ
সময় কাটান! কবিতার মঞ্চে যেতে ভীষণ আপত্তি
হয়তো সংকোচবোধ করেন কিছুটা-
মুখচোরা স্বভাবের তিনি।
বাজার-সদাই করতে আপত্তি তার, দিজেন্দ্রনাথের মতো জমিদারি থাকলেও হতো,
তবে বিশ্বকবির মতোই ভীষণ বিনয়ী, লুঙ্গি আর ফতুয়া পরতে অভ্যস্ত, মলিন তবুও পরিষ্কার
বর্ষাকালে ভাঙা ঘরে তার বৃষ্টিতে বালিশ ভিজে।
ইচ্ছে হলে চুপচাপ লিখতে বসেন, মাঝেমাঝে ভ্রমণ আর পড়ায় মত্ত হোন পছন্দের বইটিতে
ভাত রান্নায় দেরি হলেই চোখ ভিজে পানিতে, সিনেমা
দেখতে বসে অকারণে আকাশে মেঘখণ্ড জড়ো হয়।
আত্মীয়স্বজন প্রায়ই বলেন, এই অকর্মা লোকের সংসার বিবর্ণ, অনর্থক! শুধু ঘাটে বসে যখন নিজের লেখা কবিতা পড়েন তিনি, দিঘির পানিতে অবিশ্রান্ত ঢেউ ওঠে
গর্বে-আনন্দে আমার এই বুক হুহু করে ওঠে-
আর উচ্ছ্বাসে চোখের পাতা দ্রুত ভিজে যায়।
অভিমান
আহমাদ কাউসার
সুলেখা আকাশের নীল ছুঁতে চেয়েছিল
তবে একা নয় আমাকে নিয়ে।
আমি যখন সুলেখাদের শহর ছেড়ে এসেছি
তখন সুলেখা নির্বাক তাকিয়ে ছিল।
যুগ পরে ফের সুলেখার শহরে পা রাখতেই, নজরুল এভিনিউতে আমি আর সুলেখা মুখোমুখি।
মুখে অভিমানের ছাপ নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে।
কেমন আছো জিজ্ঞেস করতেই, জলে টলমল চোখ।
অনেক কথার পর, সেদিনের
নীল ছোঁয়ার ইচ্ছের কথা বললো।
আমি শহর ছেড়ে আসার পর সে আর
নীল ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখেনি।
নীল ছোঁয়ার ইচ্ছে অধরাই রয়ে গেল সুলেখার।
মানুষের অন্তিম ভাবনা
স্বপন বিশ্বাস
মহাবীর আলেকজান্ডার তার মৃত্যু শয্যায় সেনাপতিদের ডেকে বলেছিলেন, ‘মৃত্যুর পর তোমরা আমার তিনটা ইচ্ছা পূরণ করবে। আমার প্রথম ইচ্ছা, শুধু আমার চিকিৎসকরাই আমার কফিন বহন করবেন। দ্বিতীয় ইচ্ছা, আমার কফিন যে পথ দিয়ে গোরস্থানে যাবে সেই পথে আমার অর্জিত সোনা ও রুপা ছড়িয়ে রাখবে। আর তৃতীয় ইচ্ছা, কফিন বহনের সময় আমার দুই হাত কফিনের বাইরে ঝুলে থাকবে।’
তার সেনাপতি তখন তার এই ইচ্ছার কারণ জানতে চাইলেন। আলেকজান্ডারের দেহ তখন অসাড় হয়ে এসেছে। তিনি দীর্ঘশ্বাস গ্রহণ করে বললেন, আমি মানুষের সামনে তিনটি শিক্ষা রেখে যেতে চাই। আমার চিকিৎসকদের কফিন বহন করতে বলেছি এই কারণে যে, মানুষ বুঝতে পারবে চিকিৎসকেরা মানুষকে সব অসুখ থেকে সারিয়ে তুলতে পারে না। তারা মৃত্যুর থাবা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে অক্ষম। গোরস্থানের পথে সোনা দানা ছড়িয়ে রাখতে বলেছি মানুষকে এটা বোঝানোর জন্য যে সোনা-দানার একটা কণাও আমার সঙ্গে যাবে না। এগুলো পাওয়ার জন্য সারাটা জীবন ব্যয় করেছি কিন্তু নিজের সঙ্গে কিছুই নিয়ে যেতে পারছি না। মানুষ বুঝুক এসবের পেছনে ছোটা সময়ের অপচয় মাত্র। আর কফিনের বাইরে আমার হাত ঝুলিয়ে রাখতে বলেছি মানুষকে এটা জানাতে যে, আমি খালি হাতেই পৃথিবী থেকে চলে যাচ্ছি।
এই গল্পটি হয়তো একটি প্রচলিত গল্প। আলেকজান্ডার শত শত মানুষকে হত্যা করেছে। সাম্রাজ্যের পর সাম্রাজ্য দখল করেছে। তারপর মাত্র ৩২ বছর বয়সে এক অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। সুস্থ হয়ে উঠলে হয়তো তিনি আবার যুদ্ধে যেতেন। তেমনই পরিকল্পনা ছিল তার। তবু হয়তো মানুষ মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্তে ভিন্ন কোন চিন্তা করে।
রবীন্দ্রনাথ তার কৈশোরে রচিত ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলীতে লিখেছিলেন, ‘মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান’। এই অভিব্যক্তি রবীন্দ্রনাথের নিজের নয়। বিরহী রাধার অভিব্যক্তি তার কাব্য ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন। তবে তিনি তাঁর ‘প্রাণ’ কবিতায় নিজের কথা বলেছেন, “মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।” তখন তিনি সবে যৌবনে পা রেখেছেন। পরবর্তিতে রবীন্দ্রনাথকে অসংখ্য নিকটজনের মৃত্যুর অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়ে যেতে হয়েছে। সেই সব অভিজ্ঞতা তিনি প্রকাশ করেছেন তাঁর গানের সুরে। কবিতার ভাষায়। ‘মৃত্যু’ নামের কবিতায় লিখেছেন- “মৃত্যুও অজ্ঞাত মোর। আজি তার তরে/ ক্ষণে ক্ষণে শিহরিয়া কাঁপিতেছি ডরে।/সংসারে বিদায় দিতে, আঁখি ছলছলি/ জীবন আঁকড়ি ধরি আপনার বলি/ দুই ভুজে। ওরে মূঢ়, জীবন সংসার/ কে করিয়া রেখেছিল এত আপনার।”
রবীন্দ্রনাথ কবি ছিলেন। তিনি সাধারণের মাঝে অসাধারণ ছিলেন। সাধারণের ভাবনা থেকে তার ভাবনার জগত হয়তো ভিন্ন ছিল। সাধারণ মানুষ মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্তে কী চিন্তা করে তা হয়তো তাঁর ভাষা থেকে জানা সম্ভব, হয়তো সম্ভব নয়। হয়তো কারও পক্ষেই সেটা সাধারণ চিন্তা হিসাবে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কারণ প্রতিটি মানুষ আলাদা। তার বিশ্বাস, চিন্তা, চেতনা, পারিপার্শিক পরিবেশ, এমন অনেক কিছুই আলাদা। তবু সিমরান মালহোত্রা এমন কিছু সাধারণ চিন্তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন মানুষ যে গুলো মৃত্যুর আগে ভাবে।
সিমরান মালহোত্রা যুক্তরাষ্ট্রে প্যালিয়েটিভ মেডিসিনের ডাক্তার। তাকে ২০১৯ এবং ২০২০ সালে বাল্টিমোর ম্যাগাজিনে উপশমকারী সেবাদানের জন্য সেরা চিকিৎসকের খেতাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি নিশ্চিত মৃত্যু পথযাত্রী রোগীদের কষ্ট উপশমের জন্য সেবা প্রদান করেন। এই সেবা শুধু শারীরীক কষ্ট নয় মানসিক কষ্ট উপশমেও কাজ করে। কিছু দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগী যাদের চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলার আশা ছেড়ে দেয়া হয়েছে অথচ আরও কিছুদিন বেঁচে থাকবেন। তাদের এই সময়ে কষ্ট নিরাময়ের সেবা দেয়া হয়। এই ধরনের সেবা মৃত্যু কষ্ট উপশমের জ্ন্যও দেয়া হয়। আমরা যাকে হস-পিস বলে জানি। এই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে অন্তিম মূহুর্তে রোগীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে হয়, কথা বলতে হয়। ডাঃ সিমরান মালহোত্রা এমন অসংখ্য রোগীর সাথে কথা বলেছেন। ২০২২ সালের মাঝামাঝি হেল্থ ডাইজেস্টের সাথে এক সক্ষাৎকারে তার সেই সব অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন।
ড. মালহোত্রা বলেন, রোগীরা তাদের অজানা ভয়, তাদের পরিবার সম্পর্কে উদ্বেগ, ব্যথার কষ্ট এবং তাদের প্রিয়জনদের পিছনে ফেলে যাওয়ার জন্য দুঃখের কথা জানান। কেউ কেউ শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত আশার প্রদীপটি জ্বালিয়ে রাখেন। হস-পিসের সিদ্ধান্ত জানানোর পরেও জানতে চান, তার বাঁচার কি আর কোন আশা নেই? আরও অনেকে আছেন যারা মৃত্যুর মধ্যে শান্তি অনুভব করেন। তবে প্রায় সব মানুষই আশা করে অন্তিম সময়ে প্রিয়জনরা সবই তার কাছে থাকুক। কেউ কেউ নিজের বিছানায় শান্তিতে মরতে চায়।
ডাঃ মালহোত্রা বলেন, "মৃত্যু হতে পারে আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। জীবনের পাঠ আমরা মৃত্যু পথ যাত্রীদের কাছ থেকে শিখতে পারি। জানতে পারি তাদের অনুশোচনার কথা। আমরা আমাদের জীবনে অগ্রাধিকারগুলি নির্ধারণ করতে পারি। ডাঃ মালহোত্রা বলেন, "দুটি প্রশ্ন আমি প্রায় সব রোগীদের জিজ্ঞাসা করি 'কিসে আপনাকে আনন্দ দেয়?' আর 'আপনার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী?'" এই প্রশ্নগুলি থেকে, আমি খুঁজে পেয়েছি যে মানুষের প্রত্যেকের আলাদা গল্প আছে, কিন্তু তাদের অনুশোচনাগুলি বেশিরভাগই একরকম বা কাছাকাছি।"
তিনি তিনটি সাধারণ অনুশোচনার কথা বলেছেন যা রোগীরা প্রায়শই বলে থাকেন। যার একটি, প্রিয়জনদের সাথে বেশি সময় না কাটানো, কখনও একটি তুচ্ছ মতবিরোধের কারণে প্রিয়জনের সাথে দূরত্ব তৈরি করা। আরেকটি সাধারণ অনুশোচনা, নিজের বা তাদের পরিবারের জন্য সময় উৎসর্গ করার পরিবর্তে কাজের জন্য খুব বেশি সময় ব্যয় করা। তৃতীয় এবং সবচেয়ে সাধারণ অনুশোচনা হল, অন্য লোকেদের প্রত্যাশার জন্য বেঁচে থাকার পরিবর্তে তাদের অন্তরতম আত্মা, তাদের আবেগ এবং তাদের আকাঙ্ক্ষার জন্য সৎ জীবন অনুসরণ করার সাহস আর সামর্থের অভাব।
ডাঃ মালহোত্রা বলেন, জীবন সংক্ষিপ্ত এবং আপনি কখনই জানেন না যে আজই কারো সাথে হয়তো আপনার শেষ দিন হবে। তিনি আরও বলেন, বাঁচতে কাজ করুন, কাজের জন্য বাঁচবেন না। আপনি আপনার পরিবারের সাথে সময় কাটাতে বা আপনার আনন্দদায়ক কিছু করার জন্য কাজ থেকে বিরতি নেওয়ার জন্য কখনই অনুশোচনা করবেন না। তবে আপনি খুব বেশি কাজ করা এবং আপনার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলি মিস করার জন্য অনুশোচনা করতে পারেন।
ডাঃ মালহোত্রা বলেন, নিজের কাছে সৎ থাকুন। আপনার নিজের মনের ইচ্ছা ও আবেগকে অনুসরণ করুন। আপনার জীবন কীভাবে কাটানো উচিত তা অন্যদেরকে নির্দেশ করতে দেবেন না। ডাঃ মালহোত্রা তার দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে মানুষের অন্তিম ভাবনাগুলো থেকে বলতে চেয়েছেন, আনন্দে বাঁচুন। সবাইকে নিয়ে বাঁচুন। শুধু কাজের মধ্যে নয়, ভালোবাসার মধ্যে বেঁচে থাকুন।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন