https://www.prothomalony.com/
5976
literature
ভয়
শামছুন ফৌজিয়া
মনিকা আর মিহিনের বিয়েটা হয়েছে মাত্র একমাস হল।দুজনের এ্যারেন্জ ম্যারেজ, কনে দেখার দিন প্রথম দেখাতেই মনিকাকে ভালো লেগে যায় মিহিনের। দুজন যখন একান্তে কথা বলার সু্যোগ পায় তখনই একে অপরের বিষয়ে টুকটাক জেনে সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা বিয়ে করতে পারে। সবরিছুই ঠিকঠাক মত হয়েছে, ট্রাফিক সার্জেন্ট মিহিনের ব্যাপারে মনিকা কোন অমত করেনি। সে মাত্র কলেজ গ্র্যাজুয়েশন করেছে,বাবা মায়ের পছন্দের ছেলে মিহিনের সাথে আলাপ করে মনিকা বুঝতে পেরেছে, মিহিন সুন্দর মনের ছেলে।
শ্বশুরবাড়িতে প্রথম রাত মনিকার কাটল ঘোরের মাঝে। নতুন পরিবেশে সবার সাথে পরিচিত হয়ে এবং গল্প করে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে যখন ঘুম ভাঙ্গে তখন মিহিন গভীর ঘুমে। মনিকা বাথরুমে গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেস হয়ে নেয়। দরজায় কেউ নক করছে। সে ঘুমন্ত মিহিনের দিকে চেয়ে ইতস্ততঃ করে দরজা খুলে দিল।মিহিনদের বাড়ির পুরানো বয়স্কা রেনু বুয়া বলল, “আম্মা আপনাদেরকে নাস্তা খেতে ডেকেছেন”।
দিনের বেলা অনেক হৈ হুল্লোড় বিয়ে বাড়িতে চলল। মিহিন বাজারে গিয়ে ইয়া বড় দুটি রুই মাছ নিয়ে আসল। শুরু হল নতুন বউকে দিয়ে মাছকাটার উৎসব! মনিকা যে মাছ কখনো কাটেনি তা না, তবুও হাত কাঁপছিল। সন্ধ্যারাতে গানের আসর শুরু হল, কাগজে লিখা আছে গানের কলি যার যেটা উঠে, সে সেটাই চেষ্টা করছে গাইতে। মনিকার ভীষণ হাসি পেলো, মিহিনের গান শুনে! মিহিনের গানের গলা একদম বাজে! বেচারা না না করছিল তবু রেহাই পায়নি।
বিয়ের দ্বিতীয় রাতে তারা গল্প করতে করতে এগারোটার মধ্যেই ঘুমোতে গেল। মিহিনের ঘুম ভাঙ্গল মনিকার কান্নার শব্দে। মনিকা পাশে নেই, কান্নাটা বাথরুম হতে আসছে, সে নক করল, মনি কি হয়েছে কাঁদছ কেন?
মনিকা কোন জবাব দিল না। মিহিন দেখল দরজা খোলাই আছে। মনিকা বাথটাবের ভেতর আধা জলের মধ্যে বসে কাঁদছে। সে মনিকাকে রুমে নিয়ে এল, প্রশ্ন করেও কান্নার কারণ জানতে পারেনি। মিহিন কাউকে বলল না কিছু। ভাবল, মনিকা নিজে থেকে হয়তো বলবে।
পরেরদিন রিসিপশন পার্টি ছিল। দুজনের সুন্দর সব ছবি তোলা হল, আনন্দময় পরিবেশে বিয়ের উৎসব শেষ হল। মনিকা খুবই হাসি খুশি মেয়ে, মিহিনের পুরো পরিবারের সাথে মিশে যেতে সময় লাগেনি। সবাই মনিকাকে একই মধ্যে আপন করে নিয়েছেন। মিহিনও কাজে যোগ দিয়েছে।
ক'দিন পর, হঠাৎ ঘুম থেকে মনিকা চিৎকার করে জেগে উঠল-ভূত ভূত বলে! মিহিন ডিউটি শেষ করে বেশ রাতে ফিরেছিল, তাই গভীর ঘুমে ছিল। কিন্তু মনিকার চিৎকারে জেগে উঠল। বলল, কী হয়েছে? তুমি কী ভয় পেয়েছ?
মনিকা বলল, ভূত! আঙ্গুল দিয়ে কাচের জানালার দিকে দেখাল, ঐ যে ভূত! মিহিন বলল, এখানে ভূত নেই, আমার সাথে আসো দেখ কিছুই নেই! মনিকা বলল, কালো ভূত জানালার মধ্যে হাত নাড়ছিল!
মিহিন দেখল দূরে সুপারি গাছের মাথাটা বাতাসে দুলছে আর সেই ছায়া জানালায় এসে পড়েছে।চাঁদনী রাত থাকায় সুপারি গাছের ছায়াকে ভূত মনে করছে মনিকা। সে বুঝিয়ে বলল, ভূত বলতে এখানে কিছু নেই মনি।
একমাসের মাথায় মোটামুটি বাড়ির সবাই জেনে গেছেন, মনিকা ভূতের ভয়ে অস্থির।এ নিয়ে মনিকার বাবা মা খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন।কারণ তারা জানেন মনিকার ছোটবেলা থেকে ভূতের ভয় আছে। কাল্পনিক ভূতের গল্প শুনে শুনে সে নিজে নিজেই ভূতের কবলে পড়ে। হরোর শো দেখে একবার সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল। সেই থেকে হরোর শো দেখা নিষেধ তার। মিহিনকে মনিকার বাবা মা সব খুলে বললেন। এ নিয়ে মিহিন মনিকাকে ডাক্তারের কাছেও নিয়ে গেল।
এদিকে তাদের বিয়ের সাতমাস চলছে, মনিকার মধ্যে আর এ ভয় আসেনি। সে মাস্টার্সে ভর্তি হলো। সংসার আর কলেজ সব মিলিয়ে বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
কিন্তু একরাতে মনিকা আবারো জোরে চিৎকার করে উঠল, সাপ সাপ! বলে ! মিহিন দেখল মনিকার চোখ বন্ধ, শুধু কাঁদছে। তার হাতের ওপরে মাথা, আর চুলের বেনী হাতের ওপরে পড়েছে। মিহিন জানে মনিকা খুব ভয় কাতুরে তাই বলল, কোথায় সাপ? সে বাতি জ্বালিয়ে দিল! এবার মনিকা আরেক হাত দিয়ে চোখ বন্ধ অবস্থায় চুলের বেনী দেখিয়ে বলল এই দেখ এখানে ! মিহিন হেসে উঠল, তুমি না একটা ছিঁচ কাঁদুনে মেয়ে! ভয় কাতুরে তো বটে! নিজের চুলের বেনী দেখে সাপ মনে করছ।
মনিকার ভূতের ভয় পাওয়া নিয়ে পরিবারের সবাই কিছুটা বিরক্ত! এ যুগে এমনও হয় নাকি! শিক্ষিত একটি মেয়ে ভূতের ভয় পায়!
মিহিন বউকে নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে গেল। ডাক্তার বলেছেন, মনিকাকে আনন্দে রাখতে, তাহলে ওর ভেতর হতে ভয় দূর হতে পারে। কক্সবাজারে গিয়ে হোটেলে উঠল তারা। দুজনে একসাথে খুব আনন্দে সময় কাটাল, শপিং করা, সমুদ্র সৈকতে হাঁটা সহ ছবি তোলা সব মিলিয়ে দারুণ সময় কেটেছে। মিহিন যদি সমজদার না হতো তাহলে মনিকাকে বুঝতেই পারত না। মনিকা কতবার কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।
বিয়ের দেড় বছরের মাথায় মনিকা প্রেগন্যান্ট হলো। পরিবারে নতুন অতিথি আসবে সবাই খুশি। কিন্তু মনিকার মধ্যে সেই ভূতের ভয় আরো তীব্র হতে লাগল। রোজ রাতে সে দেখতে পায়, একটা কালো বিকট চেহারার ভূত তাকে ডেকে বলছে, মনি চলে আয় ! তুই আমাদের দলের! ভুল করে ছিটকে চলে গেছিস ওদের ঘরে!
মনিকা এই দুঃস্বপ্ন বার বার দেখছে। মিহিনকে বলছে,আমাকে ঐ যে ভূত ডাকছে, না গেলে গলা টিপে মেরে ফেলবে! মিহিন ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেল। সবাই বলছিল, সন্তান নিলে মনিকার ভয় দূর হয়ে যাবে, সে ব্যস্ত থাকবে। কিন্তু এখন উল্টো হল! যত দিন যাচ্ছে মনিকার ভয় ততই বাড়ছে।
মিহিন তাকে সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে নিয়ে গেল। মনিকার চিকিৎসা চলছে। ঔষধ খেয়ে বেশিরভাগ সময় সে ঘুমিয়ে থাকে। মিহিনের খুব খারাপ লাগে, এত মিষ্টি একটা মেয়ে দিন দিন কেমন হয়ে যাচ্ছে! অনেক টেনশন মিহিনের, কিভাবে বাচ্চাটার জন্ম হবে! অনাগত সন্তান সুস্থতা নিয়ে জন্ম নিবে তো? মনিকা কি সুস্থ হবে?
মিহিন ডিউটির পাশাপাশি মনিকার যত্ন নেয়,অনেক গল্প করে। জানতে পারে, মনিকা খুব ছোট বয়সে পাশের বাড়ির একজন মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখে ভয় পেয়েছিল। ঐ লোকটি লোহার জিঞ্জির দিয়ে বাঁধা থাকত! তারা যখন স্কুলে যেত ঐ পথ দিয়ে লোকটি সবার নাম ধরে ডাকত। কেউ ভয়ে লোকটির কাছে যেতোনা।গ্রামের সবাই তাকে নাসির পাগলা ডাকত। একদিন মনিকা একা স্কুলে যাচ্ছিল ,নাসির পাগলা খুব অনুনয় করে ডেকে বলছিল, মনিকা এদিকে আয় মা। কিচ্ছু করব না। এই দেখ পেয়ারা আছে এগুলো নিয়ে যা। মনিকা চলেই যাচ্ছিল, নাসির পাগলার ডাকে ভয়ে কাছে গিয়ে যেই পেয়ারায় হাত দিবে অমনি লোকটি তার চুলের মুটি ধরে টান দেয়। মনিকা ভয়ে ও মা গো বলে চিৎকার দিতেই সবাই শুনতে পায়। সেদিন লোকজন যদি না দেখত মনিকার বাঁচা কঠিন হত। সেই থেকে মনিকার ভেতরে ভয় কাজ করে আর বেশিরভাগ কাল্পনিক ভয়ে সে তটস্থ থাকে।
মিহিন মনিকাকে এত বেশি যত্ন দিল যে, শেষ পর্যন্ত মনিকা একটি ফুটফুটে মেয়ের জন্ম দিল। নবজাতকের মুখের দিকে তাকিয়ে মনিকার চোখে আনন্দে জল গড়িয়ে পড়ল! মিহিনের হাতে নিজের হাতটি রেখে বলল, তোমার মত স্বামী যার ভাগ্যে জুটবে সেই মেয়ে ভাগ্যবতী। আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ, তোমাদের পুরো পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞ। মিহিন বলে, এমন করে বলনা মনি, স্বামী স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক! আজ যদি আমি অসুস্থ হই তুমি কি আমার সেবা করবেনা? আমাকে সঙ্গ দিবেনা? এখন থেকে আর ভূতের ভয় করোনা, তোমার কোন কিছুতে সংশয় জাগলে আমাকে শেয়ার করবে।দুজনে নবজাতকের মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে উঠল।
মনিকা বলল, আমাদের মেয়ের নাম কি হবে?
আমাদের মেয়ের নাম হবে-মৌরি।
এর বেশি আমাকে জানতে চেয়ো না
অংশুমালী বর্ম্মন
তখন রাত আড়াইটা। একটা কনে বিয়ে বাড়িতে বিদায়ের সুর ভাসছে। মাঙ্গলিক কর্ম বলতে বিয়ে বাড়ির যা কিছু বোঝায়-জামাই বরণ, বিয়ের মন্ডপে বর কনেকে পাশাপাশি বসিয়ে মন্ত্রোচ্চারণ, কন্যা দান, আত্মীয় স্বজনদের থেকে আশীর্বাদ দান। তারপর কনেকে নিয়ে কনের বোনদের দরজায় খিল দেয়া, বরের কাছে টাকা নিয়ে তবে দরজা খুলে দেয়া, সবকিছু প্রায় শেষ। এখন কনে বিদায়ের পালা।
তুমি কনের বান্ধবী, তোমার নাম আমি জানি। কিন্তু আমি তোমাকে সে নামে ডাকি না। আমি তোমাকে নিরু বলি। কেন বলি, তা আমিও জানি না। আর তুমিও কখনো জানতে চাওনি। তোমার সাথে আমার পরিচয় আরো তিন বছর আগে। এক বসন্তের বিকেলে। তখন স্কুল ছুটির সময়। তুমি আর তোমার আরো বেশ কয়েকজন বান্ধবী মিলে আমাদের বাড়িতে যাচ্ছিলে। আজকের কনে আমার আত্মীয়া। আত্মীয়ার বান্ধবী তুমি। সেই সূত্রে পরিচয়। না, সেই পরিচয়ে আশ্চর্য কোনো ঘটনা ঘটেনি। শুধু আমি একজোড়া মায়াবী, টানা টানা চোখের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলাম। আমিও যেমন জানতাম, সেরকম তুমিও জানতে, ঐ মায়াবী চোখ জোড়া তোমারই।
তারপর অনেক দিন কেটে গেছে। পরিচয় আরো ভালোভাবে হয়েছে। মাঝেমাঝে ফোনে কথা হতো। বসন্তের পর বসন্ত পার হয়েছে। আমি প্রথম দেখায় যেমন মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলাম, এখনও সেরকমই তাকিয়ে থাকি।
তুমি ধীরে ধীরে নিরু হয়ে গেছ। আজ এই বিয়ে বাড়িতে তুমি আর আমি পাশাপাশি বসে আছি। তোমার বান্ধবীর বিয়ে হয়ে গেল, আর কিছু সময় বাদে বিদায় হবে। তুমি আমাকে বললে, তুমি বাড়ি যাবে।এগিয়ে দিতে হবে।
'এত রাতে? এখন রাত প্রায় আড়াইটা!'
'আমাকে যেতেই হবে। হাতে অনেক কাজ। রাতের এইটুকু সময় ঘুমাতেই হবে। না হলে চলবে না!'
'তোমাদের এদিকের সবকিছু আমি ঠিক জানি না। শেয়াল ধরবে নাতো।'
'আপনি শেয়াল ভয় পান?' -নিরু হাসল।
'হুম, অনেক ভয় পাই। কেন তোমার ভয় লাগে না?'
নিরু হাসছে। এই উজ্জ্বল আলোতে তার হাসি দেখছি আমি। আর হারিয়ে যাচ্ছি যেন ভাবনার জগতে। এত সুন্দর কি করে হাসতে পারে নিরু?
'কী ভাবছেন। আমি তো আছি। শেয়াল আসবে না।'
'তাই বললে কি হয়, পাকা রোড ধরে যেতে হবে আমাদের, মাতাল ঘুরবে না? যদি ওরা আমাদের ধরে। তাহলে কি শেয়াল ধরার থেকে কম হবে মনে করেছ।'
'তেমন কিছুই হবে না। চলেন।'
বিয়ে বাড়ি থেকে বের হলাম। নিরু আর আমি। ও সামনে, আমি পিছনে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আলো থেকে অন্ধকারের দিকে হাঁটছি। বিয়ে যে পাড়ায়, সেই পাড়া থেকে বেরিয়ে একটা বড় রাস্তায় চলে এলাম। এই রাস্তা ধরে এক কিলোমিটার এগোলে নিরুদের বাড়ি। নিরুর মতো আকর্ষণীয় চেহারার একটা মেয়ের সাথে এত রাতে হাঁটছি, তেমন কিছু মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে, আমাদের এই পথ যেন খুব দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। যেতে যেতে নিরু বলল,
'এত রাতে আমাকে এগিয়ে দিচ্ছেন। মনে কোনো কিছু আবার নেই তো?'
'মনে কিছু থাক বা না থাক, মন তো কিছু চাইতেই পারে।'
'এই আপনার মনের বাসনা? দুষ্টামি করবেন না কিন্তু।'
'আরে না৷ তোমার সাথে কি দুষ্টুমি করতে পারি!'
হাতটা এগিয়ে দিলাম তার দিকে। সে আমার হাতটা ধরে বলল, 'এই ছুঁয়ে দিলাম আপনাকে। এই চাঁদনি রাতের নির্জনতাকে সাক্ষী রেখে বলছি, এ জীবনে আর কারো সাথে রাত আড়াইটার সময় কোথাও যাবো না। যাওয়া হবে না'
জোসনার মুগ্ধ আলোতে পথঘাট মোহময় লাগছে। আমরা একে অপরের প্রতি মোহিত। হঠাৎ একটা পেঁচা ডেকে উঠলো পাশের একটা গাছে। নিরু ভয় পেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরল। পিঠে হাত রেখে বললাম, এই তোমার সাহস?
নিরু মাথা উঁচু করল। ঈষৎ ঘোলা সম্মোহনী দৃষ্টিতে আমার দিতে তাকালো। তারপর, তার তপ্ত ঠোঁট আমার ঠোঁটের উপর ছুঁয়ে দিল।
দ্রুত আমার অস্থিরতা বাড়তে লাগল। যেন বোধশক্তির সবটাই হারিয়ে ফেললাম। মনে হলো, এটা কোনো বাস্তবতা নয়, স্বপ্ন। আরো গভীরে যেতে চাচ্ছিলাম। আর তখনই, নিরু তার সালোয়ারের ফিতার ওপরে রাখা আমার হাতটা চেপে ধরে বলল, প্লিজ! এর বেশি আমাকে জানতে চেয়ো না।
একি করতে যাচ্ছিলাম! নিজেকে নিরুর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করলাম তড়িৎ! তখন রাত ক'টা জানি না। ঘড়ি দেখার মতো ইচ্ছে নেই। আবার দুজনে হাঁটছি। এই পথ যেন এখন শেষই হচ্ছে না!
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন