https://www.prothomalony.com/
5656
new-york
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৩ ০৫:০৬
১৪ জুলাই শুক্রবার জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে যত বই, তত প্রাণ' এই শ্লোগান নিয়ে নিউইয়র্কে শুরু হয়েছে বাংলা বইমেলার ৩২তম আসর।
চার দিনের ‘নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা’র নাম পরিবর্তন করে ‘নিউইয়র্ক বাংলা আন্তর্জাতিক বইমেলা’র ঘোষণা দেওয়া হলো।
‘ভারত, বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, জার্মানী, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের বাঙালি এই মেলায় অংশগ্রহণ করায় তার ব্যাপ্তি বিস্তৃত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী, তাই এটিকে আন্তর্জাতিক বইমেলা নামকরণে কোনো দ্বিধা থাকতে পারে না। বিপুল করতালির মধ্যে উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে এই ঘোষণা দেন প্রথমে বইমেলার আহ্বায়ক বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. আব্দুন নূর এবং এরপরই মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন্নবী। সামনের বছর ৩৩তম বইমেলার নামকরণ হলো ‘নিউইয়র্ক বাংলা আন্তর্জাতিক বইমেলা’।
বীর প্রতিক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. সিতারা রহমানকে পাশে নিয়ে কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় মেলা কমিটির সকল কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন । এরপরে মূলমঞ্চে ৩২ জন খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিক-লেখক-প্রকাশককে উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয় এবং তাঁরা সবাই মঞ্চে রাখা প্রদীপ জ্বালান।
প্রধান অতিথি বীর প্রতিক ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. সিতারা রহমান বলেন, ‘আমি এখানে এসে এতো আনন্দিত, খুশি এবং গর্বিত। মনে হচ্ছে যে, আমার বীর প্রতিক খেতাব পাওয়াটা বোধহয় স্বার্থকই হয়েছে। কারণ, এখানে এত বাঙালি-বাংলাদেশ, কলকাতা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, অস্ট্রিলিয়া থেকে এসেছেন, সবারই একটি পরিচয়, তা হচ্ছে বাঙালি।’
জীবিত একমাত্র বীর প্রতিক খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. সিতারা রহমানের ৭৮ বছর বয়স। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হলেও মনোবল হারাননি। তবে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না বলে চেয়ারে বসে বক্তব্য প্রদানের জন্য সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড.মনিরুল ইসলাম বলেন ' বাংলাদেশের লেখক-কবি-সাহিত্যিকগণের মধ্যে যারা এই প্রবাসে স্থায়ীভাবে বাস করছেন তাদের সেই সত্ত্বা অটুট রেখে বাঙালি সংস্কৃতির ফল্গুধারা নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপনের চমৎকার একটি পরিবেশ তৈরি করেছে এই বইমেলা। একইসাথে যারা বাংলাদেশে থাকতে লেখালেখির সাথে যুক্ত ছিলেন না, তাদেরও একটি অংশ এই প্রবাসে লেখালেখিতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন এবং উৎসাহবোধ করছেন গত ৩২ বছরের এই মেলা থেকে। প্রিয় মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা, আবেগ, যে অনুভূতি তা প্রকাশ করার জন্য অনেকে লেখছেন অথবা উদ্যোগী হয়েছেন। তাই এই বইমেলা শুধু বই পড়ার জন্যই নয়, নতুন লেখক সৃষ্টিতেও অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখছে।’
লেখক-সাংবাদিক শামিম আল আমিন এবং উর্বি হাই এর উপস্থাপনায় প্রথম পর্বে আরো বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন, আবৃত্তি শিল্পী আহকাম উল্লাহ, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার এ জেড এম সাজ্জাদ হোসেন, কলকাতা বইমেলার সভাপতি সুধাংশ শেখর দে, সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।
এর আগে প্রদীপ প্রজ্বলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’র প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম পৃষ্ঠপোষক এবং শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবিদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজবাহউদ্দিন আহমেদ, লেখক-সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস, লেখক ফেরদৌস সাজেদীন, জসীম মল্লিক, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি বিশ্বজিৎ সাহা প্রমুখ।
এবারের বইমেলায় দেশ ও প্রবাসের ২৫টি প্রকাশনা সংস্থা ছাড়াও শতাধিক লেখক-সাহিত্যিক-কবি-প্রাবন্ধিক এসেছেন। নতুন বইয়ের সংখ্যা দুই হাজার বলে আয়োজকরা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ, কলকাতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা শিল্পীরা বিভিন্ন পর্বে অংশ নেবেন। রয়েছে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণে ‘শিশু-কিশোর যুব উৎসব’।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন