https://www.prothomalony.com/

5424

entertainment

বিনোদন

৩৪ বছরের নাট্যর্চ্চার স্মারক প্রদর্শনী ও লালজমিনের মঞ্চায়ন

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৩ ০৯:৪৯

২৪ জুন শনিবার নিউইয়র্কে গত ৩৪ বছর ধরে যে বাংলা নাট্যর্চ্চার হচ্ছে তা নিয়ে এক অন্য ধরনের প্রদর্শনী হয়ে গেল জ্যামাইকা আর্টস এন্ড লার্নিং সেন্টারে। শনিবার সন্ধ্যায় জ্যামাইকা আর্টসের গ্যালারিতে গত ৩৪ বছরের বাংলাদেশীদের মঞ্চস্থ নাটকের কিছু পোস্টার, বাংলাদেশ থিয়েটার অব আমেরিকার নিজস্ব নাটকের আলাদা কর্ণারে বিভিন্ন নাটকের দৃশ্য, অন্যান্য নাটকের স্টিল ছবি, এতদিনের নাট্যচর্চায় জড়িত নাট্যজনদের ছবি এবং এই এত বছরের নাট্যচর্চার খবর ও রিভিউ সাপ্তাহিক বাঙালীতে প্রকাশিত হওয়ায় এর একটি খবরের ক্লিপ প্রদর্শিত হয়। এই প্রদর্শনী উদ্বোধন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরই মূলমঞ্চে হয় স্বনামধন্য অভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরীর একক অভিনয়ে সাড়া জাগানো নাটক লালজমিনের মঞ্চায়ন। এই অনুষ্ঠান  আয়োজন করে সুচিত্রা সেন মেমোরিয়াল ইউএসএ।

হাসানুজ্জামান সাকি প্রদর্শনীর  উদ্দেশ্য সম্পর্কে তুলে ধরেন অনুষ্ঠানের শুরুতে, এরপরে ক্ষুদে অভিনয়শিল্পী দয়িতা তালুকদার ফিতা কেটে এই প্রদর্শনী উদ্বোধন করে। প্রদর্শনী প্রাঙ্গনে নিউইয়র্কে যেসব নাট্যজন কাজ করেছেন,  অকালপ্রয়াত এমন চারজন ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়। তাঁরা হলেন অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমেদ, এস.এম. সোলায়মান, আল মুক্তাদীর এবং ইশরাত নিশাত। 

এই পর্বে নাট্যজন রোকেয়া রফিক বেবি বলেন, আমাদের নাটকের মধ্য দিয়ে একাত্তরকে পৌঁছে দিতে হবে নতুন প্রজন্মের কাছে। নাট্যজন গার্গী মুখার্জী বলেন, শুধু কম্যুনিটির নাটক দেখলেই চলবে না, মূলধারায় যেসব নাটক হচ্ছে তাও দেখতে হবে। তিনি বলেন, বাংলা নাটকের একটি মান যেন আমরা ধরে রাখতে পারি তার চেষ্টা করতে হবে সবাইকে। নাট্যজন রেখা আহমেদ বলেন, ১৪ বছর বয়সে নাটকে অভিনয় শুরু করি। আজ ৭৮ বছর বয়সে এসেও অভিনয় করে যাচ্ছি। তিনি লালজমিন নাটকের শিল্পী মোমেনা চৌধুরীর প্রশংসা করে বলেন, সে চরিত্রে মিশে যেতে জানে। নাট্যজন মুজিব বিন হক বলেন, ভালো নাটক করতে হলে আমাদের ওয়ার্কশপের ওপর জোর দিতে হবে। আমি বরাবর মূলধারার নাটক দেখার ওপর জোর দিয়ে আসছি। নাট্যজন গোলাম সারওয়ার হারুন বলেন, মূলধারায় আমাদের নাটক করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে নাট্যচর্চাকে অব্যাহত রাখতে হবে। ক্ষুদে নাট্যজন দয়িতা তালুকদার বলে, আই এ্যাম থ্রিল্ড। আমাকে হারুন আংকেল সুযোগ করে দিয়েছে নাটকে অভিনয়ের। দয়িতা বলে, আমি বাংলা নাট্যচর্চায় আমার জেনারেশনকে প্রতিনিধিত্ব করছি। নিউইয়র্কস্থ কনসাল জেনারেল ড. মো. মনিরুল ইসলাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আজকের নাটকটি একটি কিশোরীর চোখে দেখা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য এ ধরনের নাটক যত বেশি হবে ততই মঙ্গল। তিনি মোমেনা চৌধুরী অভিনীত লালজমিন নাটকটি সম্পর্কে একথা বলেন।

এই পর্বে প্রধান অতিথি ছিলের ড. মো. মনিরুল ইসলাম এবং সম্মানিত অতিথি ছিলের মুজিব বিন হক ও রেখা আহমেদ।

এরপর শুরু হয় মান্নান হীরার লেখা, সুদীপ চক্রবর্তীর নির্দেশনায় এবং মোমেনা চৌধুরীর একক অভিনয়ে নাটক লালজমিন।

শুরুতেই সূত্রধরের ভূমিকায় তিন তরুণী ও ২ তরুণ নেচে নেচে লালজমিন নাটককে স্বাগত জানান, এই বলে যে ‘আহারে আহারে এলো খুশির দিন নিউইয়র্কে এলো লালজমিন’। তারপর গানের সুরে বলেন এর লেখক, নির্দেশক ও অভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরীর নাম। তারপর জানিয়ে দেয় নাটকটি একাত্তরের চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে চায়। এই পর্বে তিন তরুণী হলেন কানিজ দীপ্তি, সাদিয়া খন্দকার ও দীপা দেবনাত, আর দুই তরুণ স্বাধীন মজুমদার ও সাগ্নিক মজুমদার। ঢোলে শীতেষ ধর, হারমোনিয়ামে ছিলেন মুক্তা ধর। এই সূত্রধরেরা মঞ্চ থেকে নেমে দর্শকদের মধ্য দিয়ে চলে যান।

শুরু হয় লালজমিনের অভিনয়। একাত্তরের মহান ও ভয়াবহ রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ শেষে এক নারীর বেঁচে থাকা, বেঁচে থাকার লড়াইএর চিত্র লালজমিন। মোমেনা চৌধুরী সেই তরুণীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। তবে এক ভূমিকায় নয়, বিভিন্ন চরিত্রে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত ক্ষত এবং যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে যখন আবার ফিরে আসে, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের দাপট তখনও নতি স্বীকার না করে ছড়িয়ে পড়ে। সাহসিকতার পতাকা তুলে ধরে তাদের দমনের এক হৃদয়স্পর্শী কাহিনীকে মোমেনা চৌধুরী তুলে ধরেছেন নিজেকে বিলীন করে দিয়ে।

নাটক শেষে শিল্পীকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়। মোমেনা চৌধুরী কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, নাট্যজন মামুনুর রশীদ তাকে তৈরি করেছেন, নাটক শিখিয়েছেন এবং আজ এতদূর আসতে সহায়তা করেছেন। আয়োজকদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

বিনোদন থেকে আরো পড়ুন