https://www.prothomalony.com/
5233
opinion
যে কোন সম্পর্কের ক্ষেত্রেই এমন একটা সময় আসতে পারে, যখন আপনি লক্ষ্য করবেন যে, আপনার কাছের, পরিচিত বা প্রিয়, পছন্দের মানুষটি আপনাকে ইগ্নোর করতে শুরু করেছে। তখন আপনি আহত হবেন, মনে মনে কষ্ট পাবেন। আপনি ভেবে পাবেন না কেন তিনি আপনাকে ইগ্নোর করছে। হয়তো আপনি তখন অন্যদের কাছে নিজের দুঃখ বা যন্ত্রণার কথা শেয়ার করবেন, এবং সেটা করতে গিয়ে কোন না কোন ভাবে আপনি অপরপক্ষের প্রতিই দোষটা চাপিয়ে দিবেন। কিন্তু মূলত, সম্পর্কের গড়মিলটা কোথায়, তা আপনি ভাববেন না। আর এটাই হিউম্যান ন্যাচার।
লোকেরা আপনাকে ইগ্নোর করার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলির মধ্যে একটি হলো-যখন তারা আপনার চাহিদা, আগ্রহ এবং অগ্রাধিকারের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে না। আপনার চিন্তা ভাবনা, কার্যক্রম, স্বভাব, ইচ্ছার সাথে যখন অন্যের মিল হবেনা, তখন আপনি ইগ্নোরড্ হবেন।
যেমন ধরুন, আপনি একজন ডাক্তার। কিন্তু আপনি এমন এক জনসমাবেশে গিয়ে ভাইরাস ব্যাক্টেরিয়া নিয়ে বক্তৃতা দিলেন, যেখানে কারো সাইনস নিয়ে কোন জ্ঞান বা ধারণা নেই। তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনি তাদের প্রতি আগ্রহ হারাবেন। পরবর্তিতে আপনি আর তাদের সামনে কিছু বলতে চাইবেন না। তখন আপনার মধ্যে তাদেরকে এড়িয়ে চলার সম্ভাবনা চলে আসতে পারে। কিংবা বাকিরা আপনাকে যোগ্য সম্মানে রাখলেও আপনার গবেষণামূলক আলাপ এড়িয়ে যাবে। কারণ তারা আপনার ভাষ্যের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত নন।
লোকেরা আপনাকে ইগ্নোর করার আরেকটি প্রধান কারণ হলো-যখন আপনি অত্যধিক অভাবীমনা হবেন এবং কোন কিছু নিজ দখলে ধরে রাখতে চাইবেন। প্রতিটা মানুষ মুক্ত মিথস্ক্রিয়া পছন্দ করেন। ব্যক্তি বা সামাজিক প্রথা দ্বারা মানুষ বাধ্য হতে পছন্দ করে না। যে কোন সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছায় যা দেওয়া হয়, তার চেয়ে বেশি প্রত্যাশিত হয়ে গেলে, বা জোরপূর্বক চাওয়াগুলো পূরণ করতে বাধ্য করা হলে, সম্পর্কগুলো বিরক্তিতে পরিণত হয় এবং সেখানেই অপর পক্ষ থেকে ইগ্নোরেন্স শুরু হয়। আপনি যদি কারো কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট স্তরের মনোযোগ আশা করেন, সময় আশা করেন, আপনি যা ভাবছেন, বলছেন বা করছেন, তাতে সর্বাবস্থায় অন্যকে সমর্থন করতে বাধ্য করেন, তখন উক্ত ব্যক্তি আপনার থেকে দূরে সরে যেতে পারে। কেননা, প্রতিটা মানুষ মুক্ত থাকতে পছন্দ করেন, কারো নিয়ন্ত্রণে নয়। আপনার এই নিয়ন্ত্রণমূলক প্রত্যাশা ব্যক্তির কাছে দাসত্ব মনে হতে পারে। সেই সাথে আমাদের অতিমাত্রিক অভাব, সমস্যামূলক ধারণা বা বিষয়গুলোর পুনরাবৃত্তিমূলক প্রকাশও- অন্যকে আপনার প্রতি অনিহা জন্মাতে সাহায্য করতে পারে।
কিছুক্ষেত্রে আপনার পরিচিত মানুষগুলো সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে, তারা আর আপনার আশেপাশে থাকতে চান না। এই পরিস্থিতি বা সিদ্ধান্ত তৈরি হবার কারণ কি? খুঁজে বের করুন। ভেবে দেখুন, অপর পক্ষ আপনাকে কেন নিতে পারছে না! যদি সেটা আপনার সাফল্য বা ভালো কোন কাজের প্রেক্ষিতে হয়, তবে সেই ইগ্নোরেন্স এর সাথে আপনার প্রতি ব্যক্তির ঈর্শা ও আঘাতমূলক আচরণ যুক্ত থাকার সম্ভাবনা বেশি। সেটা হতে পারে মৌখিক, আড়ালে বা সাইলেন্ট চ্রিটমেন্টে। ইগ্নোর-আর সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট দুটো আলাদা জিনিস। কাউকে ইগ্নোর করা মানে তাকে নিজ ব্যক্তিজীবন থেকে বাতিল করে দেয়া। আর সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট হলো যেখানে ইগ্নোরেন্স থাকে, জোড়ালো প্রতিবাদ বা প্রতিশোধস্পৃহা থাকে।
অনেক সময় কেউ যদি আপনাকে অত্যধিক সমালোচনামূলক এবং বিচারমূলক মনে করেন, তখনো তারা আপনাকে এড়িয়ে চলতে পারে। আপনি একজন সমালোচক বা বিচারকমূলক ব্যক্তি হয়ে থাকলে, অবশ্যয়ই সেখানে আপনার নিজস্ব কিছু বিশ্বাস, ধারনা, থাকবে। তবে সেটা যে সম্পূর্ণ সঠিক বা তথ্যভিত্তিক, সেটা আপনার কাছে মনে হলেও, অন্য ব্যক্তির কাছে তা মনে নাও হতে পারে। অনেকের কাছে আপনার বিচারমূলক মনোভাবকে ভণ্ডামি বা নিছক পাশবিক অহংবোধের একটি রূপ বলে মনে হতে পারে।
বিচার মৌলিকভাবে একটি দরকারী এবং মূল্যবান দক্ষতা।
কিছু বিচার সঠিক এবং সহায়ক হতে পারে, ঠিক যেমন একজন বণিককে তার মূল্য নির্ধারণের জন্য পণ্যের ওজন করতে হবে এবং একজন জুয়েলারকে অবশ্যই তার মূল্য নির্ধারণের জন্য একটি রত্নকে ঘনিষ্ঠভাবে পরীক্ষা করতে হবে। তবে, ব্যক্তির সত্তাকে বিচার করার ক্ষেত্রে মতবিরোধ থাকবে। কেননা, আপনি যাকে যে দৃষ্টিতে বিচার করছেন, তিনি সেটার প্রাপ্য বা যোগ্য নাও হতে পারে।
আবার অত্যধিক সমালোচনামূলক হওয়া সাধারণত একটি একক প্রাথমিক উৎস থেকে উদ্ভূত হয়: অর্থাৎ তীব্র হতাশা এবং নিরাপত্তাহীনতা
অভিমত থেকে আরো পড়ুন