https://www.prothomalony.com/

5218

opinion

অভিমত

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে শিশু কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৩ ০৪:৩৬

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের কারনে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বিষণ্ণতা, উদ্বেগ এবং অন্যান্য সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে। সার্জন জেনারেল ভিভেক মূর্তির রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে ৯৫ শতাংশ কিশোর কিশোরী সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে থাকে। প্রায় এক তৃতীয়াংশ প্রতিনিয়ত সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে স্ক্রোলিং, পোস্টিং বা অন্যভাবে জড়িত। মূর্তি বলেছেন,  আমাদের সন্তানদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।

গত মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনটি, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কীভাবে শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে সে সম্পর্কে আরও বেশি প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। পরামর্শদাতারা, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি তৈরিকারী সংস্থাগুলিকে অনুরোধ করেন, তারা যেন  শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার ও এর সঙ্কটগুলো নিয়ে পিতামাতাদের সাথে শেয়ার করেন। 

প্রতিবেদনটি একত্রিত গবেষণার আলোকে উত্থাপন করা হয়েছে। যা কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার এবং দুর্বল মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত। ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, কিশোর-কিশোরীরা যারা দিনে তিন ঘণ্টার বেশি সোশ্যাল মিডিয়াতে সময় ব্যয় করে, তাদের মধ্যে বিষণ্ণতা এবং উদ্বেগ সহ দুর্বল মানসিক স্বাস্থ্যের সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ থাকে।
ডাঃ বিভেক মূর্তি যুবকদের মানসিক স্বাস্থ্যকে 'আমাদের সময়ের সংজ্ঞায়িত জনস্বাস্থ্য সমস্যা' বলে উল্লেখ  করেছেন। তিনি নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ক্ষতিকারক বিষয়বস্তু এবং অত্যধিক ব্যবহার থেকে শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের রক্ষা করার জন্য দৃঢ় নিরাপত্তার মান নিশ্চিত করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে সার্জন জেনারেলের সতর্কবার্তাটি এসেছে যখন শিশু কিশোরদের মাঝে উদ্বেগ, দুঃখ এবং হতাশার হার গত এক দশকে মধ্যে আকাশচুম্বী হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষকরে মেয়েদের মধ্যে সমস্যাগুলো বেশি দেখা যাচ্ছে। 
   সার্জন জেনারেলের প্রতিবেদনে ইটিং ডিসঅর্ডার, বডি ডিসমর্ফিয়া এবং লো'সেল্ফ-এস্টিম হওয়ার জন্য সামাজিক মিডিয়াকে দায়ী করা হয়েছে। অত্যধিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এবং কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মনোযোগ-ঘাটতি/হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডারের মধ্যে একটি সম্ভাব্য যোগসূত্র পাওয়া গেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের মতে, কিশোরদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হলো টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট এবং ইন্সটিগ্রাম। 
সান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক জন টুয়েঞ্জ বলেছন, ২০১২ সালের দিকে কিশোর-কিশোরীদের বিষণ্ণতা বাড়তে শুরু করেছে। এটি এমন একটি সময় যা স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তার সাথে মিলে যায়। সামাজিক মিডিয়া বিভিন্ন উপায়ে মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। ঘুম এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়া উভয়ই মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে বাচ্চারা যদি ঘুমের সময় বা বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর সময় অনলাইনে থাকে, তবে এটি একটি সমস্যা বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।  
সার্জন জেনারেলের প্রতিবেদনে আইন প্রণেতা এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির জন্য বেশ কিছু পরামর্শ রয়েছে।কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন বিশ্বে নেভিগেট করতে সাহায্য করার চেষ্টায় এখন অভিভাবকরাই প্রথম সারিতে রয়েছেন৷ প্রতিবেদনটি যত্নশীল বাবা মায়েদের বাড়িতে 'প্রযুক্তি-মুক্ত' জোন তৈরি করতে পরামর্শ দেন এবং শিশু কিশোরদের সাথে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিয়ে কথা বলতে উৎসাহিত করে। 
মূর্তি বলেছেন, নীতিনির্ধারকদের পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আমাদের শিশুদের ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর সংস্পর্শে আসা এবং অত্যধিক ব্যবহার থেকে রক্ষা করার জন্য আমাদের শক্তিশালী নিরাপত্তার মান নিশ্চিত করতে হবে। এরমধ্যে রয়েছে বয়সের সীমাবদ্ধতা আরোপ করা। কোম্পানিগুলিকে এমন বৈশিষ্ট্যগুলি শিথিল করা উচিত যা শিশুদের অনলাইনে থাকতে প্রলুদ্ধ করে এবং কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষার জন্য আরও ভাল সরঞ্জাম তৈরি করতে হবে বলে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। 

অভিমত থেকে আরো পড়ুন