https://www.prothomalony.com/
5116
opinion
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৩ ০৮:০৮
গত পর্বগুলোতে বিজ্ঞানী লিয়াকত হোসেন Revivify- সম্পর্কে প্রচুর উপকারী ও কার্যকর তথ্য সম্পর্কে আমাদের বিস্তারিত ধারণা দিয়েছেন। আজ তাঁর কাছে আমরা জানবো আমাদের শরীরে শর্করা, মূলত গ্লুকোজ এর বিপাক প্রক্রিয়া (metabolism) কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিজ্ঞানভিত্তিক স্বাস্থ্যকথা আলোচনা। আজকের আর্টিক্যালটি নিয়ে বিজ্ঞানী লিয়াকত হোসেনের সহযোগী হিসাবে আছেন তরুণ বিজ্ঞানী নওরিন চৌধুরী।
বিজ্ঞানী লিয়াকত হোসেন বলেন, আমাদের শরীরে শর্করা, মূলত গ্লুকোজ এর বিপাক প্রক্রিয়া (metabolism) একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। দেহের প্রতিটা কোষ গ্লুকোজ গ্রহণ করে এবং ব্যবহার করে। আমাদের কিছু অঙ্গ প্রত্যঙ্গ এবং সিস্টেম এই গুরুত্বপূর্ণ শর্করাকে একটা সীমারেখার মধ্যে রাখার চেষ্টা করে। যখন তা লঙ্ঘন হয়, কমে যায়- সেটাকে আমরা বলি হাইপোগ্লাইসেমিয়া(রক্তে গ্লুকোজ কম), যখন বেড়ে যায় বলি হাইপারগ্লাইসেমিয়া(রক্তে গ্লুকোজ বেশি)।
এই দুটো অবস্থাই আমাদের জন্যে অসুবিধার কারণ। গ্লুকোজ কমে যেয়ে যেমন আমরা হাইপোগ্লাইসেমিক কোমা তে চলে যেতে পারি, আবার বেড়ে গেলেও একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। গ্লুকোজের সাম্যাবস্থা রাখাটা তাই সকল বয়সের জন্যেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুরুতে গ্লুকোজ আমাদের পরিপাকতন্ত্রে শোষণ (absorption) হয়। তারপর তা রক্তের মাধ্যমে লিভারে আসে৷ এখানে গ্লুকোজ গ্লাইকোজেন হিসাবে জমাও হতে পারে আবার লিভার থেকে বিভিন্ন জায়গায় যেতেও পারে। গ্লুকোজের উপস্থিতি বুঝে ব্রেইনের নির্দেশনায় অগ্ন্যাশয় এর বিটা কোষ থেকে বের হয় ইনসুলিন, আর শেষমেশ কিডনি দিয়ে তা বের হয় এবং পুনরায় শোষিত হয়(reabsorption). নিদেনপক্ষে পরিপাকতন্ত্র, লিভার, অগ্ন্যাশয়, মস্তিষ্ক এবং কিডনি- গ্লুকোজ এর এই ব্যালেন্স নিয়ন্ত্রণে এই অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলো কাজ করে।
আবার আমাদের দেহের সকল কোষ বেঁচে থাকার জন্যে ATP ব্যবহার করে শক্তি পায়৷ এবং আমাদের শরীরের শক্তির আধার মাইটোকন্ড্রিয়া এই শক্তির জোগান দেওয়ার জন্যে অন্যতম দায়ী। এই প্রক্রিয়া হওয়ার পেছনে অনেক ব্যপার এবং জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়া রয়েছে, যারা বিভিন্ন ধরণের এনযাইম এর ব্যবহার করে থাকে কাজ সম্পাদনের উদ্দেশ্যে।
তিনি বলেন, মস্তিষ্কের কোষ, অগ্ন্যাশয় এর কোষ, রোগ প্রতিরোধক কোষ এমন কিছু ব্যতিক্রম বাদে, কোষে গ্লুকোজ কীভাবে ঢুকবে তা নির্ভর করে ইনসুলিন এর উপর। শরীরের প্রায় সব মাংসপেশী ইনসুলিনের উপর নির্ভরশীল। আর ইনসুলিন পাই আমরা অগ্ন্যাশয় এর বিটা কোষ থেকে। কিন্তু দেখা গেছে- ইনসুলিন বের করার জন্যে বিটা কোষের নিজেরও ATP শক্তি দরকার, আর তার তৈরির জন্যেও গ্লুকোজ প্রয়োজন। অগ্ন্যাশয় এর কোষগুলা সহজে গ্লুকোজ পেয়েও কেন প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি করে বের করতে পারেনা? এর অনেকগুলো সম্ভাব্য উত্তরের মধ্যে যে উত্তর অন্যতম- তা হলো অক্সিডেটিভ স্ট্রেস(Oxidative stress)।
বয়সের সাথে সাথে, দূষণের কারণে, খারাপ খাদ্যাভ্যাস এবং চালচলনের জন্যে এই oxidative stress বেড়ে যায়। এজন্যেই দেখা যায় টাইপ ২ ডায়েবেটিস হওয়ার হার বয়সের সাথে বাড়তে থাকে। বর্তমানে আবার এটাও দেখা গেছে যে, অল্প বয়সেই অনেক বেশি Reactive oxygen species (ROS) এর মতো তীব্র প্রতিক্রিয়াশীল পদার্থ তৈরি হতে পারে এবং কোষ এর ক্ষতি করতে পারে। এর সমাধান না করা গেলে অনেক বাজে বাজে অসুখের উদ্ভব হওয়া সম্ভব।
এর সমাধান নিয়ে লিয়াকত হোসেন বলেন, এই সকল সমস্যাকে অনেক সহজেই সমাধান করা যায়। অক্সিডেটিভ এই স্ট্রেস কমাতে Revivify Pro-Vitality Antioxidant Gel(RPV-AOG) এর একটা পাউচ প্রতিদিন সেবন-এ ক্ষেত্রে চমৎকার সমাধান দিয়ে আমাদের অনেক আগে থেকেই সুস্থ সুন্দর দীর্ঘ একটা জীবন পেতে সাহায্য করতে পারে। আমরা দেখতে পাই, অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কারণে অগ্ন্যাশয় এর কোষগুলো ধীরে ধীরে তাদের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে এবং তার ফলে দেখা যাচ্ছে, ইনসুলিন ঠিক মতো তৈরি হচ্ছে না। অগ্ন্যাশয় এর বিটা কোষগুলোর বাইরের আবরণ এর ক্যালসিয়াম এর ভারসাম্য হারিয়ে যাওয়ার কারণে এবং অন্যান্য অঙ্গ যেমন মস্তিষ্কের সাথে সিগন্যালিং এর ঝামেলার কারণে এমন হওয়া বাড়ছে৷
ROS গুলো ধীরে ধীরে কোষের আবরণের লিপিড, প্রোটিন ইত্যাদির ক্ষতি করছে, DNA এর ক্ষতি করছে আর সার্বিকভাবে সবকিছুর জন্যে বিটা কোষের কাজের ক্ষমতা কমছে আর শরীর ইনসুলিন কম পাচ্ছে।
যে সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গ একটা আরেকটার সাথে সম্পর্কিত, যেমন মস্তিষ্ক, লিভার, কিডনি, তাদের সবার কোষ ROS এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এবং এভাবে পুরো শরীরের বিভিন্ন সিস্টেমের অসমাঞ্জস্যতা দেখা দেয়। অক্সিডেন্ট আর এন্টি অক্সিডেন্ট এর এই সামান্য অসমাঞ্জস্যতা পুরো শরীরের সকল কোষকে প্রভাবিত করতে পারে।
তিনি বলেন, অক্সিডেটভ স্ট্রেস শরীরের সাধারণ সকল ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে গ্লুকোজ এর সাম্যাবস্থা কে নষ্ট করে দেয়। মস্তিষ্ক গ্লুকোজ বেশি বুঝতে পারলে অগ্ন্যাশয় কে নির্দেশ দেয় আর ফলশ্রুতিতে ইনসুলিন বের হয়ে রক্তে আসে। শোষণের পর রক্তে গ্লুকোজ আসার পর তা লিভারে যায় এবং বেশি হয়ে গেলে গ্লাইকোজেন হিসাবে জমা থাকে। রক্তে গ্লুকোজ কমে গেলে এই গ্লাইকোজেন ভেঙ্গে গ্লুকোজে পরিণত হয়ে ঘাটিতে পূরণ করে। ডাইবেটিস এ দেখা যায়, গ্লাইকোজেন আর গ্লুকোজের এই সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে গেছে। লিভারও নতুন করে শর্করা তৈরি শুরু করে ফ্যাটি এসিড এবং প্রোটিন থেকে। এই সব নির্দেশ করে লিভার সঠিক কাজ করতে অক্ষম হয়ে আছে এবং সম্ভবত মস্তিষ্ক থেকে সঠিক সিগন্যাল পাচ্ছে না। আমরা জানি ROS এর কারণে হওয়া অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এই সিগন্যাল এর অসারতার একটা কারণ। তাই আমরা সহজেই বলতে পারি, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যে Revivify Pro-Vitality Antioxidant Gel(RPV-AOG) প্রতিদিন ব্যবহার অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।
আমাদের আলোচনায় ইতিমধ্যে আমরা বুঝতে পেরেছি কোষের মধ্যে গ্লুকোজ ঢুকতে ইন্সুলিনের প্রয়োজন। রিসেপ্টর এর সাথে এই গ্লুকোজ লাগার পর Glucose-6-phosphate(G-6-P) হয়ে যায় হেক্সোকাইনেয এনযাইমের সাহায্যে। এই কাজে ম্যাগনেশিয়াম এরও দরকার রয়েছে। REVIVIFY জেল আমাদের পরিপাকতন্ত্রের উপকারী জীবাণু গুলোকে প্রভাবিত করে এবং সার্বিকভাবে সুস্থ সুন্দরভাবে গ্লুকোজ শোষণ(absorption) থেকে শুরু করে রক্তে আসা, লিভারে যাওয়া, প্রসেস হয়ে বিভিন্ন কোষে যাওয়া এবং ATP তৈরিতে কাজ করে শরীরের বিভিন্ন কাজকে সচল রাখা- এই পুরো কর্মযজ্ঞে অবদান রাখতে সক্ষম।
লিয়াকত হোসেন বলেন, গ্লুকোজ তথা শর্করা পরিপাকে Revivify Pro-Vitality Antioxidant Gel(RPV-AOG) এর এই অত্যাশ্চর্য অবদানের সক্ষমতা নিজে পরীক্ষা করে দেখার সময় আজই।
আজকের বিষয় নিয়ে লিয়াকত হোসেন এখানেই সমাপ্তি টানেন। আসন্ন সপ্তাহগুলিতে Revivify-এর অন্যন্য বিষয়ে আমরা তাঁর কাছে আরো বিস্তারিত জানবো। এই ফাঁকে দেখে নিতে পারেন Revivifyforlife.com-ওয়েবসাইটটি। টেকসই স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য রিভিভিফাই প্রো-ভাইটালিটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জেল, রিভিভিফাই প্রো-এনার্জি পাউডার ড্রিঙ্ক-এর স্বাক্ষর আইটেমগুলো উপভোগ করতে পারেন। Revivify ক্লাবে যোগদান করে বন্ধু ও পরিবারের সাথে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন।
অভিমত থেকে আরো পড়ুন