https://www.prothomalony.com/
18441
north-america
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:৫২
৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আর মাত্র হাতেগোনা দিন বাকি। মিশিগানের সিনেট আসনের লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ নতুন এক জোটের কথা বলে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে পুরোনো জোটটিই তিনি ধরে রাখতে পারছেন কি না। বিশেষ করে সেই কৃষ্ণাঙ্গ ভোটদাতাদের নিয়ে, যাঁদের সমর্থন ছাড়া এই অঞ্চলে ডেমোক্র্যাটদের জয় প্রায় কল্পনাই করা যায় না।
আগস্টের প্রাথমিক নির্বাচনে এল-সাইয়েদ হ্যালি স্টিভেন্সকে হারিয়েছিলেন মাত্র এক শতাংশ ভোটের ব্যবধানে। সেই জয়ের পেছনে ছিল আরব-আমেরিকান ও মুসলিম সমাজ, তরুণ ভোটদাতা আর বিশ্ববিদ্যালয়-শহরের প্রগতিশীলেরা। ডেট্রয়েট ও আশপাশের কৃষ্ণাঙ্গ ভোটদাতাদের বড় অংশ তখন দাঁড়িয়েছিলেন স্টিভেন্সের পাশে। ইহুদি ভোটদাতারাও তা-ই। গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচক এল-সাইয়েদকে নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ বহুদিনের। রিপাবলিকান প্রার্থী, সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স ঠিক এই ফাটলেই শাবল ঢোকাতে চাইছেন। ডেট্রয়েট ইকোনমিক ক্লাবের মঞ্চে তিনি দাবি করেছেন, রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে তিনি এমন সব জোট গড়েছেন, যা দলের ঐতিহ্যে নেই। ডেট্রয়েট, ফ্লিন্ট আর পন্টিয়াকে তাঁর আনাগোনা এখন চোখে পড়ার মতো। ডেট্রয়েটের লিভার্নোয়া অ্যাভিনিউতে তিনি খুলেছেন নতুন প্রচার-কার্যালয়ও।
এল-সাইয়েদ সেই কার্যালয় নিয়ে হেসেই খুন। তাঁর ভাষ্য, শহরতলির বন্ধুদের জুটিয়ে এনে নিজেকে হাততালি দেওয়ানোর একটি ‘মিষ্টি ছোট্ট দপ্তর’ ছাড়া ওটা আর কিছু নয়। কিন্তু হাসির আড়ালে দুশ্চিন্তার ছায়া ঢাকা পড়ছে না। রোববার ফ্লিন্টে, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাসিন্দা কৃষ্ণাঙ্গ, তাঁর জনসভায় কয়েক শ লোকের জমায়েতে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ ছিলেন মোটে এক ডজনের মতো। নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে ডেমোক্র্যাট প্রচারের জন্য দৃশ্যটি অন্তত বিস্ময়কর। এক প্রভাবশালী কৃষ্ণাঙ্গ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএনএনকে বলেছেন, কাছাকাছি লড়াইয়ে আবদুলকে ঘিরে সামান্য সংশয়ও পরাজয় ডেকে আনতে পারে। এই লড়াই ‘হওয়ার কথা ছিল যতটা, তার চেয়ে অনেক বেশি কাছাকাছি’। ডেট্রয়েটের কিংস সলোমন ব্যাপ্টিস্ট গির্জার যাজক চার্লস উইলিয়ামস দ্বিতীয় আঙুল দুটি এক ইঞ্চি ফাঁক করে দেখিয়ে বলেছেন, ডেট্রয়েট বা ফ্লিন্টের এইটুকু অংশের ভোট না পেলেই প্রার্থীর পক্ষে সীমারেখা পেরোনো কঠিন হয়ে পড়ে।
ডেমোক্র্যাটরা অবশ্য হাত গুটিয়ে বসে নেই। শনিবার, ২৪ অক্টোবর, মিশিগানে ব্যক্তিগতভাবে আগাম ভোটদানের প্রথম দিনে ডেট্রয়েটে এল-সাইয়েদ ও গভর্নর পদপ্রার্থী জসলিন বেনসনের সঙ্গে জনসভায় আসছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। দেশের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্টকে ঠিক এই শহরে নামানো কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়। এটি হিসাব করে চালা চাল। এর আগে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস কৃষ্ণাঙ্গ মায়েদের স্বাস্থ্য নিয়ে এল-সাইয়েদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন। জর্জিয়ার সিনেটর রাফায়েল ওয়ার্নক এবং কংগ্রেসের কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ সদস্যেরও আসার কথা। ফ্লিন্টের সভায় ছিলেন ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি আয়ানা প্রেসলি।
প্রচারের বাকি অংশটি আরও কটু। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এল-সাইয়েদকে ‘মোহাম্মদ আবদুল এল-সাইয়েদ’ বলে খোঁচা দিতে ভালোবাসেন। রজার্স তাঁকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে জড়াতে চেয়েছেন। যদিও এল-সাইয়েদ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন, আর তথ্য-যাচাইকারীরা রজার্স শিবিরের এই দাবি সমানে নাকচ করে দিয়েছেন। ৮ অক্টোবর গ্র্যান্ড র্যাপিডসের বিতর্কে রজার্স টেনে আনেন এল-সাইয়েদের জন্মদাত্রী মায়ের প্রসঙ্গ। অথচ এল-সাইয়েদ বেড়ে উঠেছেন বাবা ও সৎমায়ের কাছে। ফ্লিন্টে তিনি জবাব দিয়েছেন তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে। বলেছেন, তাঁর নাম আর ধর্ম পেট্রোলের দাম বা মুদিখানার খরচ বাড়ার কারণ নয়। আর ডাক্তার দেখাতে গেলে সামনের ডাক্তারেরও তাঁর মতো নাম-ধর্ম থাকার সম্ভাবনা কম নয়।
জরিপের ছবি অবশ্য এল-সাইয়েদের কিছুটা অনুকূলে, তবে দুশ্চিন্তা মুছে ফেলার মতো নয়। ফক্স নিউজের জরিপে সম্ভাব্য ভোটদাতাদের মধ্যে তিনি এগিয়ে ৫০–৪৯ শতাংশে, মাত্র এক পয়েন্টে। মেরিস্টের জরিপে এগিয়ে ৫১–৪৪, এ পর্যন্ত তাঁর সবচেয়ে বড় ব্যবধানে। সাফোক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে সাত পয়েন্টের লিড, আবার এএআরপির জরিপে ব্যবধান মাত্র ৪৮–৪৭। মিশিগান লাইভের হিসাবে অন্তত নয়টি সাম্প্রতিক জরিপে তিনি সামান্য এগিয়ে, কিন্তু প্রতিটিই ভুলের সীমার মধ্যে। রিপাবলিকান জরিপবিদ ড্যারন শ ফক্সের জরিপ প্রসঙ্গে ঠিকই ধরেছেন: স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক হাওয়া ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে, কিন্তু ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ঘিরে উদ্বেগে তা খানিকটা ভারসাম্যে ফিরছে।
বাজি যে কত বড়, সেটাও বলা দরকার। মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়াতে হবে। অবসরে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনটি হাতছাড়া হলে সেই পথ আরও দুর্গম হয়ে উঠবে, গিয়ে ঠেকবে অনেক বেশি লালচে রাজ্যে। মিশিগানে এ পর্যন্ত টেলিভিশন বিজ্ঞাপনেই খরচ হয়েছে ২৮ কোটি ডলারের বেশি। এত টাকা ঢেলেও যদি ফয়সালা হয় ফ্লিন্ট বা ডেট্রয়েটের একটুখানি ভোটদাতার সিদ্ধান্তে, তবে বলতে হয়, গণতন্ত্রের হিসাব-নিকাশ বড় নির্মম রসিকতা করে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন