https://www.prothomalony.com/
17858
north-america
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬ ০২:০৯
গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অচলাবস্থা ও চলমান বিরোধ নিরসন, গঠনতান্ত্রিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাধারণ ট্রাস্টিদের উদ্যোগে এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ট্রাস্টের গঠনতন্ত্রের ১০ ধারা অনুযায়ী লন্ডনের চিলড্রেন এডুকেশন সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জহির হুসাইন গৌছ। যৌথভাবে পরিচালনা করেন সিদ্দিকুর রহমান ও মো. শামিম আহমদ। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করেন মাওলানা আশরাফুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্যে মামুনুর রাশিদ খাঁন ট্রাস্টের দীর্ঘদিনের বিরোধ, সাংগঠনিক অচলাবস্থা, ব্যাংক হিসাব স্থগিত থাকায় কার্যক্রমে সৃষ্ট স্থবিরতা এবং বর্তমান পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত ট্রাস্টিরা দীর্ঘ আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মত দেন যে, ট্রাস্টের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্বাচনই একমাত্র কার্যকর পথ। এ লক্ষ্যে সর্বসম্মতিক্রমে ট্রাস্টি আকতার হুসেনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি আবদুল আজিজ ফারুক ও ট্রাস্টি রিয়াজ উদ্দিনকে নির্বাচন কমিশনার করে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।
নবগঠিত নির্বাচন কমিশনকে গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসরণ করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, ৩১ মার্চ ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত ট্রাস্টের সর্বশেষ সাধারণ সভায় গৃহীত সংবিধান সংশোধনের সিদ্ধান্তগুলো বর্তমান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মধ্যে প্যানেল ভোট অথবা স্বতন্ত্রভাবে ভোট প্রদানের সুযোগ এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যসংখ্যা ২৩ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব উল্লেখযোগ্য।
বিপুলসংখ্যক সাধারণ ট্রাস্টির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় ছিফত আলী আহাদ, মো. ফজলুল হক, আবদুল কাইয়ুম হান্নান, মো. মাইজ উদ্দিন আহমেদ, মো. দিলওয়ার হোসেন, সায়াদ আহমদ সাদ, এমদাদ হুসেন টিপু, মাশুক আহমদ, সেলিম আহমেদ খান, দেওয়ান নজরুল ইসলাম, রুহুল কুদ্দুস জুনেদ, সেলিম উদ্দিন চাকলাদার, মাহমুদুর রহমান শানুর, সিব্বির আহমদ, আবদুস সামাদ, বদরুল আলম বাবুল, আবদুল কাদির, আমিনুল হক জিল্লু, মো. ইকবাল হুসেন, ইকবাল আহমদ চৌধুরী, মো. ফারুক মিয়া, আলম খান, মাসুদ আহমদ জুয়েল, মো. লাভলু, মুহিবুর রহমান, আনওয়ার হুসাইন, তালাত ছিদ্দিক, মিসবাহ মাসুম, জুবায়ের সিদ্দিকী, সোহেল আহমেদ স্বপন, আবদুল কুদ্দুস লাভলু, ইকবাল আহমেদ ও দেওয়ান আবদুল বাসিতসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান নয়; এটি সকল ট্রাস্টির সম্মিলিত প্রতিষ্ঠান। তাই ট্রাস্টের সব কার্যক্রম গঠনতন্ত্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসনের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।
তারা আশা প্রকাশ করেন, নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটবে, ট্রাস্টে সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে।
সভায় ট্রাস্টের উত্তরোত্তর সাফল্য, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন