https://www.prothomalony.com/
17844
opinion
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ ০৮:১৯
রাজনীতিতে জনগণের বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় শক্তি, আর সেই বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণার ফল একদিন না একদিন সামনে আসেই। যারা মানুষের আশা, আবেগ ও ত্যাগকে পুঁজি করে সামনে এগিয়ে যায়, কিন্তু পরে ক্ষমতার রাজনীতি, অহংকার, অশালীনতা, বিভাজন ও মব সংস্কৃতির অভিযোগে বিতর্কিত হয়ে পড়ে, তাদের প্রতি জনগণের মনোভাবও স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তিত হয়।
জুলাই আন্দোলনের সময় সাধারণ ছাত্র, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ অন্যায়, বৈষম্য ও পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল। তাদের প্রত্যাশা ছিল, নতুন একটি রাজনৈতিক ধারা তৈরি হবে, যেখানে থাকবে সততা, শালীনতা, জবাবদিহিতা ও মানুষের প্রতি সম্মান।
জুলাইয়ের রক্ত, ত্যাগ ও মানুষের প্রত্যাশা কোনো ব্যক্তিগত ক্ষমতা অর্জনের সিঁড়ি হতে পারে না।
এনসিপি থেকে পদত্যাগকারীদের একটি অংশ মনে করছে, যে সাধারণ ছাত্র, অভিভাবক ও জনগণের প্রত্যাশার ওপর ভর করে তাদের উত্থান হয়েছিল, সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার কারণেই আজ তারা পথে ঘাটে লাঞ্ছিত হচ্ছে।
গণতন্ত্রে প্রতিবাদ ও মত প্রকাশের অধিকার সবার আছে। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক শক্তি যদি যুক্তি ও আইনের পরিবর্তে জনতার চাপ, ভয় বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে, তাহলে সেটি সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে।
একটি সাধারণ উদাহরণ হলো, কোনো ব্যক্তি ভুল করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে যদি দলীয় পরিচয় বা জনতার শক্তি দিয়ে তাকে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে সেখানে ন্যায়বিচার থাকে না, থাকে ক্ষমতার প্রদর্শন। এই সংস্কৃতি শেষ পর্যন্ত সবার জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।
রাজনীতির ভাষা একটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। একজন নেতা যখন যুক্তির পরিবর্তে কটু কথা, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অপমানজনক বক্তব্যকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন, তখন সাধারণ মানুষ রাজনীতির প্রতি আগ্রহ হারায়।
অভিমত থেকে আরো পড়ুন