https://www.prothomalony.com/
17680
new-york
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ ০২:৪২
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জুইস সেন্টারে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান 'আনন্দসন্ধ্যা'। প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ও রবীন্দ্রচর্চাকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য ও গুণীজন সম্মাননার মধ্য দিয়ে কবিগুরুর কালজয়ী সৃষ্টির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এবারের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা এবং দুই বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী স্বপ্নীল সজীব। তাদের কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একের পর এক কালজয়ী গানের পরিবেশনা উপস্থিত প্রবাসী দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় ছিল দুই শিল্পীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলা সংস্কৃতি, রবীন্দ্রসংগীত এবং বাঙালির সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে সফলভাবে তুলে ধরার স্বীকৃতিস্বরূপ রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও স্বপ্নীল সজীবের হাতে বিশেষ সম্মাননা সার্টিফিকেট তুলে দেন নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান জোহরান মামদানী। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিউইয়র্কে রবীন্দ্র সংগীতশিল্পীদের এমন প্রাতিষ্ঠানিক ও অফিশিয়াল স্বীকৃতি প্রদানের ঘটনা এটিই প্রথম, যা প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
সম্মাননা গ্রহণের পর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, রবীন্দ্রনাথের গান কেবল সুর বা সংগীত নয়; এটি আমাদের সংস্কৃতি, চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের ধারক। প্রবাসের মাটিতে তার সৃষ্টিকে ঘিরে এমন আন্তরিক আয়োজন এবং এই প্রাতিষ্ঠানিক সম্মাননা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
অন্যদিকে তরুণ শিল্পী স্বপ্নীল সজীব তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, রবীন্দ্রসংগীতের মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পাওয়াই তার শিল্পীজীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। নিউইয়র্ক সিটির এই সম্মাননা তার সঙ্গীতযাত্রায় একটি স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
গানের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে অন্যতম আকর্ষণ ছিল নন্দিত নৃত্যশিল্পী রাসেল আহমেদের একক নৃত্য পরিবেশনা। তার চমৎকার ও নান্দনিক উপস্থাপনা উপস্থিত দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
মনোজ্ঞ এই অনুষ্ঠানটির সফল আয়োজন করে 'অ্যাবাউট টাইম ইভেন্টস'। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ওয়ালীউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা, নিজস্ব সংস্কৃতি এবং বিশ্বকবির উদার দর্শন পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন