https://www.prothomalony.com/

17036

new-york

নিউইয়র্ক

বুশউইক হাসপাতালে আইসের হানা: এনওয়াইপিডির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ ০৪:২৫

ব্রুকলিনের বুশউইক এলাকার ওয়াইকফ হাইটস মেডিকেল সেন্টারে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) অভিযান এবং এতে নিউইয়র্ক পুলিশের (এনওয়াইপিডি) ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, অভিবাসন কর্মকর্তাদের এই অভিযানে এনওয়াইপিডি সরাসরি সহায়তা করেছে কি না।

শনিবার (২ মে) রাতে মাস্ক পরা আইস এজেন্টরা চিডোজি উইলসন ওকোকে নামক নাইজেরীয় এক অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় ধস্তাধস্তিতে ওকোকে আহত হলে তাকে চিকিৎসার জন্য ওয়াইকফ হাইটস মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। আইস এজেন্টরা হাসপাতালে ঢুকেছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ২০০ বিক্ষোভকারী হাসপাতালের বাইরে জড়ো হন। তারা ওকোকেকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান এবং আইসের যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

আইসের এক মুখপাত্র দাবি করেন, ওকোকে আগে হামলা ও মাদক রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং তার পর্যটক ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছিল। গ্রেপ্তারের সময় তিনি প্রতিরোধ করায় তাকে চিকিৎসার জন্য জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

এনওয়াইপিডি জানায়, তারা হাসপাতালের জরুরি প্রবেশপথ ও ট্রাফিক সচল রাখতে সেখানে উপস্থিত হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন গ্রেপ্তার হন। তাদের মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দান ও বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। 

নিউইয়র্ক সিটির ‘স্যাঙ্কচুয়ারি ল’ অনুযায়ী, স্থানীয় পুলিশের সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে সহায়তা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে আইস এজেন্টদের পথ পরিষ্কার করে দিচ্ছে। এমনকি পুলিশ কর্মকর্তাদের আইসের গাড়ির টায়ার পরিবর্তন করতেও সাহায্য করতে দেখা গেছে।

নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের দাবি, একটি ভিডিওতে দেখা গেছে আইস এজেন্টরা গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসে ওকোকের দিকে একটি টেজার তাক করে আছেন। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল সদস্য স্যান্ডি নার্স বলেন, ‘এটি কেবল বিক্ষোভ ছিল না; এটি ছিল আমাদের প্রতিবেশীকে রক্ষা করার জন্য একটি সম্প্রদায়ের এগিয়ে আসা। আমরা চাই না আমাদের এলাকায় আইস থাকুক।’

সমালোচকদের মতে, পুলিশ কর্মকর্তারা নিউইয়র্কের ‘স্যানকচুয়ারি সিটি’ আইন লঙ্ঘন করে বহিষ্কার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছেন। তবে মেয়র জোহরান মামদানি স্পষ্ট করেছেন যে এই অভিযানে পুলিশের আগে থেকে কোনো পরিকল্পনা বা সমন্বয় ছিল না; তারা কেবল ৯১১ নম্বরে কল পেয়ে সেখানে গিয়েছিল। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রতিবেশী বলেন, ‘নিউইয়র্ক পুলিশের সহিংস হস্তক্ষেপ ছাড়া আইস কোনোভাবেই ওই ব্যক্তিকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হতে পারত না।’ ব্রুকলিন বরো প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও রেইনোসো এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা চাই না কোনোভাবেই নিউইয়র্ক পুলিশ আইসকে সহায়তা করুক।’

মেয়র মামদানি জানান, একটি ভিডিওতে একজন বিক্ষোভকারীকে আক্রমণাত্মকভাবে মাটিতে ফেলে দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। এ ঘটনায় এনওয়াইপিডি কর্মকর্তারা তদন্ত শুরু করেছেন।

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন