https://www.prothomalony.com/
16830
new-york
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ০১:৪৮
নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়ের অভিবাসী বিষয়ক দপ্তরের কমিশনার ফাইজা নাসরিন আলি ‘অভিবাসীরাই নিউইয়র্ককে শক্তি দেয়’ প্রতিপাদ্যে ২২তম বার্ষিক অভিবাসী ঐতিহ্য সপ্তাহের উদ্বোধন করেছেন। এই আয়োজনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী উদযাপন, যেখানে নিউইয়র্কে বসবাসরত অভিবাসীদের বৈচিত্র্য, সংস্কৃতি, প্রাণচাঞ্চল্য এবং অর্থনীতিতে তাদের অবদান তুলে ধরা হবে।
মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, “নিউইয়র্ক শ্রমজীবী মানুষের শহর। প্রজন্মের পর প্রজন্ম অভিবাসী পরিবার এই শহরের পাড়া-মহল্লা গড়ে তুলেছে। ২০২৬ সালে আমাদের প্রধান লক্ষ্য অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার—কারণ অভিবাসীরা আমাদের অর্থনীতির বাইরে নয়, বরং এর কেন্দ্রবিন্দু।” তিনি আরও বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, ভালো কাজের সুযোগ, আর্থিক সেবা এবং প্রতারণা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করাই একটি ন্যায়ভিত্তিক শক্তিশালী নিউইয়র্ক গড়ার শর্ত।
অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার বিষয়ক উপ-মেয়র জুলি সু বলেন, “অভিবাসী শ্রমিকদের ত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রমই নিউইয়র্ক শহরের পরিচয় গড়ে তুলেছে। আমরা সকল শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাব।”
কমিশনার ফাইজা নাসরিন আলি জানান, “নিউইয়র্কে ৩০ লাখের বেশি অভিবাসী বাস করেন, যারা শহরের শ্রমবাজার ও অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। একজন অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে আমি গর্বিত—অভিবাসীরা প্রতিদিন এই শহরকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।” তিনি বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য অভিবাসীদের বাস্তব অবদান ও শ্রমকে সামনে নিয়ে এসেছে।
দপ্তরের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অনথিভুক্ত অভিবাসীদের নেতৃত্বাধীন পরিবারগুলো প্রায় ৯৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার কর প্রদান করেছে, যার মধ্যে ৩৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার রাজ্য ও স্থানীয় এবং ৫৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার ফেডারেল কর। রেস্তোরাঁ, নির্মাণ, গৃহভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা, হাসপাতাল এবং শিক্ষা খাতে অভিবাসীদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি।
অভিবাসী ঐতিহ্য সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে শহরজুড়ে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে, যেখানে সকল নিউইয়র্কবাসীকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ক্ষুদ্র ব্যবসা সেবা বিভাগের কমিশনার কেনি মিনায়া বলেন, “অভিবাসীরাই আমাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি—তারা স্বাস্থ্যকর্মী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।” ভোক্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা বিভাগের কমিশনার স্যামুয়েল লেভিন জানান, অভিবাসন অবস্থান নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার রক্ষায় তাদের বিভাগ কাজ করছে।
নথি ও তথ্য সেবা বিভাগের কমিশনার পলিন টুল বলেন, “চার শতকের ইতিহাসে অভিবাসীরাই নিউইয়র্ককে শিল্প, অবকাঠামো ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে।” স্বাস্থ্য বিভাগের কমিশনার ডা. অ্যালিস্টার মার্টিন বলেন, “অভিবাসীদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করা মানেই পুরো শহরের উন্নয়ন নিশ্চিত করা।”
সংস্কৃতি বিষয়ক কমিশনার দিয়া ভি বলেন, “অভিবাসীদের আনা বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি—সংগীত, নৃত্য, শিল্প, খাদ্য ও ফ্যাশন—নিউইয়র্ককে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত রেখেছে।”
আয়োজকদের মতে, এই তিন মাসব্যাপী উদ্যোগ শুধু উদযাপন নয়, বরং নিউইয়র্কের অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিতে অভিবাসীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন