https://www.prothomalony.com/

16235

new-york

নিউইয়র্ক

তুষার ঢাকা নিউইয়র্কে বসন্তের রঙ হয়ে উঠে এক প্রাণের উৎসব

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২২:৫৭

 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ নিউইয়র্কের আকাশজুড়ে তখন ধূসর শীতের মেঘ, রাস্তাঘাটে তুষারের আস্তরণ। তবু ক্যালেন্ডারের বাইরে হৃদয়ের ডাকে বসন্ত হাজির হয়েছিল ১৫ ফেব্রুয়ারি, রোববার সন্ধ্যায়। কুইন্সের জামাইকা হাইল্যান্ড এভিনিউয়ের সুসজ্জিত ভেন্যুতে বসেছিল প্রবাসী বাঙালিদের প্রাণের বসন্ত উৎসব। আয়োজনের নেপথ্যে ছিলেন কমিউনিটির অন্যতম অগ্রদূত নার্গিস আহমেদ, যিনি প্রতি বছরই নিজস্ব উদ্যোগে এমন সাংস্কৃতিক মিলনমেলার আয়োজন করে আসছেন।

ভেন্যুটি সেজেছিল ফাল্গুনের রঙে—হলুদ, কমলা আর লালের মেলবন্ধনে যেন ঢাকার কোনো প্রাঙ্গণ। বাইরে তখনও ঝরছিল হালকা তুষার, ভেতরে উচ্ছ্বাসের উষ্ণতা। আয়োজকরা বলছিলেন, বসন্ত সবসময় আবহাওয়ার পূর্বাভাস মেনে আসে না; আসে মানুষের হৃদয়ের বাসন্তী ভালোবাসা নিয়ে। সেই ভালোবাসাই যেন সন্ধ্যার প্রতিটি মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়েছিল।

সাংস্কৃতিক পর্বে ড্রামা সার্কেলের শিল্পীরা গানে, কবিতায়, আবৃত্তিতে ও কৌতুকে শীতের সন্ধ্যাকে করে তুলেছিলেন প্রাণবন্ত। আবীর আলমগীরের উপস্থাপনায় একের পর এক পরিবেশনায় উঠে আসে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের বসন্তবন্দনা, আধুনিক গান, লোকসংগীত, এমনকি ভাবের গান ও ভবের গান। পুরনো দিনের জনপ্রিয় গানগুলোয় দর্শক-শ্রোতারাও কণ্ঠ মেলান। মুহূর্তেই তৈরি হয় এক নস্টালজিক আবহ—প্রবাসে থেকেও যেন ফিরে পাওয়া যায় দেশের উঠোন।

উৎসবে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা—শিল্পী, ব্যবসায়ী, সংগঠক, কবি ও সংস্কৃতিকর্মীরা। বাংলা সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রতিনিধিরাও যোগ দেন এই মিলনমেলায়। অনেকেই বলেন, এমন আয়োজন প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।

নারীরা সেজেছিলেন বাসন্তী রঙের শাড়িতে, ফুলের অলংকারে। কেউ কেউ মাথায় গুঁজেছিলেন গাঁদা বা রজনীগন্ধা। পুরুষদের পোশাকেও ছিল ফাল্গুনের আভা। দূর দেশে কোকিলের ডাক শোনা না গেলেও, তুষারপাতের মাঝেই যেন অনুভূত হচ্ছিল বসন্তের প্রতীকী আগমন।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। বক্তারা বলেন, প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার ভিড়ে এমন সাংস্কৃতিক আয়োজন মানুষকে একত্র করে, শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখে। নার্গিস আহমেদ ও মোশতাক আহমেদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান উপস্থিত সবাই।

তুষারে মোড়া নিউইয়র্কের সন্ধ্যা প্রমাণ করল—ঋতু কেবল প্রকৃতির নয়, মানুষের মনেও আসে। আর যখন কমিউনিটি একসঙ্গে উদ্‌যাপন করে, তখন দূর দেশের শীতেও বসন্তের উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
 

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন