https://www.prothomalony.com/

16225

new-york

নিউইয়র্ক

হাসপাতালে শয্যাশায়ী অবস্থায় আদালতে হাজিরা: জাবেজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৩:০৬

নিউইয়র্কে এনওয়াইপিডির গুলিতে আহত ২২ বছর বয়সী জাবেজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের এবং হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ভিডিওর মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তার পরিবার। গত ২৬ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর তিনি একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, তারা ৯১১ নম্বরে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন করেছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতি এমন মোড় নেবে তা কল্পনাও করেননি।

জাবেজের মা জুলি চক্রবর্তী এক বিবৃতিতে বলেন, “এটা আমাদের জন্য দুঃস্বপ্ন। আমরা চিকিৎসা সহায়তা চেয়েছিলাম, পুলিশ নয়। এনওয়াইপিডি আসার আগ পর্যন্ত জাবেজ ও আমাদের পরিবার নিজেদের ঘরে নিরাপদ ছিল। এখন সে হাসপাতালের বিছানায় হাতকড়া পরা অবস্থায়, আর সুস্থ হওয়ার জন্য দীর্ঘ লড়াই তার সামনে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিবারের অভিবাসন অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে, তাদের ফোন কেড়ে নেয় এবং জাবেজকে দেখতে বাধা দেয়। তার ভাষায়, “সে কি ইতিমধ্যেই যথেষ্ট কষ্ট পায়নি? তাকে কারাগারে পাঠানো হলে তার জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা শুধু চাই, সে যেন সুস্থ হওয়ার সুযোগ পায়।”

ম্যানহাটনের ডিএ ক্যাটজের কার্যালয় জাবেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে এবং তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানায়। জাবেজের সিভিল আইনজীবী গিডিয়ন অলিভার বলেন, “ডিএ ক্যাটজের তড়িঘড়ি করে গোপন অভিযোগ দায়ের এবং রিমান্ড চাওয়া অপ্রয়োজনীয় ও বিবেকহীন।” তিনি জানান, জাবেজের এখন কারাবাস নয়, প্রয়োজন শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা।

অভিবাসী অধিকারভিত্তিক সংগঠন ডেসিস রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিং (ড্রাম)-এর নির্বাহী পরিচালক ফাহাদ আহমেদ বলেন, “সিস্টেমের প্রতিটি স্তরে জাবেজ ব্যর্থতার শিকার হয়েছে। এখন তার সুস্থ হওয়ার লড়াইয়ে পাশে দাঁড়ানোর বদলে তাকে আরও শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।” তার মতে, এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং এটি দেখায় কীভাবে মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে পুলিশি হস্তক্ষেপ অনেক সময় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

জাস্টিস কমিটির নির্বাহী পরিচালক লয়দা কোলন বলেন, “সশস্ত্র পুলিশের উপস্থিতি মানসিক চাপ বাড়াতে পারে—এটি জানা সত্ত্বেও শহর মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে এনওয়াইপিডিকে সামনে রাখছে।” তিনি দাবি করেন, জননিরাপত্তার নামে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে কারাবন্দি করা মানসিক স্বাস্থ্যের আরও অবনতি ঘটায়। সংগঠনটি ডিএ ক্যাটজের কাছে মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় পুলিশ-নির্ভর মডেল পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছে।

উল্লেখ্য, জাস্টিস কমিটি ১৯৮০ সাল থেকে নিউ ইয়র্ক সিটিতে পুলিশি সহিংসতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে কাজ করে আসছে। অন্যদিকে, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ড্রাম স্বল্প আয়ের দক্ষিণ এশীয় ও ইন্দো-ক্যারিবীয় অভিবাসী, শ্রমিক ও তরুণদের নিয়ে সংগঠিত একটি সদস্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যা অভিবাসী অধিকার, শিক্ষা সংস্কার ও বর্ণগত ন্যায়বিচার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।

পরিবার, আইনজীবী ও অধিকারকর্মীদের একটাই দাবি—জাবেজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করে তাকে পূর্ণ চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তার সুযোগ দেওয়া হোক।

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন