https://www.prothomalony.com/

16036

new-york

নিউইয়র্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কর্ণেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঋত্বিক ঘটকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ ০১:২৯

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ইথাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠ কর্ণেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলার কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটকের এক ব্যতিক্রমধর্মী জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। ১৫ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাঙ্গুয়েজ রিসোর্স সেন্টারে নিউইয়র্ক সময় সকাল দশটায় এই অভূতপূর্ব আয়োজন শুরু হয়।

দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানের প্রথম অংশে অনুষ্ঠিত হয় ‘ছিন্নমূল জীবনের স্মৃতি ও মানবচেতনার শেষ আশ্রয়: ঋত্বিক ঘটক ও থিও অ্যাঞ্জেলোপোলাসের তুলনামূলক পাঠ’ শীর্ষক সেমিনার। দ্বিতীয় পর্বে ছিল ঋত্বিক ঘটকের কালজয়ী চলচ্চিত্র *‘মেঘে ঢাকা তারা’*-এর সঙ্গীত নিয়ে পুনর্বিবেচনা ও সঙ্গীত পরিবেশনা। পুরো অনুষ্ঠানটি একযোগে ভার্চুয়ালি সম্প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সিনেমাপিপাসু দর্শক এতে অংশগ্রহণ করেন।

কর্ণেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাঙ্গুয়েজ রিসোর্স সেন্টার এবং ব্রিটেনভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন **সৌধ: সোসাইটি অব পোয়েট্রি অ্যান্ড ইন্ডিয়ান মিউজিক**–এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই উদযাপনের সেমিনার পর্বে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালক, কবি ও ঔপন্যাসিক অধ্যাপক শামীম রেজা। চলচ্চিত্র সমালোচক ও ল্যাঙ্গুয়েজ রিসোর্স সেন্টারের শিক্ষাক্রম সমন্বয়ক ড. আহমেদ শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে অধ্যাপক শামীম রেজা গ্রীক চলচ্চিত্রকার থিও অ্যাঞ্জেলোপোলাস ও বাঙালি চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্রে মাইগ্রেশন, পার্টিশন এবং উদ্বাস্তু জীবনের অনুষঙ্গের ভেতর দিয়ে মানুষের এপোক্যালিপ্টিক বাস্তবতা ও অস্তিত্ব সংকটের স্বরূপ উন্মোচন করেন। এই দার্শনিক অনুষঙ্গগুলোর গভীরতা আরও নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণের জন্য তিনি ঋত্বিকের চলচ্চিত্রের পাশাপাশি পাশ্চাত্যের বিভিন্ন চলচ্চিত্রের প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন।

সেমিনারে প্রধান আলোচক কবি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানী অধ্যাপক সেজান মাহমুদ প্রবন্ধ ও সামগ্রিক থিমকে ‘জরুরি ও অভূতপূর্ব’ আখ্যা দিয়ে বলেন, আধুনিক মানুষের সংকটের স্বরূপ বোঝার জন্য উদ্বাস্তু জীবনের এই গল্পগুলো, চলচ্চিত্রগুলো আমাদের বারবার পাঠ ও পুনঃপাঠ করা প্রয়োজন। তিনি একই সঙ্গে জর্জিও আগামবেনসহ অস্তিত্ববাদী দার্শনিকদের তত্ত্ব কীভাবে এসব চলচ্চিত্রের বুদ্ধিবৃত্তিক ভাষ্য নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়েও আলোকপাত করেন।

বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ঔপন্যাসিক সালমা বাণী তাঁর আলোচনায় নিজের উপন্যাস, উদ্বাস্তু মানুষের জীবনবাস্তবতা এবং ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্রের বিভিন্ন প্লট ও চরিত্রের অনুষঙ্গ তুলে ধরেন।

কবি ও সৌধের পরিচালক টি. এম. আহমেদ কায়সার বলেন, নীটশের ঈশ্বরবিহীন জগতে আধুনিক মানুষ একই সঙ্গে উদ্বাস্তু এবং শোচনীয়ভাবে নিঃসঙ্গ। ফলে উদ্বাস্তু মানুষ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো আধুনিক মানুষের জটিল অস্তিত্ব সংকটের দ্যোতক হয়ে ওঠে। তিনি উল্লেখ করেন, থিও অ্যাঞ্জেলোপোলাসের ‘ইটারনিটি অ্যান্ড আ ডে’ চলচ্চিত্রে গ্রীক কবি দিওনিসিস সলমোসের কবিতা এবং ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’ চলচ্চিত্রে সিলেটের কবি ইদম শাহের গান ‘মন তোমায় কেবা পার করে’-তে উদ্বাস্তু জীবনের যে পার্থিব ও আধ্যাত্মিক সংকট প্রতিফলিত হয়েছে, তার অন্তর্নিহিত মর্ম ও নীরবতা বিশ্লেষণে এখনই তৎপর হওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে মিখাইল বাখতিনের ক্রোনোটোপ ও দ্বিরালাপ তত্ত্ব বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ‘মেঘে ঢাকা তারা’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত সঙ্গীতের প্রাসঙ্গিক ভাষ্যসহ পরিবেশন করেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কিরানা ঘরানার শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী চন্দ্রা চক্রবর্তী। তিনি কিংবদন্তি শিল্পী পণ্ডিত এ. কাননের সঙ্গীতশিষ্যা। ফলে পণ্ডিত এ. কাননের সঙ্গে ঋত্বিক ঘটকের সৃজনশীল সম্পর্ক নিয়ে তাঁর স্মৃতিচারণ এবং চলচ্চিত্রের দৃশ্যবিন্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাঁর কণ্ঠে রাগ ভাটিয়ার ও হংসধ্বনির পরিবেশনা ঋত্বিক জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে এক নতুন মাত্রা যোগ করে।

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন