https://www.prothomalony.com/

15989

new-york

নিউইয়র্ক

নিউইয়র্কে বিপা আয়োজিত 'নৈ:শব্দ্য ও গোধূলির গান' নিয়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ২৩:৫৪

ছবি-সৌজন্য: মিনহাজ আহমেদ

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস - বিপার আয়োজনে 'নৈ:শব্দ্য ও গোধূলির গান' নিউইয়র্কে দক্ষিণ এশীয় ধ্রুপদী শিল্প-চর্যা ও মঞ্চায়নে এক নতুন মাত্রা সংযোজন করেছে বলে উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনুষ্ঠানে  উপস্থিত দর্শকেরা। গত শুক্রবার ( ১৬ জানুয়ারি) নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় হিলসাইড এভিনিউতে এক আর্টস সেন্টারে  বৃটেন থেকে আগত অতিথি শিল্পী, সৌধ পরিচালক কবি টি এম আহমেদ কায়সার ও বৃটেনের শীর্ষ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী, বিদুষী চন্দ্রা চক্রবর্তী সৌধের নতুন শিল্প-প্রকল্প 'নৈ:শব্দ্য ও গোধূলির গান' পরিবেশন করেন। বিপা'র নিয়মিত আয়োজন জলসা সিরিজের অংশ হিসাবে তা মঞ্চায়িত হয়।    

টি এম আহমেদ কায়সারবে  কন্ঠে জল ও হাওরের গান শেষে বিদুষী চন্দ্রা  চক্রবর্তী প্রায় দু'ঘন্টা ধরে ভারতীয় শাস্ত্রীয় ও উপশাস্ত্রীয় সঙ্গীত, পঞ্চকবির গানের সম্মোহনী সব পরিবেশনা দিয়ে ঘোরগ্রস্ত করে রাখেন হলভর্তি শিল্পরসিক দর্শকদের। গণিত শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী শঙ্কর সরকার বলেন, চন্দ্রা চক্রবর্তীর গান আমি ইউটিউবে শুনেছি ইতোপূর্বে!  আজ সরাসরি বসে তন্ময় হয়ে শুনছি তার কন্ঠের অবিস্মরণীয় যাদু - এটা খুব সৌভাগ্যের। এই মাপের  গান বাজনা শোনার সুযোগ নিউইয়র্কে খুব কমই ঘটে।
প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা শোয়েব মজুমদার বলেন 'আমি আমার  স্ত্রী ও  কন্যা সহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছি।  আমার কন্যা নিজে ও  একজন কবি। আমরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পুরো অনুষ্ঠান উপভোগ করেছি। কায়সার ভাইয়ের গানের ফাঁকে গান নিয়ে  ছোট ছোট ব্যাখ্যা আর চন্দ্রা চক্রবর্তীর স্বর্গীয় সব শাস্ত্রীয় উপশাস্ত্রীয়  পরিবেশনা রীতিমত আমাদের  অন্য ভূবনে নিয়ে গেছে। অনেক দিন মনে থাকবে এই অসামান্য আয়োজনের  স্মৃতি।

সন্ধ্যা ঠিক সাড়ে সাতটায় টি এম আহমেদ কায়সার ও বিদুষী চন্দ্রা চক্রবর্তীকে  ফুল দিয়ে বরণ করেন বিপা'র দুই অন্যতম স্তম্ভ সেলিমা আশরাফ ও নিলোফার জাহান।  সোহানি ইসলামের সঞ্চালনায় শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন নিলোফার জাহান। অনুষ্ঠানের প্রেক্ষিত ব্যখ্যা করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন প্রগতিশীল সংস্কৃতিকর্মী ও আলোকচিত্রী মিনহাজ আহমেদ। আহমেদ কায়সারের গানের ফাঁকে কবি জসীম উদ্দিন, সুফিয়া কামাল ও চন্ডীদাসের কবিতা  পাঠ করেন তাহারিনা পারভীন প্রীতি। পুরো অনুষ্ঠানে  তবলা সঙ্গত করেন পিনাক পাণি গোস্বামী ও কীবোর্ডে রিপন মিয়া।  শব্দ প্রক্ষেপণ ও নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সুমন সিংহ।

অনুষ্ঠানে দর্শক হিসাবে উপস্থিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বিশিষ্ট কবি অধ্যাপক শামীম রেজা বলেন, নিউইয়র্কে এসে এই প্রথম  এমন যাদু ছড়ানো অনুষ্ঠান সচক্ষে দেখতে পেলাম। এজন্যে বিপা'কে প্রাণ ঢালা অভিনন্দন!  এই অনুষ্ঠান একদিকে যেমন খুব সেরিব্রাল অন্যদিকে ছিলো আদ্যোপান্ত উপভোগ্য - এই সমন্বয় খুব বিরল।

অনুষ্ঠানের শেষের দিকে বিদুষী চন্দ্রা চক্রবর্তীকে কিছু ঠুমরি ও টপ্পা গানের অনুরোধ জানান গল্পকার কুলদা রায় এবং চন্দ্রা চক্রবর্তীর গাওয়া কিছু ঠুমরিকে পন্ডিত অজয় চক্রবর্তীর পরে সকল অর্থেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলে উল্লেখ করেন। সমাপনী বক্তব্যে বিপা'র অন্যতম সংগঠক ও সঙ্গীত শিক্ষক সেলিমা আশরাফ বলেন, এমন অপূর্ব গান বাজনা শেষে খুব বেশি কথা বলা যায় না। তবে এটুকু নিশ্চিত যে এই বিনিময় আগামিতে আরো অসংখ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সুদৃঢ় হবে ও স্থায়িত্ব পাবে।
 

ছবি-সৌজন্য: মিনহাজ আহমেদ

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন