https://www.prothomalony.com/
15933
new-york
সমর্থন জানালেন মেয়র মামদানি
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ০৮:১১
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নার্স ধর্মঘট শুরু হয়েছে। চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোর থেকে প্রায় ১৫ হাজার নার্স কর্মবিরতিতে যান। এর ফলে শহরের একাধিক বড় হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
ধর্মঘটে অংশ নেওয়া নার্সরা নিউইয়র্ক স্টেট নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের (এনওয়াইএসএনএ) সদস্য। সংগঠনটির সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ ডিসেম্বর। এরপর নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
এই ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে নিউইয়র্কের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি হাসপাতালে। এর মধ্যে রয়েছে—মাউন্ট সাইনাই হাসপাতাল, মাউন্ট সাইনাই মর্নিংসাইড, মাউন্ট সাইনাই ওয়েস্ট, মন্টেফিওর হাসপাতাল এবং নিউইয়র্ক–প্রেসবিটারিয়ান হাসপাতাল।
সোমবার সকাল ৬টা থেকেই দলে দলে নার্সরা হাসপাতাল চত্বর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। তারা স্লোগান দেন, বাঁশি বাজান এবং ড্রাম পিটিয়ে তাদের দাবি তুলে ধরেন। নার্সদের দাবির মধ্যে রয়েছে বেতন বৃদ্ধি, রোগীর চাপ সামলাতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, সম্পূর্ণ অর্থায়িত স্বাস্থ্য ও অবসর সুবিধা এবং কর্মস্থলে সহিংসতা থেকে সুরক্ষা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা অতিরিক্ত রোগীর দায়িত্ব পালন করছেন, যা রোগী ও নার্স উভয়ের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ইউনিয়নের আর্থিক দাবিগুলো অতিরিক্ত। মাউন্ট সাইনাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ধর্মঘট চলাকালে নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১,৪০০-এর বেশি অস্থায়ী ও বিশেষায়িত নার্স প্রস্তুত রেখেছে। হাসপাতালগুলো দাবি করেছে, সব সেবা চালু থাকবে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ধর্মঘটরত নার্সদের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, এই আন্দোলন মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে অর্থের অভাব নেই। বড় হাসপাতালগুলোর প্রধান নির্বাহীরা বছরে কোটি কোটি ডলার আয় করলেও অনেক নার্স জীবনযাপন করতে হিমশিম খাচ্ছেন। নার্সরা বিলাসিতা নয়, বরং নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও ন্যায্য সুবিধা চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল আগেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তার মতে, এই ধর্মঘট হাজারো রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
হাসপাতালগুলো জানিয়েছে, প্রয়োজনে তারা সপ্তাহজুড়ে কিংবা তারও বেশি সময় অস্থায়ী নার্স দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাবে। মন্টেফিওর কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, ধর্মঘট কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৩ সালে নিউইয়র্কে নার্সরা তিন দিনের জন্য ধর্মঘটে গিয়েছিলেন। তবে এবারের আন্দোলন অংশগ্রহণের দিক থেকে শহরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়।
সব পক্ষকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানানো হলেও এখনো সমঝোতার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ফলে নিউইয়র্কের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আপাতত এক অনিশ্চিত সময়ের মুখোমুখি।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন