https://www.prothomalony.com/
15826
new-york
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারী ২০২৬ ০২:০৭
নিউইয়র্ক সিটি হলে ‘মাস এনগেজমেন্ট অফিস’, নেতৃত্বে তাসচা ভ্যান অকেন
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানি একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ‘মেয়র’স অফিস অব মাস এনগেজমেন্ট’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। সিটি হল ও বিভিন্ন সিটি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ নিউইয়র্কবাসীর সঙ্গে সরকারের সরাসরি সংযোগ জোরদার করাই এই নতুন দপ্তরের লক্ষ্য।
মেয়র মামদানি জানান, নতুন দপ্তরের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তাসচা ভ্যান অকেন। মামদানির নির্বাচনী প্রচারে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন একটি নজিরবিহীন মাঠপর্যায়ের সংগঠনে। সেই প্রচারণায় এক লাখের বেশি স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত হন, তিন মিলিয়নের বেশি বাড়িতে নক করা হয় এবং নিউইয়র্কবাসীর কাছে চার দশমিক পাঁচ মিলিয়নের বেশি ফোনকল করা হয়।
মেয়র মামদানি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিটি সরকার মূলত ধনী ও প্রভাবশালীদের কথাই বেশি শুনেছে। এর ফলে কর্মজীবী সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে শাসনব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নতুন এই অফিস সেই বাস্তবতা বদলাতে কাজ করবে। সিটি হল, কমিউনিটি সংগঠন, ধর্মভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর ও কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য।
মাস এনগেজমেন্ট অফিসের কাজ হবে এমনভাবে জনসম্পৃক্ততা তৈরি করা, যাতে নিউইয়র্কবাসীর কণ্ঠস্বর নীতিনির্ধারণের প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত হয়। সরকার ও জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি নাগরিক অংশগ্রহণ গড়ে তোলাই দপ্তরটির মূল লক্ষ্য।
দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাসচা ভ্যান অকেন বলেন, অনেক সময় নাগরিকেরা জানতেই পারেন না, সরকারে অংশ নিতে কোথায় যেতে হবে বা কীভাবে সহায়তা চাইতে হবে। উচ্ছেদ, বেকার ভাতা কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের যত্নের প্রয়োজনের মতো সংকটকালে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। নতুন অফিস সরকারি প্রক্রিয়াগুলো সহজ ও বোধগম্য করে তুলবে, যাতে সব নিউইয়র্কবাসী সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারেন।
ডেসিস রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিংয়ের (ড্রাম) নির্বাহী পরিচালক ফাহদ আহমেদ বলেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় ক্ষমতা ওপরের দিকে কেন্দ্রীভূত। অর্থবহ ও কার্যকর গণতন্ত্র গড়ে তুলতে সরকার ও কমিউনিটির মধ্যে অংশগ্রহণমূলক সম্পর্ক জরুরি। মাস এনগেজমেন্ট অফিস সেই পথ তৈরি করবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
তাসচা ভ্যান অকেন একজন অভিজ্ঞ গ্রাসরুট সংগঠক। তিনি এর আগে স্টেট সিনেটর জুলিয়া সালাজার ও অ্যাসেম্বলিমেম্বার ফারা সুফরাঁ ফরেস্টের নির্বাচনী প্রচারণা ব্যবস্থাপক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পার্টির ডেপুটি ক্যাম্পেইনস ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মামদানির প্রচারে তার নেতৃত্বে ১৯৬৯ সালের পর নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি দেখা যায়। যেখানে দুই মিলিয়নের বেশি ভোটার ভোট দেন।
নতুন অফিসের অধীনে থাকবে পাবলিক এনগেজমেন্ট ইউনিট (পিইইউ), মেয়র’স অফিস অব ফেইথ–বেসড অ্যান্ড কমিউনিটি পার্টনারশিপস এবং এনওয়াইসি সার্ভিস। নির্বাহী আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন