https://www.prothomalony.com/
15729
new-york
প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ০২:৫৩
মহামারি আর অপরাধের উত্তাল ঢেউ সামলে চার বছর আগে সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামসের যে যাত্রার শুরু হয়েছিল, এখন তার সমাপ্তি ঘটছে এক অনন্য উচ্চতায়। “রেকর্ড সংখ্যক কর্মসংস্থান, রেকর্ড সংখ্যক আবাসন, রেকর্ড সংখ্যক ছোট ব্যবসা, প্রাথমিক শিশুশিক্ষায় রেকর্ড ভর্তি, গৃহহীনতা নিরসনে রেকর্ড বিনিয়োগ, অভাবনীয় নিরাপত্তা—এই সব অর্জনকে সঙ্গী করে নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনার দাবি করলেন বিদায়ী মেয়র এরিক অ্যাডামস।” গত সপ্তাহে প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্বের এক বিশেষ সভায় তিনি তার চার বছরের শাসনকালকে সিটির ইতিহাসে “সবচেয়ে শক্তিশালী সময়” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সোমবার (ডিসেম্বর ২২) মেয়র গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন, তার প্রশাসন ছিল সিটির আসল প্রতিচ্ছবি। এটি ছিল প্রথম প্রশাসন, যেখানে পাঁচজন নারী ডেপুটি মেয়র এবং প্রথম ও দ্বিতীয় নারী পুলিশ কমিশনারের হাত ধরে এই শহর পরিচালিত হয়েছে। এ ছাড়া ডোমিনিকান, ফিলিপিনো, ভারতীয় এবং পার্সিয়ান বংশোদ্ভূত ডেপুটি মেয়রদের অন্তর্ভুক্ত করে এক অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের নজির গড়েছেন তিনি।
অ্যাডামস বলেন, “নিরাপত্তাই সমৃদ্ধির চাবিকাঠি, এই বিশ্বাসে আমেরিকার বড় শহরগুলোর মধ্যে নিউ ইয়র্ক এখন সবচেয়ে নিরাপদ।” অ্যাডামসের দাবি, তার আমলে সিটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম গোলাগুলির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “জননিরাপত্তা ছিল সমৃদ্ধির পূর্বশর্ত, আর আমরা তা নিশ্চিত করে কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় ইতিহাস গড়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “গত চার বছরের এই অভাবনীয় সাফল্য কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, এই সাফল্য এসেছে বুদ্ধিদীপ্ত ও লক্ষ্যভিত্তিক নেতৃত্ব, বাস্তব চিন্তা এবং সংযত ও দায়িত্বশীল সমাধানের ফলস্বরূপ।”
“র্যাডিক্যালি প্র্যাগমেটিক” নীতির ফলে টানা চার বছর অপরাধের হার হ্রাস এবং অর্থনৈতিক বিকাশের নতুন রেকর্ড অর্জনে সাহায্য করেছে।
অ্যাডামস বলেন, “এভাবেই আমরা নতুন প্রজন্মের জন্য আবাসন তৈরির পথ প্রশস্ত করেছি এবং গৃহহীনতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে আলোচনার ধরন বদলেছি।
এভাবেই আমরা শিশুযত্নের খরচ কমিয়েছি এবং সাধারণ নিউ ইয়র্কবাসীর গড় আয়ু বাড়িয়েছি। এভাবেই আমরা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফল উন্নত করেছি এবং আমাদের রাস্তা ও পার্কগুলোকে পরিষ্কার, সবুজ ও ইঁদুরমুক্ত রেখেছি।”
আবাসন সমস্যাকে একটি ‘প্রজন্মগত সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করে অ্যাডামস জানান, দীর্ঘ ৬০ বছরের টালবাহানা ও বিলম্বের অবসান ঘটিয়ে সিটির ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী আবাসনবান্ধব আইন পাস করা হয়েছে। “সিটি অব ইয়েস” প্রকল্পের মাধ্যমে একটি ন্যায্য ও সাশ্রয়ী ভবিষ্যতের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে, যার সুফল আগামী বহু বছর নিউ ইয়র্কবাসী ভোগ করবে।
অ্যাডামস বলেন, “আমরা প্রতিটি পদক্ষেপে কর্মজীবী মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়েছি—বুদ্ধিদীপ্ত নীতির মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের পকেটে ৩০ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিয়েছি, যার প্রভাব ছিল তাৎক্ষণিক ও বাস্তব। এর মধ্যে ছিল ভর্তুকিযুক্ত শিশুযত্নের খরচ ৯০ শতাংশের বেশি কমানো, চিকিৎসা ঋণ মওকুফ করা, নিম্ন আয়ের নিউ ইয়র্কবাসীর জন্য কর কমানো, ৩ লাখ ৩০ হাজার নাইচা বাসিন্দাকে বিনা মূল্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্রদান এবং আরও অনেক উদ্যোগ। আর এই সবই আমরা করেছি বিচক্ষণ আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে, শহরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট রিজার্ভ রেখে।”
অ্যাডামস তার বক্তব্যের শেষে এক আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন। তিনি তার সাফল্যের পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে তার মা ডরোথি মে অ্যাডামসের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “আমার মা ছিলেন একজন একক মা, যিনি তার ছয় সন্তানকে বড় করতে দিন-রাত একাধিক কাজ করেছেন। তিনি কখনোই তার পরিবারের উন্নত জীবনের জন্য লড়াই থামাননি। গত চার বছর ধরে আমরা নিউইয়র্কবাসীর জন্য সেই একই লড়াই চালিয়ে গেছি।”
অ্যাডামস সিটি হলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মচারীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “আপনারা জননিরাপত্তা, শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং আবাসনের প্রচলিত নিয়মগুলো নতুন করে লিখেছেন। আপনাদের এই পরিশ্রম সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকবে এবং এই শহরকে আরও উন্নত করবে।”
পরিশেষে নিউইয়র্ক সিটির সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মেয়র বলেন, “আপনাদের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান। আমরা একসঙ্গে যে কাজগুলো করেছি, তা আগামী দিনের এক উন্নত, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী নিউইয়র্কের মজবুত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন