https://www.prothomalony.com/

15726

new-york

নিউইয়র্ক

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ইউএসএ–বিডি সনোগ্রাফার সোসাইটির সম্মেলন

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৯:০০

বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ২১ ডিসেম্বর নিউইয়র্কের বৈশাখী রেস্টুরেন্টে ইউএসএ–বিডি সনোগ্রাফার সোসাইটি ইনক-এর উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি সনোগ্রাফারদের ঐক্য, পেশাদারিত্ব ও সম্মিলিত অগ্রগতির লক্ষ্যে সম্প্রতি স্বীকৃত এই সংগঠনটি প্রবাসী স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন ডা. খালেদ ইকবাল। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ডা. মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন, আরডিএমএস ও আরভিটি, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাংগুন হাসপাতাল। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডা. মোহাম্মদ আইয়ুব হোসাইন, প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ও ফ্যাকাল্টি, ডিএমএস, নিউইয়র্ক মেডিকেল ক্যারিয়ার ট্রেনিং সেন্টার; ডা. কালাম চৌধুরী, প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, কার্ডিওভাসকুলার সোনোগ্রাফি; ডা. রতনেশ্বর সাহা, প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, কার্ডিওভাসকুলার সোনোগ্রাফি, ব্রঙ্কস, নিউইয়র্ক; হেলি রফিক চৌধুরী, জেনারেল সোনোগ্রাফার, ব্রাঞ্চ লেবানন হাসপাতাল; ডা. আব্দুল হক, ভাসকুলার সোনোগ্রাফার, ব্রুকডেল ডেল হাসপাতাল; ডা. মোহাম্মদ ইখতিয়ার উদ্দিন, প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ও ইন্সট্রাক্টর, নিউইয়র্ক মেডিকেল ক্যারিয়ার ট্রেনিং সেন্টার; ডা. সাঈদ ইকবাল কবির, ডা. বদরুল আলম, মৌসুমী ফাতেমা খান (ব্রেস্ট সনোলজিস্ট, কলম্বিয়া হাসপাতাল), জেবুন্নেছা জোৎস্না (এআরডিএমএস, আরডিসিএস) ও ডা. সুলতানা রিমাসহ আরও অনেকে।

আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল সমগ্র বাঙালি জাতির সংগ্রাম। দেশ-বিদেশে জাতীয় দিবসগুলো উদযাপনের মাধ্যমে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ এবং বিজয়ের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

ডা. এম আইয়ুব হোসেন তাঁর বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধকালীন ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, সে সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র বারো বছর। তাঁদের ইউনিয়ন কশনামাজাইল, যা থানা সদর দপ্তর থেকে প্রায় সাত মাইল দক্ষিণে এবং কুষ্টিয়া, যশোর ও ফরিদপুর জেলার ত্রি-সীমানায় অবস্থিত, ছিল নদীবেষ্টিত একটি এলাকা এবং মুক্তিবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও অবস্থানের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তাঁর বাবা ডা. এম মোফাজ্জল হোসেন (সোনা মিয়া), যিনি গ্রামের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ছিলেন, যুদ্ধকালীন সময়ে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দিয়েছেন। তাঁর মা পরিবারের জন্য রান্নার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যও নিয়মিত খাবার প্রস্তুত করে সরবরাহ করতেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁদের পাড়ার দুটি স্কুলে মুক্তিবাহিনীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং সেখানে বিপুল সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা অবস্থান করতেন। শহীদ রুহুল ইসলাম (সাদী)-এর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সাদীভাই পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে তিনি এলাকার তরুণদের সংগঠিত করেন। এছাড়াও তিনি গ্রামের আরেক বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন (আন্তু)-এর কথা উল্লেখ করেন, যাঁকে কৌশলগত কারণে রাজাকার বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যাতে পাক সেনাদের তৎপরতার খবর মুক্তিবাহিনীর কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় এ দায়িত্ব তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন।

আলোচনা ও স্মৃতিচারণ পর্ব শেষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত সবার মধ্যে গভীর আবেগ ও দেশপ্রেমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানটি সরাসরি লাইভ সম্প্রচার ও আলোকচিত্র ধারণ করেন ফটো সাংবাদিক নেহার সিদ্দিকী। সার্বিকভাবে পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল সুশৃঙ্খল, প্রাণবন্ত এবং ভাবগম্ভীর পরিবেশে পরিপূর্ণ।

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন