https://www.prothomalony.com/
15682
new-york
নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে যে কয়েকজন মানুষ নিঃস্বার্থভাবে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রেখে চলছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন দুলাল বেহেদু। সমাজসেবার প্রতি তার অনুরাগ, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক কর্মকাণ্ড তাকে আজ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে এক অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বাংলাদেশের ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার সন্তান দুলাল বেহেদু ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সমাজের মানুষের জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষাই তাকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। দেশের মাটিতে তিনি সফলভাবে বাস কোম্পানি পরিচালনা করতেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়ে সেই সফলতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন আরও বৃহৎ পরিসরে।

১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন দুলাল বেহেদু। এখানেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন তার প্রথম কোম্পানি। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে আজ তার পাঁচটি সফল প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ‘স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’ ও ‘স্মার্ট স্টাফিং কোম্পানি’ বিশেষভাবে পরিচিত। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তিনি তিন শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। তার কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দক্ষ স্টাফ সরবরাহ করে, যা প্রবাসীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়াও যুক্তরাষ্টের কানেকটিকাটে আপনার বাজার হালাল সুপার মার্কেট নামে আরো একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে দুলাল বেহেদুর।
তবে শুধু ব্যবসায়িক সফলতাই নয়, মানবিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও দুলাল বেহেদু এক উজ্জ্বল নাম। যুক্তরাষ্ট্রে ঢাকা জেলা সমিতি ও দোহার উপজেলা সমিতির ১৫০ কবর ক্রয়েও আর্থিকভাবে বড় অবদান রাখেন তিনি। এছাড়াও দুলাল বেহেদু ও তার অপর দুই ভাই মিলে গত দুই বছর আগে বাংলাদেশে তাদের নিজস্ব জায়গায়, নিজস্ব অর্থায়নে একটি হেফজ ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে অন্যান্য ছাত্রদের পাশাপাশি ৩০ জন এতিম শিশু বেড়ে উঠছে পরম মমতায়। এই শিশুদের বয়স ২০ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তাদের শিক্ষা, খাদ্য, চিকিৎসা ও পূর্ণাঙ্গ ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেবেন তারা। তারা তিন ভাইয়ের এই উদ্যোগ শুধু দয়া বা সহানুভূতির কাজ নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য সচেতন মানবসম্পদ গড়ে তোলার এক মাইলফলক উদ্যোগ।
প্রবাসে থেকেও দুলাল বেহেদু ভুলে যাননি তার শিকড়—বাংলাদেশকে। কমিউনিটির ঐক্য, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি বর্তমানে একাধিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি ঢাকা জেলা সমিতির বর্তমান প্রেসিডেন্ট, দোহার সমিতির প্রেসিডেন্ট এবং কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে এসব সংগঠন প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সহযোগিতার চেতনা ধরে রাখতে সফলভাবে কাজ করছে।
দুলাল বেহেদুর জীবনের আরেকটি শক্তিশালী দিক হলো তার পরিবার। তার স্ত্রী আছিয়া আক্তার নিজেও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি তিনি দুলাল বেহেদুর প্রতিষ্ঠানে পেরোল কন্ট্রোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিছু প্রতিষ্ঠানে আছিয়া আক্তার প্রেসিডেন্ট, আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে দুলাল বেহেদু নিজেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই দম্পতির সম্মিলিত প্রচেষ্টা একদিকে যেমন অর্থনৈতিক অগ্রগতির দৃষ্টান্ত, তেমনি সামাজিক পরিবর্তনেরও এক বাস্তব উদাহরণ।
নিউইয়র্কে প্রবাসীদের জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান ও কমিউনিটির ঐক্য গঠনে দুলাল বেহেদুর অবদান নিঃসন্দেহে অম্লান। তার চিন্তা, কর্ম ও নেতৃত্ব প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও একজন মানুষ নিজের দেশ, সমাজ ও মানবতার কল্যাণে কতটা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। সমাজসেবাকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করা এই মানুষটি আজ প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে এক জীবন্ত প্রেরণা, এক আলোকবর্তিকা।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন