https://www.prothomalony.com/
15631
new-york
প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৩:৪২
নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস প্রযুক্তির মাধ্যমে নিউইয়র্ক সিটিকে বিশ্বের সবচেয়ে ভাষাবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে মেয়র গত সপ্তাহে শহরের বিভিন্ন সংস্থাকে একটি নির্দেশ জারি করেছেন, যাতে তারা মূল্যায়ন করে দেখতে পারে কীভাবে জনসাধারণের সঙ্গে দৈনন্দিন যোগাযোগে ভাষাভিত্তিক প্রযুক্তি আরও বেশি অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এর লক্ষ্যে সিটি কর্তৃপক্ষ সিটি-মালিকানাধীন স্মার্ট ডিভাইসে অনুবাদ অ্যাপ ইনস্টল করার পরিকল্পনাসহ এনওয়াইপিডি টহল নির্দেশিকায় পরিবর্তন আনছে এবং পাবলিক স্কুল পরিবারের জন্য রিয়েল-টাইম অনুবাদ প্রদানকারী নতুন অ্যাপ ‘হ্যালো’ এরও উন্নয়ন শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) কমিউনিটি অপ-এডে অ্যাডামস বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো ইংরেজিভাষী নন এমন সম্প্রদায়সহ সব নিউইয়র্কবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ আরও উন্নত করা।”
অ্যাডামস নিজেকে শুরু থেকেই একজন “টেক মেয়র” হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার প্রশাসন সর্বদা নিউইয়র্কবাসীদের নিরাপদ, শক্তিশালী ও অবগত রাখতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে। পাবলিক স্কুলগুলোতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য এনওয়াইপিডি যুক্ত করা, নিরাপত্তা ড্রোন মোতায়েন করা এবং ‘এনওয়াইসিএইচএ’ এর বাসিন্দাদের জন্য ব্রডব্যান্ড পরিষেবা সম্প্রসারণ, তার প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপের অন্যতম উদাহরণ।
মেয়রের মতে, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রকৃত অর্থেই অ্যাক্সেসযোগ্য শহর হতে হলে নিউইয়র্ককে অবশ্যই বিশ্বের সবচেয়ে ভাষাবান্ধব শহর হতে হবে। এটি একটি বৈশ্বিক শহর, যেখানে রাস্তায়, দোকানে এবং বাড়িতে শত শত ভাষা শোনা যায়। তাই তিনি নিশ্চিত করতে চান, নাগরিক যে ভাষাতেই কথা বলুন না কেন, তিনি যেন সিটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন এবং যে পরিষেবাগুলোর জন্য তিনি যোগ্য, সেগুলো সম্পর্কে জানতে পারেন।
এই লক্ষ্য পূরণের জন্য বেশ কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সিটি এজেন্সিগুলোর দৈনন্দিন কাজকে জনসাধারণের জন্য আরও সহজলভ্য করতে সিটি-মালিকানাধীন এক লক্ষেরও বেশি স্মার্ট ডিভাইসে অনুবাদ অ্যাপ ইনস্টল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এনওয়াইপিডি টহল নির্দেশিকা নীতি হালনাগাদ করা হচ্ছে, যাতে কর্তব্যরত কর্মকর্তারা জনসাধারণের সঙ্গে কথোপকথনের সময় অনুবাদ অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। ১৯৯২ সাল থেকে ব্যবহৃত ‘ল্যাঙ্গুয়েজ লাইন’ এর পাশাপাশি এটি কর্মকর্তাদের জন্য একটি অতিরিক্ত যোগাযোগের সরঞ্জাম হিসেবে কাজ করবে, যা নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান-সংক্রান্ত নাগরিকদের উদ্বেগের দ্রুত সমাধান দিতে সহায়তা করবে।
এ ছাড়া নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলগুলো ‘হ্যালো’ নামের একটি নতুন অ্যাপ তৈরি করা শুরু করেছে, যা ভাষা ব্যবধান কমাতে সাহায্য করবে। ২০২৬ সালের বসন্ত নাগাদ এই অ্যাপটি চালু হওয়ার কথা। স্পিচ-টু-টেক্সট এবং টেক্সট-টু-স্পিচ ইন্টারঅ্যাকশন ব্যবহার করে ‘হ্যালো’ পাবলিক স্কুল পরিবারের ব্যবহৃত শীর্ষ ১২টি ভাষায় রিয়েল-টাইম অনুবাদ ও ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম হবে।
মেয়র বলেন, “যেহেতু আমরা এমন এক নতুন যুগে প্রবেশ করছি, যেখানে প্রযুক্তি আমাদের জীবনের সব ক্ষেত্রে একীভূত হবে, তাই এর প্রয়োগ অবশ্যই নিরাপদ ও ন্যায্য হতে হবে।”
প্রশাসন এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিউইয়র্কবাসীর গোপনীয়তা রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অ্যাডামস বলেন, “উদ্দেশ্য হলো, বিশ্বজুড়ে আসা নিউইয়র্কবাসীর জন্য আবাসন বা কর্মসংস্থান খোঁজা, ছোট ব্যবসা চালু করা বা সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করার মতো জীবনযাত্রা পরিচালনা করা সহজ করা। ভাষা যেন সুরক্ষা বা সিটি পরিষেবায় অ্যাক্সেসের ক্ষেত্রে কখনোই বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।”
মেয়রের এই ঘোষণাটি সিটি পরিষেবা বিতরণের উন্নতি এবং নিউইয়র্ক সিটি সরকারকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অ্যাক্সেসযোগ্য করার জন্য পূর্ববর্তী কাজের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তার মতে, যখন সিটি কর্তৃপক্ষ প্রযুক্তিকে গ্রহণ করে, তখন তারা তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিটি অংশ আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়, যা শহরটিকে নিরাপদ, আরও সাশ্রয়ী এবং পরিবার নিয়ে বসবাস ও বেড়ে ওঠার জন্য সেরা স্থানে পরিণত করে।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন