https://www.prothomalony.com/

15256

opinion

অভিমত

আমি আমার পরিবারকে কী খাওয়াব? — স্ন্যাপ সুবিধা বন্ধে এক মায়ের প্রশ্ন

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৫ ০৩:২০

সরকারি কার্যক্রম স্থগিত (গভর্নমেন্ট শাটডাউন) থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষ, যারা এই সুবিধার ওপর নির্ভরশীল, নভেম্বর মাসের খাদ্য সহায়তা (স্ন্যাপ) পাননি।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে ২ কোটি ২০ লাখেরও বেশি পরিবারে ছড়িয়ে থাকা এই ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষ সম্পূরক পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচির (এসএনএপি বা স্ন্যাপ) ওপর নির্ভরশীল। এই সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার (৩৪ কোটি ২০ লাখ) প্রায় ১২ শতাংশ।

ইউএসডিএর ২০২৩ অর্থবছরের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সুবিধাভোগীদের মধ্যে ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্করাই সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। তবে মোট সুবিধাভোগীর প্রায় ৩৯ শতাংশই শিশু।

কলোরাডোর এরিন ম্যাকলাফলিনের মতো পরিবারগুলো, যারা ২০০১ সাল থেকে এই সুবিধার ওপর নির্ভরশীল, এখন খাদ্যসংস্থানের মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে। তার গল্প যুক্তরাষ্ট্রের লাখো পরিবারের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।

এরিন ম্যাকলাফলিন স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে থাকেন। সন্তানদের বয়স ১৫, ৮ ও ৩ বছর। নিজে এক জেনেটিক রোগে ভুগছেন, আর তার স্বামী মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসে আক্রান্ত। পরিবারের মাসিক মুদি কেনাকাটার জন্য তিনি স্ন্যাপ থেকে পাওয়া প্রায় ৯৯০ ডলারের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। চলাফেরায় অক্ষমতার কারণে তারা গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন না, ফলে অনলাইন গ্রোসারি ডেলিভারির ওপর নির্ভর করেন।

নভেম্বরে সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এরিন চরম উদ্বেগ ও মানসিক চাপের মধ্যে আছেন। পরিবারের জন্য খাবার জোগাড় করা এখন তাঁর সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।

এরিন বলেন, "আমি ভেবেছিলাম সরকার দ্রুত চালু হবে, আর আমরা সময়মতো সুবিধা পাব। কিন্তু নভেম্বরের শুরুতেই বুঝলাম, তা আর সম্ভব নয়।"

তিনি জানান, সন্তানদের যেন কখনোই না খেয়ে থাকতে না হয়, সেটিই তার প্রধান চিন্তা। “প্রয়োজনে আমি আর আমার স্বামী না খেয়ে থাকব, কিন্তু বাচ্চাদের খাবার দেবই,” বলেন এরিন।

তার ভাষায়, “যখন আপনি অক্ষমতা ভাতা পান এবং সাধারণ (নন–লো–ইনকাম) আবাসনে থাকেন, তখন আপনাকে পুরো ভাড়া দিতে হয়। কারণ স্বল্প আয়ের আবাসনের অপেক্ষার তালিকা ১০ বছর দীর্ঘ। বিদ্যুৎ, ওষুধ, ডায়াপার, ভাড়া—সব মিলিয়ে খাবারের জন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। তবু যা পাই, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”

এরিন আরও বলেন, তার পরিবারের স্বাস্থ্যজনিত কারণে নির্দিষ্ট ধরনের খাবার কিনতে হয়—যেমন সাধারণ দুধের বদলে সয়া দুধ, স্টেকের বদলে টোফু। ফলে ফুড প্যান্ট্রি থেকেও প্রায়ই তাঁদের উপযুক্ত খাবার মেলে না।

তিনি প্রতি মাসের ২ তারিখে অনলাইন গ্রোসারি অ্যাপে কেনাকাটার তালিকা তৈরি করেন এবং ৩ তারিখ রাত ১২টায়, স্ন্যাপ সুবিধা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্ডার দেন। অক্টোবর মাসে তার অর্ডারে ছিল ৬০টি আইটেম—রুটি, ফল, সয়া দুধ, প্ল্যান্ট–বেসড মুরগির পেটি, ভেগান হট ডগসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য। কিন্তু এ মাসে তিনি এসবই কিনতে পারছেন না।

এরিন বলেন, “এই লড়াইয়ে আমি একা নই। এটা ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষের গল্প। থ্যাঙ্কসগিভিং বা ক্রিসমাস সামনে রেখে সবার মনেই এখন একই প্রশ্ন—আমি আমার পরিবারকে কী খাওয়াব?”

তিনি সামাজিক মাধ্যমে প্রচলিত ভুল ধারণারও সমালোচনা করেন। “অনেকে বলে, ফুড স্ট্যাম্প ব্যবহারকারীরা অলস বা মাদকাসক্ত। কিন্তু এটা সত্য নয়,” বলেন তিনি। “প্রাপকদের দুই–তৃতীয়াংশই বয়স্ক, অক্ষম বা শিশু। বাকিরা পূর্ণসময় কাজ করেও পরিবারের খাবারের খরচ চালাতে পারেন না।”

বর্তমানে ফেডারেল সহায়তার ওপর নির্ভরশীল প্রতিটি মানুষ, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অক্ষমরা তীব্র অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে না পেরে অনেক বাবা–মা নিজেদের খাবার কমিয়ে দিচ্ছেন সন্তানদের জন্য। কলোরাডোর এরিনের মতো বহু পরিবার বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় দাতব্য সংস্থার কাছে সাহায্য চাইতে। এই সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানসিক চাপ ও পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।

সরকার কবে স্ন্যাপ সুবিধা পুনরায় চালু করবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। গত সপ্তাহে কলোরাডোর অ্যাটর্নি জেনারেল ফিল উইজারসহ ২২ জন স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল সরকারি শাটডাউনের সময় বেআইনিভাবে এই প্রোগ্রাম স্থগিতের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দপ্তর ও সেক্রেটারি ব্রুক রোলিন্সের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

দুইজন ফেডারেল বিচারক রায় দেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চলমান সরকারি শাটডাউনের সময় লক্ষাধিক স্বল্প–আয়ের আমেরিকানদের খাদ্য সহায়তা বন্ধ করতে পারবে না। আদালত নির্দেশ দেয়, ১ নভেম্বর যাদের সুবিধার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তাদের জন্য আকস্মিক ব্যয় তহবিল ব্যবহার করতে হবে।

রায় ঘোষণার পর ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “যদি আদালতের নির্দেশ মেলে, তবে সামরিক ও আইন–প্রয়োগকারী সংস্থার বেতনের মতোই এই তহবিল সরবরাহ করা আমার জন্য সম্মানের হবে।”

তবে নভেম্বর মাসে স্ন্যাপ সুবিধাভোগীদের জন্য এর বাস্তব প্রভাব কী হবে, তা এখনো অস্পষ্ট। স্ন্যাপ চালু থাকলে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ১ নভেম্বর তাদের খাদ্য সহায়তা পেতেন। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সুবিধা পেতেন আরও ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ। বাকিরা পেতেন সারা মাসজুড়ে ধাপে ধাপে।
 

অভিমত থেকে আরো পড়ুন