https://www.prothomalony.com/
15078
literature
আনন্দগান
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
নাও, এবার গান গাও
দেখো, দুটি ফুল ফুটলো
একটি রাখো মাথার কাছে
আর একটি রাখো দুটি হাতের মাঝখানে
কিছুই হবে না—
ভাতের থালায় আগের মতোই শুধু ভাত
চলা পথ আগের মতোই ধুলো কাদায় মাখা
শুধু একটি নাম না জানা পাখি
তোমার দুয়ারে এসে বলবে—
আনন্দ পেলে তুমি শুধু গানই করবে।
তোমার আগুন
সাজ্জাদুর রহমান
কীভাবে যে রাখো তোমার
মুখের ভেতর আগুন
পোড়াতে পারো,
পোড়াতে পারেনা তোমায়–
প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টন আগুন
বিতরণ করো শ্মশানঘাট–চিতায়
তরতর করে বয়ে যায় নদীর মতো
আগুনের হলুদ কোলাহল
একটু একটু করে চেটে খায়
তোমার ক্ষুধার্ত শব্দের মিছিল
সহস্র গ্যালন তাপ বিদ্যুৎ পারেনা
তোমার মন ভরাতে।
অথচ পুড়ে পুড়ে পৃথিবী নিঃস্ব হলেও
তোমার আকাশে উড়ে চলে রহস্যের চাঁদ।
একমুঠো সুখ
রকিবুল ইসলাম
সেদিন নিশুতি ক্ষণে,
হৃদয় দুয়ার খুলে
বসেছিনু একা উদাস মনে,
চেয়েছিনু শুধু "একমুঠো সুখ!"
পাওনি তবু শুনতে,
নিশি জাগা ভোরে
ডেকেছি কত আবেগ আহ্লাদে,
চেয়েছিনু শুধু "একমুঠো সুখ!"
উপহাস, অবহেলা ভুলে,
আশায় বুক বেঁধে
বাঁচতে ভূমে নতুন করে,
চেয়েছিনু শুধু "একমুঠো সুখ!"
হেসেছিনু যত ভবে,
কেঁদেছিনু ঢের তবে
সেটা মোর নিয়তির খেয়ালে,
চেয়েছিনু শুধু "একমুঠো সুখ!"
সুখ সুখ করে,
গেলাম শুধু বিলাপ করে
আসেনি সে আপনার হয়ে,
চেয়েছিনু শুধু "একমুঠো সুখ!"
নিবিড় আলিঙ্গন
আবুল কালাম তালুকদার
প্রকৃতির আয়োজনে ফুটে ওঠে জেসমিন জুঁই
সকালের আদরে ভরে থাকে ভোরের আয়োজন
আলোর আকাশে মিশে থাকে দিনের আনন্দ
মাথার উপর থেকে শঙ্কার মেঘ চলে যাওয়ায়
নদীর পাড়ে নেমে আসে কুয়াশার সন্ধা
পড়শি পাহারের আমন্ত্রণে আসে শীত
নিঃশব্দের স্রোতে ভেসে যায় মনের সব শোক
তোমার আমার চার নয়নের আকাঙ্খায়
নিবিড় অনুভবে ভরে থাকে জীবনের আনন্দ।
জলের নীল চোখে
বশির আহমেদ
এক বিদুষীর ঠোঁটে হাসির কোলাজ,
পুষ্প ভেজা বৃষ্টির সঙ্গমে গেঁথে রাথি স্মৃতির অনুষঙ্গ।
জলের নীল চোখে সময়ের অভিধান টুকরো টুকরো করে দেয় বাসর বিলাস।
নিঃসঙ্গতা কেটে গেলে ফের ইচ্ছে হয় প্রেমিক হই,
আঙ্গুলের ফাঁকে ফাঁকে গুঁজে দেই প্রথম স্পর্শ।
হে বিদুষী তোমার চোখের পিউপিলে
আমাকে বেঁধে রাখো,
তোমাকে পাঠ করে কুড়িয়ে নেব সন্ন্যাসী জীবন।
অভিভাবক
হাফিজুর রহমান
পৌরুষ তুমি আমার হও,
ধৈর্যে তেজস্ক্রিয়
সর্বোতকৃষ্ট সহ্যে
দায়িত্বশীলতায় অনড়;
হতে আস্থা ও বিশ্বাসের।
কান্না নয় অনুভূতি প্রবল
হেলে পড়া নয় দাঁড়ানো
দৃঢ় নীল পাহাড়ের,
আশ্রয় ও প্রশ্রয়ের
যথাযথ যোগ্য হওয়ার।
ঝরা বসন্ত
রাহেলা আক্তার
কোনো এক বসন্তে ভাদ্রের তপ্ত দুপুরে
রেলের গলিতে দেখা হয়েছিল
সেই প্রথম, সেই শেষ প্রণয়ের আভাস।
ঘর্মাক্ত দেহের ক্লান্ততায়, বিন্দু বিন্দু জল
পুরো শহর জুড়ে জ্বলছে ঝলমল।
এক সাম্রাজ্য জুড়ে স্বপ্ন বুনন
নিপুণ হাতে সৃষ্টি যেনো স্বর্গীয় কানন।
এই বুঝি সারাটি বসন্ত সুবাস ছড়াবে--
ভাবিনি কখনো ভাদ্রের তপ্ত দুপুর
আমায় অতোটা পোড়াবে।
কাটে যখন সুপ্তের ঘোর,
নিঃশেষ হলো বসন্তের জোর।
অদ্ভুত মায়া
শ্যামল বণিক অঞ্জন
কি যে অদ্ভুত এক মায়ায় আবদ্ধ আমি!
জ্বলে পুড়েও-বারবার ফিরে যাই
মায়াবী আগুনের কাছে।
লোহা আগুনে পুড়ে সৃষ্টি হয় ধারালো কোন বস্তুতে ,
সোনা পুড়ে পুড়ে নয়নাভিরাম অলঙ্কারে,
কাঠ পুড়ে ছাই হয় এই আগুনেই আবার;
আমিও পুড়ে অঙ্গার হই প্রতিমুহূর্তে।
আমাকে পোড়ানো আগুনে এতো মায়া এতো তৃপ্তি!
আজন্ম নিজেকে পোড়াতে অদ্ভুত নেশায় মত্ত আমি।
অস্তিত্বজুড়ে আগুনের শিখা জ্বলে দাউদাউ করে-
নেভানোর কোনো বাসনা কখনো জাগে না মনে
জাগে না ডর-ভয় কোনো শঙ্কা!
হয়তো একদিন তপ্ত আগুনে দগ্ধ হয়ে
বিলীন হতে হতে রয়ে যাবো অগ্নিশিখার সঙ্গী হয়ে।
সাকিনা বেওয়া
দেবব্রত সিংহ
(শেষাংশ-তিন)
এখনও অবশ্য তেমন করে শিখতে পড়তে পারেনি সাকিনা। প্রথম দিকে তার সেরকম আগ্রহও ছিল না। ছেলের ফোন এলে ছুটে যেত সাজিদা বিবির কাছে। তারপরে যেদিন সাহস করে ধরতে পেরেছিল ফোনটা, কথাব লতে পেরেছিল ছেলের সঙ্গে, সেদিন খুশিতে ভরে গেছিল মনটা। সত্যি, জিনিসটা খারাপ না। ভালো জিনিস। তাই মোবাইলটাকে এখন খুব যত্নে রাখে সাকিনা। ওরা সেই মোবাইল নিয়ে কী করতে চায়?
সাকিনা ওদের বলেই ফেলল কথাটা, "বাবা মোবাইলটা নিয়ে তুমরা কী করবে বল। ঐ ক-দিন আগে কিনে দিয়ে গেছে ছেলেটা। আমি এখনও জানিই নাই কিছু, কেমন করে মোবাইল টিপতে হয় সেও জানি নাই।"
ছেলেগুলো এবার হুঙ্কার দিয়ে বললে, "তার মানে তুই আনবি না মোবাইলটা। দাঁড়া তোকে দেখাচ্ছি মোবাইল..."
এই বলে সাকিনাকে ঠেলে ফেলে দিয়ে ছেলেগুলো ঢুকে পড়লে ঘরে। কম করেও জনা পঞ্চাশেকছেলে।
তারপর আর কী! তারপর চলল তাণ্ডব। সাকিনা বেওয়ার ঘর ভাঙচুরের তাণ্ডব। বেশিক্ষণ লাগল না সময়। খালপাড়ের ছিটেবেড়ার ঘরটাকে ভেঙেচুরে মাটিতে মিশিয়ে দিতে একদম সময় লাগল না। দৃশ্যটি অভাবিত। মর্মান্তিকও।
সাকিনা বেওয়া মাটিতে পড়ে কেঁদে কেঁদে বলে যাচ্ছে, "ওরে বাছারা তোরা আমার ঘরখানা ভাঙিস না বাবা। বাঁধের জলে সব ভেসে যাওয়ার পরে আমরা দু মা-বেটায় বহু কষ্টে এই ঘরখানা তুলেছি বাপ। তোদের পায়ে পড়ি ঘরখানা ভাঙিস না।"
কে কার কথা শোনে। মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে গেল সব। ঠিক এরকম একটা সময়ে সাকিনা বেওয়ার ভিড়ে ঠাসা উঠানে ঢুকলেন তিনি। তিনি সর্বশক্তিমান। তিনি ক্ষমতাবান। তিনি এই অঞ্চলের গাঁ গেরামের একাধিপত্যের অখণ্ড দন্ডের একচ্ছত্র অধিপতি। তিনি অঞ্চল প্রধান।
দলের ছেলেরা তাঁকে ভিড় সরিয়ে পথ করে দিলে। এমনিতে একটু দেরি হয়ে গেছে তাঁর। কাল মাঝরাতের দিকে ফোন করেছিলেন এমএলএ সাহেব।
একেবারে ভোরের দিকে জেসিবি নিয়ে কাজটা সেরে ফেলার আদেশ দিয়েছিলেন। এটা মিডিয়ার যুগ।কে কখন মোবাইলে ছবি তুলে মিডিয়াতে ভাইরাল করে হৈচৈ ফেলে দেবে তার ঠিক নেই। এই কারণে কাজটা অনেক আগেভাগে সেরে ফেলতে বলেছিলেন।
ইদানিং আবার দলের মধ্যে সোলেমানদের গ্রুপটা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। অঞ্চলের কাজকর্মে মানুষের ক্ষোভ বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে নেতা হতে চাইছে সোলেমান। সে-সব আলাদা ব্যাপার। অবশ্য এমএলএ সাহেবের কাছে দলের সব খবরই চলে যায়। গোষ্ঠী দমনে কখন কী করা দরকার সে পরামর্শও তিনি দেন। এ-সব সাতপাঁচ ভেবেই হয়তো এলাকার লোকজনের ঘুম ভাঙার আগেই কাজটা সেরে ফেলতে চেয়েছিলেন। দলের বিরোধী গ্রুপের কেউ যেন ধারে কাছে না ঘেঁষে সে কথাও তিনি বারবার করে বলে দিয়েছিলেন।
কাল অনেক রাতে এমএলএ সাহেবের ফোনটা পাওয়ার পরে নানান চিন্তায় প্রধানবাবুর তেমন একটা ঘুমও হয়নি। ভোরের দিকে বেরিয়ে পড়বেন বলে ভেবেওছিলেন। তাঁর স্করপিও-র ড্রাইভার চলেও এসেছিল। কিন্তু অত বড়ো গাড়ি নিয়ে খালপাড়ের গ্রামে ঢোকা যাবে না। তাই তাঁর ছোটো গাড়িটা মানে বোলেরো গাড়িটাকে নিতে হল। তাতে আবার তেল ফুরিয়ে গেছিল। এসব বিভ্রাটে দেরি হয়ে গেল কিছুটা।
এখন আর সে-সব নিয়ে চিন্তা করছেন না প্রধানবাবু। এখন তাঁর সম্মুখে সাকিনা বেওয়া। সে তখনও কেঁদে যাচ্ছিল। তার ছিটেবেড়ার ঘরের ধ্বংসাবশেষের সমুখে পা ছড়িয়ে কেঁদে যাচ্ছিল। "ওরে তোরা কী করলিরে। আমার কি সব্বনাশ করলি। আমি কিছু করি নাই রে বাপ। আল্লার কসম বলছি, আমি কিছু করি নাই।"
কথাগুলো কানে গেল প্রধানবাবুর। তিনি এসব শুনে ধমক দিয়ে বলে উঠলেন, "তুমি যা করেছ, অনেক করেছ। আমাদের পথে বসিয়ে ছেড়েছ। তুমি কোনও খবর রাখ? তোমার ভাইরাল ভিডিওটা কদ্দূর গেছে জানো তুমি।"
সাকিনা বেওয়ার কান্না-ভরা দুটি চোখ এমনিতেই ঝাপসা হয়ে গেছিল। বাদল দিনের অঝোর বর্ষণে যেমন ঝাপসা হয়ে যায় পথঘাট অনেকটা সেরকম। এর মাঝে হঠাৎ প্রধানবাবুর ধমক কানে যেতেই ধুলোমাখা শাড়ির আঁচলে চোখ মুছে সাকিনা বেওয়া দেখলে সামনে যিনি দণ্ডায়মান তিনি আর কেউ নন, তিনি সেই তিনি। চেহারায়, ঘাড়ে গর্দানে, চলনেবলনে, বেশভূষায় তাঁর বিস্তর বদল ঘটে গেছে ঠিকই, তবু তিনি সেই তিনিই। ভুল হয়নি। এতটুকুনও ভুল হয়নি সাকিনার।
মনে আছে সেবার ঈদের জামাকাপড় কিনতে সুকুরের বাপের পীড়াপীড়িতে ছেলেকে কোলে নিয়ে যেতে হয়েছিল গঞ্জের বাজারে। বউকে ভ্যান রিকশায় চড়িয়ে নতুন শাড়ি, নতুন চুড়ি, ছেলের নতুন জামা, নতুন খেলনা কিনতে নিয়ে গেছিল মানুষটা। খালপাড়ের মধ্যে সে ছিল খুব শৌখিন মানুষ। অন্যদিন লুঙ্গি পরে গামছা কাঁধে ভ্যান রিকশা চালাত।সেদিন ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি, সাদা পাজামা পরে মাথায় ফেজ টুপি পরে দাড়িতে আতর মেখে সে অন্য মানুষ।
সাকিনার মনে আছে, গঞ্জের বাজারের কাছে খিরিশতলায় ভ্যান রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়েছিল আমিনুদ্দি। 'ভাবী'কে দেখে খুব খুশি। হাসতে হাসতে বলেছিল, "ঈদের দাওয়াত দিয়ে রাখলাম ভাবী, কাল সন্ধ্যায় কিন্তু স্যাঙ্গাতকে নিয়ে আসতেই হবে।"
সেই আমিনুদ্দি। সেই মানুষটি এখন অন্য মানুষ। এখন সে ক্ষমতামানব সেজে তার সামনে দাঁড়িয়ে। তাঁর ধমকের পরেও সাকিনাকে নিশ্চুপ থাকতে দেখে তিনি যারপরনাই তাতালো গলায় বলে উঠলেন, "তুমিনিজেকে খুব সেয়ানা মনে করেছ না! তোমাকে আজ ছাড়া হবে না।"
কথাটা একরকম শাসানি দেওয়ার মতন করেই বললেন প্রধানবাবু। তবু এই শাসানিতে সাকিনা বেওয়ার বুক কাঁপল না এতটুকুও। ভারি অদ্ভুতভাবে তার বুকের মধ্যে যে ধড়ফড়ানি একটু আগে হচ্ছিল সেটা থেমে গেল। এমনকি গা-হাত-পা হিম হয়ে গিয়ে ভোর সকালে যেভাবে ঘেমে যাচ্ছিল সে, সেও গেল থেমে। এখন তার মুখ চোখ কঠিন। চোয়ালশক্ত।
প্রধানবাবু তাড়া দিলেন আবার, "কী হল চুপ দিয়ে রইলে যে? চুপ দিয়ে থাকলে চলবে না। তোমাকে বলতে হবে সব। যা করেছ সব বলতে হবে।"
সাকিনা বেওয়া নির্বিকার নিরুত্তাপ স্বরে বললে, "আমি অতশত বুঝিও নাই, জানিও নাই। ভাইরা না ভাইরাল যে কী জিনিস সে জম্মেও শুনি নাই। গঞ্জের বাজারে রোজ যেমন শাকপাত বেচি সেদিনও তাই বেচছিলাম। একটা ছেলে শাকপাত কিনতে এসে জানতে চাইলে, 'নদীবাঁধের ভাঙনে ঘর ভেসে যাওয়ার পরে পঞ্চায়েতের ঘর পেয়েছি কি না। এখন কোথায় থাকি। পাকা ঘরে থাকি কি না..!' আমি সে-সবের জবাবে মিছা কথা কী করে বলি। যেটা সত্যি সেটাই বলেছি।"
প্রধানবাবু বললেন, "ঠিক আছে। ঠিক আছে। তোমাকে আর বলতে হবেনা কিছু। যা বুঝার বুঝে গেছি আমরা। এই জেসিবির লোকটা গেল কোথায় রে। ডাক ওকে। ভেঙে ফেল। সব ভেঙে ফেল।"
হুজুরের হুকুম পেয়ে তৎক্ষণাৎ শুরু হয়ে গেল জেসিবির লোকের কর্মকাণ্ড। পঞ্চায়েতের আবাস যোজনায় যে ঘর পেয়েছিল সাকিনা, যে ঘরের ভিতের উপরে গাঁথনি তুলে আজ বছর তিনেক ফেলে রেখেছিলেন বাবুরা। সেই ঘরকে ধুলোমাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে আক্ষরিক অর্থে ঘণ্টাখানেকও লাগল না সময়। তবু তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। অবধ্বংসের কাজটা শেষ হওয়া অবধি ছিলেন দাঁড়িয়ে। এক সময় ধূলিসাৎ-পর্বসমাধা হলে ভিড়ের মাঝে একপাশে রাকিবুলকে ডেকে একান্তে একটা জরুরি কথা বলে চলে যাচ্ছিলেন। গ্রামের পুরোনো মসজিদের বৃদ্ধ মৌলভী সাহেব খানিকটা তফাতে ছিলেন দাঁড়িয়ে। আজকাল বয়স হয়েছে বলে খুব একটা বাইরে- টাইরে বেরোন না। লাঠি হাতে ন্যুব্জ মানুষটি প্রধানবাবুর সামনে টানটান হয়ে দাঁড়িয়ে বললেন, "কাজটা কিভালো হল প্রধানবাবু? আল্লাতালা কি এই কাজটাকে ভালো চোখে দেখবেন?"
প্রধানবাবুর হাতে এখন সময় নেই। তিনি মৌলভী সাহেবের কথায় কান দিতে চাইছিলেন না। মৌলভী সাহেব আরও কী-সব বলতে যাচ্ছিলেন।প্রধানবাবু তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, "আপনি পুরোনো যুগের মানুষ।আপনি এ-সব বুঝতে পারবেন না। যান বাড়ি যান।"
কথাগুলো বলে দিয়ে চটপট বেরিয়ে এসে গাড়িতে উঠে পড়লেন তিনি।তাঁর ছায়াসঙ্গীরাও উঠে পড়ল। তারা দলের কোনও নেতা কর্মী নন। তারা ছায়াসঙ্গী। তারা দেহরক্ষী। পকেটে মেশিন নিয়ে প্রধানবাবুকে মাঠেঘাটে, জলে জঙ্গলে, সভা সমিতিতে সর্বক্ষণ আগলে রাখার দেহরক্ষী।
ফোনটা সাইলেন্ট করা ছিল। কললিস্ট দেখারও সময় পাননি। গাড়িতে উঠে কললিস্ট সার্চ করতে গিয়ে দেখলেন এমএলএ সাহেবের তিন তিনটে মিস্ড কল। ড্রাইভার স্টার্ট দিতে যাচ্ছিল তিনি ব্যস্ত-সমস্ত হয়ে ছায়াসঙ্গীদের বললেন, "এই রাকিবুলকে একবার ডেকে নিয়ে আয় তো।"
রাকিবুল ছুটতে ছুটতে হাজির হল। প্রধানবাবু তাকে আরো একবার মনে করিয়ে দিলেন জরুরি কথাটা। বললেন, "এমএলএ সাহেব ফোন করেছিলেন। তিন তিনটে মিস্ড কল। তুই দেরি করবি না। একদম দেরি করবি না। বেশি লোকজন কাউকে ডাকতে হবে না। দলের ছেলেরা ছাড়া আর যেন কেউ না থাকে। একটা কথা মনে রাখবি তোদের নতুন যে মৌলভী সাহেব হয়েছে তাকে কিন্তু রাখতেই হবে। যা দেরি করিস না।আমি বেরিয়ে গেলাম।"
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন