https://www.prothomalony.com/

14465

sports

খেলাধুলা

আমেরিকান জার্সি গায়ে বাংলাদেশি তরুণ সুমন বারীর বর্ণিল ক্রিকেটযাত্রা

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৫ ০০:২৭

২০০৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের জার্সি গায়ে মাঠে নেমে ইতিহাস গড়েছিলেন সিরাজগঞ্জের ছেলে সুমন বারী। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান ক্রিকেটার যিনি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব করেন। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট ছিল তার প্রাণের খেলা। মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসলেও ক্রিকেটের টান তাকে কখনো ছাড়েনি। সিরাজগঞ্জে বড়দের সঙ্গে মাঠে খেলা, কাজিন লিটনের দলের হয়ে স্থানীয় ক্রিকেট দেখা আর অংশ নেওয়া—এসব অভিজ্ঞতা তাকে ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তোলে। ক্রিকেট আইকন হিসেবে তিনি মুগ্ধ ছিলেন শচীন টেন্ডুলকার, জোন্টি রোডস ও বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিমের প্রতি।

 

২০০৬ সালের কলম্বো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তিনি মাঠে নামেন সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, রোহিত শর্মা, পূজারা, ডেভিড ওয়ার্নারের মতো তারকাদের বিপক্ষে। ব্যাটিং ও দুর্দান্ত ফিল্ডিং তাকে আমেরিকার দলে জায়গা এনে দেয়। এর আগে কানাডার টরন্টোতে অনূর্ধ্ব-১৯ কোয়ালিফায়ারে তার দল অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছিল। সেটিই হয়ে ওঠে তার জীবনের মোড় ঘোরানো অধ্যায়। আইসিসি থেকে পারিশ্রমিক পাওয়া ছিল তার প্রথম বড় উপার্জন।

 

তবে সিনিয়র দলে খেলার স্বপ্ন ভেস্তে যায় যখন আইসিসি যুক্তরাষ্ট্র দলকে কয়েক বছরের জন্য সাসপেন্ড করে। তবুও ক্রিকেট থেকে সরে আসেননি তিনি। বর্তমানে সুমন বারী খেলছেন দুটি দলে—রবিবারের ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগে ‘ইউনাইটেড ফাইটার্স’ এবং শনিবারের বাংলাদেশি লিগে ‘বাংলাদেশ জায়ান্টস’। শনিবারের লিগ তার কাছে উৎসবের মতো, যেখানে পুরোপুরি বাংলাদেশি আবহে খেলা হয়।

 

ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স তার লস অ্যাঞ্জেলসের উডলি পার্কে জাতীয় টুর্নামেন্টে ৭০+ রানের ইনিংস, তবে জীবনের সেরা মুহূর্ত নিঃসন্দেহে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশি-আমেরিকানরা যদি একত্রে একটি শক্তিশালী লিগ তৈরি করতে পারে, তবে সেখান থেকেই জাতীয় দলে খেলোয়াড় উঠে আসবে।

 

সুমন বারীর স্বপ্ন এখনো থামেনি। ফিটনেস থাকলে আরও ১০ বছর খেলতে চান। তার সবচেয়ে বড় ইচ্ছে বিপিএলে খেলা, বিশেষ করে সিলেট স্ট্রাইকার্স দলে। আমেরিকায় দীর্ঘদিন সিলেটি খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলার কারণে তাদের প্রতি তার টান অন্যরকম। একইসাথে তিনি ভবিষ্যতে তরুণদের কোচিং করার স্বপ্ন দেখেন এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাথেও কাজ করতে চান।

 

সুমন বারীর গল্প প্রমাণ করে, দেশ বদলালেও শিকড়ের টান মুছে যায় না। আমেরিকার মাটিতে থেকেও তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন—বাংলাদেশি হৃদয়ে ক্রিকেটের প্রেম কখনো নিঃশেষ হয় না।

 

খেলাধুলা থেকে আরো পড়ুন