https://www.prothomalony.com/
14380
new-york
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৫ ০৪:৫২
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের মৃত্যু শুধু বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদেরই নয়, পুরো মুসলিম সম্প্রদায়ের অবদানকে নতুন করে সামনে এনেছে। গত ২৮ জুলাই ম্যানহাটনের একটি অফিস টাওয়ারে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত দিদারুল ইসলাম ছিলেন এনওয়াইপিডির প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তা যিনি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় শহীদের হন। তার বয়স হয়েছিল ৩৬ বছর। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন, আর তৃতীয় সন্তান জন্মের অপেক্ষায়।
দিদারুলের জানাজায় অংশ নিতে ব্রঙ্কসের মসজিদ প্রাঙ্গণে ভিড় করেন শত শত পুলিশ সদস্য। যার মধ্যে অনেকেই ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। অনেকে ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ এশীয় পোশাক পরলেও গলায় ঝুলছিল পুলিশ ব্যাজ। সহকর্মীরা বলছেন, দিদারুল শুধু একজন সাহসী পুলিশ অফিসারই নন, বরং বাংলাদেশি ও মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবেন।
জানা গেছে, বর্তমানে এনওয়াইপিডির প্রায় এক হাজারের বেশি ইউনিফর্মধারী সদস্য বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। যা দুই-তিন দশক আগে ছিল মাত্র কয়েকজন। এছাড়া প্রায় দেড় হাজার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সিভিলিয়ান পদে কর্মরত। ৯/১১ হামলার পর মুসলিমদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দূর করতে এবং দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে অনেকেই পুলিশের পথে আসেন।
এনওয়াইপিডির প্রথম দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম কর্মকর্তা হিসেবে লেফটেন্যান্ট কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করা শামসুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের চোখে দেখা হলেও সময়ের সাথে সাথে বাংলাদেশি সদস্যদের সততা, পরিশ্রম ও দক্ষতা সহকর্মীদের আস্থা অর্জন করেছে।
নতুনদের জন্য পথ তৈরি করতে অভিজ্ঞ বাংলাদেশি পুলিশরা একটি ‘পাইপলাইন’ পদ্ধতি চালু করেন। যেখানে গ্রিনকার্ডধারী বা অভিবাসীরা প্রথমে সিভিলিয়ান পদে যেমন ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট বা স্কুল সেফটি অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করেন। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তারা পুলিশ একাডেমিতে ভর্তি হয়ে ইউনিফর্মধারী অফিসার হন। বর্তমানে ৬০ শতাংশ বাংলাদেশি অফিসার এই পথ ধরে এসেছেন। দিদারুল ইসলামও স্কুল সেফটি অফিসার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ১৬ বছর আগে।
এনওয়াইপিডিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মধ্যে এখন আছেন ১০ জন গোয়েন্দা (ডিটেকটিভ), ৮২ জন সার্জেন্ট, ২০ জন লেফটেন্যান্ট এবং ৪ জন ইন্সপেক্টর। তাদের সাফল্য শুধু বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য গর্বের বিষয় নয়, বরং মুসলিমদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দিদারুল ইসলামের মতো আত্মদান প্রমাণ করছে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগ কোনো জাতি বা ধর্মের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন