https://www.prothomalony.com/
14349
new-york
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৫ ০৪:০২
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের প্রায় দুই শতাধিক বিদ্যালয় এখনও রাজ্যব্যাপী শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পরিকল্পনা জমা দেয়নি। এ বছরের শরৎকাল থেকে আইনটি কার্যকর হবে। তবে এখনও প্রায় ২০ শতাংশ বিদ্যালয় নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও তাদের পরিকল্পনা দাখিল করেনি।
গভর্নর ক্যাথি হোচুলের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১০০টি পাবলিক, চার্টার ও বোসেস স্কুলের মধ্যে ৯০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান তাদের পরিকল্পনা দাখিল করেছেG যা মোটের প্রায় ৮১ শতাংশ। এই পরিকল্পনাগুলো রাজ্য শিক্ষা দফতরের নির্ধারিত পোর্টালের মাধ্যমে জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল গত শুক্রবার।
গভর্নরের মুখপাত্র এমা ওয়ালনার জানান, জমাকৃত পরিকল্পনাগুলো পর্যালোচনা চলছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে এখনই শাস্তির মুখোমুখি করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমাদের দল জেলা পর্যায়ে পরিকল্পনা প্রণয়নে সহযোগিতা করছে। বিদ্যালয়গুলো যেন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে প্রত্যাবর্তনের আগে প্রস্তুতি নিতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সম্পদ আমরা দিচ্ছি।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের ফোন সংরক্ষণের পদ্ধতি নির্ধারণ এবং শ্রেণি চলাকালীন সম্পূর্ণ মোবাইল নিষিদ্ধ নীতিমালা বাস্তবায়নে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আইন অনুযায়ী, স্মার্টফোনসহ ইন্টারনেট সংযুক্ত যেকোনো ডিভাইস ব্যবহার শ্রেণিকক্ষে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
সিনেটের শিক্ষা কমিটির চেয়ার শেলি মেয়ার বলেন, এই পদক্ষেপটি হবে একটি পরিবর্তনের সূচনা। সেপ্টেম্বর থেকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জানতে হবে, স্কুলে ফোন নিয়ে এলেও তা দিনের মধ্যে ব্যবহার করা যাবে না। শুধু ফোনই নয়, স্মার্টঘড়ি বা ইনস্টাগ্রাম চালানো যায় এমন যেকোনো ডিভাইসও নিষিদ্ধ থাকবে।
তবে তিনি জানান, স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনে বা পারিবারিক দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম থাকবে।
যদিও আইনটি নির্দিষ্ট করে দেয়নি যে, কোনো বিদ্যালয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিকল্পনা না জমা দিলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবুও শেলি মেয়ার বিষয়টি নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নন। তার ভাষায়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষকরা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন।
গভর্নর হোচুল বিলম্বিত বাজেট স্বাক্ষর করার পর গত ৯ মে এই মোবাইল নিষেধাজ্ঞা আইনটি কার্যকর হয়। কিন্তু বিদ্যালয়গুলোর জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা আসে জুলাইয়ের শুরুতে। ফলে বিদ্যালয়গুলো মাত্র এক মাসের মধ্যে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মতামত নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে বাধ্য হয়েছে।
অ্যাসেম্বলি শিক্ষা কমিটির চেয়ার মাইকেল বেনেডেট্টো মনে করেন, গ্রীষ্মের ছুটির সময়ে এই পরিকল্পনা তৈরির চাপ স্কুল কর্তৃপক্ষের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তিকর। তিনি বলেন, সময়টা আরেকটু সুবিধাজনক হলে ভালো হতো। হয়তো অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিলে সবাই প্রস্তুত হতে পারত।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মোবাইল নিষেধাজ্ঞা নীতিকে সমর্থন করলেও এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, এটি কার্যকর করতে সময় লাগবে এবং তা পুরোপুরি সম্ভব কিনা তা এখনই বলা কঠিন।
নিউইয়র্ক স্টেট কাউন্সিল অব স্কুল সুপারিনটেনডেন্টসের উপ-পরিচালক বব লোরি জানান, বেশ কিছু জেলা সময়মতো পরিকল্পনা জমা দিতে পারেনি কারণ স্কুল বোর্ডের বৈঠক তখনও হয়নি। অনেকেই বলেছেন, তাদের পরবর্তী সভা ১২ আগস্ট, তখনই তারা নীতিমালা অনুমোদন করবেন।
তিনি আরও জানান, কিছু বিদ্যালয় মনে করেছিল, তারা যদি রাজ্যের সহায়তা না চায়, তাহলে আলাদা পরিকল্পনা জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে বাজেটে স্কুলগুলোর জন্য প্রায় ১৩.৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে, যাতে তারা মোবাইল রাখার পাউচ বা লকারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কিনতে পারে এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে পারে।
যদিও শিক্ষার্থীরা এই নীতিমালা ভঙ্গ করলে তাদের স্থগিতাদেশ দেওয়া যাবে না। তবে প্রত্যেক বিদ্যালয়কে প্রতিবছর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে—যেখানে নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে কতজন শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, এবং তা জাতি, লিঙ্গ বা অন্যান্য বিষয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক কি না, তার বিশ্লেষণও থাকতে হবে।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন