https://www.prothomalony.com/
14332
new-york
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৫ ১৫:০৫
নিউইয়র্কের সম্পত্তি কর ব্যবস্থায় ভয়াবহ বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন নগরীর নিম্নআয়ের বাসিন্দা ও বর্ণবাদী সম্প্রদায়। প্রায় ৫০ বছর পুরোনো আইনের ভিত্তিতে গৃহমূল্য ও কর নির্ধারণ হওয়ায়, একই ধরনের বাড়ির জন্য করের হার ভিন্ন হচ্ছে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত। এই বৈষম্যের শিকার হয়ে অনেকেই পড়েছেন বাড়ি হারানোর ঝুঁকিতে।
ব্রুকলিনের ইস্ট ফ্ল্যাটবুশ এলাকার বাসিন্দা করিম হ্যামিলটন এমনই একজন। মায়ের রেখে যাওয়া বাড়ি রক্ষা করতেই এখন তার জীবনসংগ্রাম। চাকরি হারিয়ে তিনি এখন হাজার হাজার ডলার কর বকেয়া পড়েছেন। অথচ তার বাড়ির চেয়ে দ্বিগুণ দামের একটি বাড়ি শহরের অন্য প্রান্তে কর দিচ্ছে তার চেয়ে ৩ হাজার ডলার কম।
করিম বলেন, শুধু মাথার ওপর একটা ছাদ রাখতে চাই। এই বাড়িটাই আমি রেখে যেতে চাই আমার সন্তান আর নাতিদের জন্য।
একই ধরনের অসংখ্য উদাহরণ পাওয়া গেছে তদন্তে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কর ব্যবস্থা মূলত ১৯৮০ সালের একটি আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। যা আজকের বাস্তবতায় অপ্রাসঙ্গিক ও বৈষম্যমূলক।
কমিউনিটি সার্ভিস সোসাইটি অব নিউইয়র্কের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ইজাইয়াহ থম্পসন বলেন, এই ব্যবস্থাটি জটিল, বিভ্রান্তিকর এবং সম্পূর্ণভাবে বৈষম্যমূলক। এটি বহু বছর ধরে দরিদ্র ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে চলেছে।
নগরীর ফাইন্যান্স কমিশনার প্রেস্টন নিবল্যাক স্বীকার করেছেন, আমরা এই কর ব্যবস্থাকে আরও ন্যায্য করার জন্য কাজ করছি। বহু বছর ধরেই এর বৈষম্যের কথা বলা হচ্ছে। সম্প্রতি আমরা অ্যালবানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি।
তবে এর ভুক্তভোগীদের কাছে আলোচনা আর পরিকল্পনার সময় নেই। কারণ কর না দিতে পারলে নাম উঠে যায় ‘ট্যাক্স লিয়েন সেল’ তালিকায়। যেখান থেকে বাড়ি হারানোর শঙ্কা দেখা দেয়। এমনই পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন করিম হ্যামিলটনও।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৯ ও ২০২১ সালের লিয়েন তালিকাভুক্তদের ৭৬ শতাংশই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার বাসিন্দা।
নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা এবছর দুটি বড় পরিবর্তন এনেছে। একটি হলো সহজে লিয়েন তালিকা থেকে নাম কাটানোর সুযোগ, আরেকটি হলো নতুন কিস্তির মাধ্যমে কর পরিশোধের সুযোগ। এই সুযোগ গ্রহণ করে হ্যামিলটন শেষ পর্যন্ত নিজের বাড়ি রক্ষা করতে পেরেছেন।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন