https://www.prothomalony.com/
13910
new-york
প্রবীণ সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও গবেষক অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই। গত ২৬ জুন (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে নিউইয়র্কের কুইন্স জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
সিরাজুল হক ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য এবং নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সক্রিয় সদস্য। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও কিডনি রোগে ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শুক্রবার বাদ জুমা তার জানাজা নিউইয়র্কের জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার মরদেহ ঢাকায় দাফন করা হবে।
সাংবাদিক সিরাজুল হকের কর্মজীবন শুরু হয় শিক্ষকতা দিয়ে। বরিশালের কামারখালি কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও পরে অধ্যক্ষ ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর হাতে আটক হয়ে নির্যাতিত হন। পরে তিনি সোহরাওয়ার্দী কলেজে অধ্যাপনার পাশাপাশি সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। ‘দৈনিক আজাদ’, ‘জনপদ’, ‘দি ডন’, ‘তাহজীব’, ‘নিউজ লেটার’সহ বহু পত্রিকায় সম্পাদক ও লেখক হিসেবে কাজ করেছেন।
তিনি ইরান সরকারের অধীনে তেহরান রেডিও ও তেহরান টাইমস-এ সাংবাদিকতা করেন এবং প্রপাগেশন সেন্টারের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখা তার বহু গ্রন্থ রয়েছে—উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা, গবেষণা ও শিশুতোষ রচনায় সমানভাবে দক্ষ ছিলেন তিনি।
তার মৃত্যুতে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, বিভিন্ন মিডিয়া হাউজ ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।
প্রয়াত সিরাজুল হক ছিলেন সাহিত্য-সাংবাদিকতা ও শিক্ষা অঙ্গনের এক উজ্জ্বল বাতিঘর। তার শূন্যতা সহজে পূরণ হবার নয়।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন