https://www.prothomalony.com/
13730
new-york
নিউইয়র্কে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিজের সফলতার গল্প শোনালেন লায়ন শাহ নেওয়াজ, পাশে আছেন সহধর্মিনী রানো নেওয়াজ।
লায়ন শাহ নেওয়াজ—নিউইয়র্কের একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। শাহ নেওয়াজ গ্রুপ, গোল্ডেন এজ হোমকেয়ার, এনওয়াই ইন্সুরেন্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে হয়েছে অসংখ্য বাংলাদেশির চাকুরি। সেইসাথে কমিউনিটির কল্যাণে দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছেন এই বাংলাদেশি প্রবাসী। সম্পৃক্ত আছেন মূলধারার রাজনীতির সঙ্গেও। স্বপ্ন দেখেন দেশের বাহিরে বাঙালি কমিউনিটির আরও শক্ত ভিত গড়ার। প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে।
লায়ন শাহ নেওয়াজের এই চলার পথ মোটেও সুগম ছিলো না। পথে পথে ছিলো শত-সহস্র বাধা, চ্যালেঞ্জ ও দুঃখ-দুর্দশা। আর এই পুরো পথ অতিক্রম করেছেন কঠোর পরিশ্রম, সততা ও নিষ্ঠার সাথে। সেইসাথে ভাগ্যও মানুষের দোয়া সহায় হয়েছে এই পথে। বন্ধুর এই পথে বন্ধু হয়ে সব সময় সাপোর্ট করে গেছেন তার সহধর্মিনী রানো নেওয়াজ।
গত সোমবার (৯ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় নিউইয়র্ক সিটির বিখ্যাত কুইন্স প্যালেসে এক অনুষ্ঠানে সংগ্রাম-সফলতার এই গল্প শোনান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লায়ন শাহ নেওয়াজ। লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ২০-আর২, নিউইয়র্ক-এর দ্বিতীয় ভাইস ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর নির্বাচিত হওয়ায় এদিন লায়ন শাহ নওয়াজকে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ও লায়ন্স ক্লাবের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রবাসী সমাজের বিশিষ্টজনরা, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং লায়ন্স ক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লায়ন শাহ নেওয়াজ বলেন, এই সম্মান আমার একক অর্জন নয়, এটি আপনাদের সকলের ভালোবাসা ও সহযোগিতার ফল। তিনি বলেন, এই দীর্ঘ পথচলায় অনেক বাধা এসেছে, অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে আমি কখনো হাল ছাড়িনি। সততা, কঠোর পরিশ্রম আর মানুষের ভালোবাসা ও দোয়াই আমাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজ বলেন, এই যাত্রাপথে যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমার সহধর্মিণী রানো নেওয়াজ সব সময় আমার পাশে ছিলেন। তার সাহস, সহনশীলতা আর ভালোবাসা না থাকলে আমার এই পথচলা আরও কঠিন হতো। আমি সব সময় চেষ্টা করেছি প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশের মানুষের জন্য কিছু করার—চাকরির সুযোগ, সহযোগিতা কিংবা কমিউনিটির কল্যাণে কাজ করা।
শাহ নেওয়াজ বলেন, আজ আমি শুধু আমার নিজের জন্য না, আমার দুই সন্তান যেন সৎ, পরিশ্রমী ও মানুষের উপকারে আসে এই প্রার্থনাই করি। তারা যেন সত্যিকারের মানুষ হয়ে বাঙালি কমিউনিটির কল্যাণে অবদান রাখতে পারে এই দোয়া চাই আপনাদের সবার কাছে।
তিনি আরও বলেন, আমি স্বপ্ন দেখি, প্রবাসী বাংলাদেশিরা একদিন একটি সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও সম্মানজনক কমিউনিটি গড়ে তুলবে। যা দেশের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা লায়ন শাহ নওয়াজের এই সফলতাকে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গৌরবের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা তার কমিউনিটির প্রতি অবদান স্বীকার করে ভবিষ্যতেও কমিউনিটির পাশে থাকার জন্য উৎসাহ দেন।
অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কেক কাটা এবং ভোজের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে সন্ধ্যাটি শেষ হয়।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন