https://www.prothomalony.com/
13681
opinion
নিউইয়র্ক সিটি এখন অদৃশ্য এক উত্তেজনায় টগবগ করছে। চারদিকে ঘুরে ফিরে একটাই আলোচনা—ভোট। কে জিতবে, কে হারবে, কে বদলে দেবে এলাকার চেহারা? কেউ বলছেন, “এইবার ওকে ভোট দেব না।” কেউ বলছেন, “এই ছেলেটা নতুন, ভালো কিছু করতে পারে।”
২৪ জুন—নিউইয়র্ক সিটির প্রাইমারি নির্বাচন। একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের দিন। এই দিনই নির্ধারণ করতে পারে আমাদের রাস্তাঘাট, স্কুল, বাড়িভাড়া, নিরাপত্তা—সবকিছুর ভবিষ্যৎ।
নিউইয়র্কের বৈচিত্র্য যেমন, প্রার্থী তালিকাও তেমনই। অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি আছেন নতুন প্রজন্মের প্রগতিশীল তরুণরা। তাঁদের বক্তব্যে আছে ভিন্নতা, ক্ষোভ, আবার আশাবাদের ঝলক।
এই তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম যোহরান মামদানী। মুসলিম, ভারতীয় বংশোদ্ভূত, জন্ম উগান্ডায়। বর্তমানে কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া থেকে নির্বাচিত স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য। এই প্রথমবার নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে এক মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
ভাড়ার নিয়ন্ত্রণ, অভিবাসী অধিকার, পুলিশ সংস্কারের মতো ইস্যুতে তাঁর অবস্থান তাঁকে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে এমন এক প্রজন্ম, যারা চায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক নেতৃত্ব।
তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও সহজ নয়। তাঁর বিপরীতে আছেন সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো—একজন অভিজ্ঞ, প্রভাবশালী রাজনীতিক, যাঁর পেছনে আছে শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামোর সমর্থন।
এই প্রতিযোগিতার ভেতরেই আমাদের সামনে প্রশ্ন—আমরা কার পক্ষ নেব? কাকে চাই এই শহরের নেতৃত্বে?
নিউইয়র্কের মুসলিম সম্প্রদায় আজ একটি প্রভাবশালী শক্তি। প্রায় ৮ লাখ মুসলিমের বসবাস এখানে, যা শহরের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশের মতো। বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ইয়েমেনি, মিশরীয়, আফ্রো-আমেরিকান—সবাই মিলে গড়ে তুলেছে এক জীবন্ত ও সচল সমাজ।
জ্যাকসন হাইটস থেকে স্টেইনওয়ে, ক্যানারসি থেকে রিচমন্ড হিল—সবখানেই প্রার্থীদের পোস্টার, প্রচারণা, বিতর্ক। কখনো টিক্কা খেতে খেতে, কখনো মসজিদের বারান্দায় বসে এই আলোচনা।
৪০০ বছরের মুসলিম উপস্থিতির ইতিহাস যেন এসে ঠেকেছে এই নির্বাচনের মোড়ে। ১৬৩৩ সালে অ্যান্টনি ভ্যান সালি ছিলেন ম্যানহাটনের প্রথম মুসলিম বাসিন্দা। আজ ২০২৫ সালে এসে আমরা ভাবছি—নিউইয়র্ক শহরের মেয়র কি হতে পারেন একজন মুসলিম?
এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের হাতেই। আপনার ভোটই নির্ধারণ করবে—এই শহর কে চালাবেন, কোন নীতিতে চলবে নিউইয়র্ক, কারা আমাদের ভবিষ্যৎ রচনা করবেন।
চুপচাপ বসে থাকবেন না। ভোট দিন—আপনার বিশ্বাস অনুযায়ী দিন। ভালো না লাগলে অন্তত খারাপটাকে ঠেকাতে দিন।
নিউইয়র্ক আমাদের শহর। এখানে যেমন আছে হালুয়া-রুটি, তেমনি আছে মতের পার্থক্য, নেতৃত্বের বিকল্প, আর আছে পরিবর্তনের সম্ভাবনা।
২৪ জুন—চলুন, যাই ভোট দিতে।
যেন আগামী দিনে বলতে পারি—আমরাও এই শহরের পরিবর্তনে অংশ নিয়েছিলাম।
অভিমত থেকে আরো পড়ুন