https://www.prothomalony.com/

13602

new-york

নিউইয়র্ক

সাবেক এনওয়াইপিডি কমিশনার বার্নার্ড কেরিক আর নেই

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৫ ১১:৫৮

নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (NYPD) সাবেক কমিশনার বার্নার্ড কেরিক (Bernard Kerik) আর নেই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার সময় তিনি পুলিশের নেতৃত্বে ছিলেন। পরে কর ফাঁকিসহ একাধিক অভিযোগে দণ্ডিত হন এবং কারাভোগ শেষে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে ক্ষমা লাভ করেন।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বার্নার্ড কেরিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি কিছুদিন ধরে ব্যক্তিগতভাবে এক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন।
কেরিকের মৃত্যুর খবরে কান্নাভেজা কণ্ঠে প্রতিক্রিয়া জানান নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানি, যিনি ১৯৯৩ সালের নির্বাচনে তাঁকে দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দেন এবং পরে এনওয়াইপিডির কমিশনার পদে বসান।
জুলিয়ানি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই একসঙ্গে ছিলাম। তিনি আমার ভাইয়ের মতো ছিলেন। তাঁকে জানার মধ্য দিয়ে আমি একজন ভালো, সাহসী ও শক্তিশালী মানুষ হয়ে উঠেছিলাম।”
নিউইয়র্ক সিটির বর্তমান মেয়র ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এরিক অ্যাডামস বলেন, “কেরিক ছিলেন আমার ৩০ বছরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আজ সকালে হাসপাতালে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলাম।”
যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনকারী কেরিক ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার পর শহরের পুলিশ প্রধান হিসেবে বীরের সম্মান পান। পরে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ তাঁকে ইরাকের পুলিশ গঠন কার্যক্রমে নিয়োজিত করেন এবং ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান হিসেবে মনোনীত করেন। তবে, গৃহকর্মীর অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে জটিলতার কথা জানিয়ে হঠাৎ করে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন।

তবে এর পর তাঁর বিরুদ্ধে আরও গুরুতর আইনি অভিযোগ ওঠে। ২০০৯ সালে কর ফাঁকি, মিথ্যা তথ্য প্রদানসহ একাধিক অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। নিউইয়র্ক সিটির একজন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে, যার সঙ্গে সংগঠিত অপরাধের সম্পর্ক ছিল বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করে। বিচারক মন্তব্য করেন, “দেশের বৃহত্তম ও মর্যাদাবান নগরীর প্রধান আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তা থাকাকালেই তিনি এই অপরাধগুলো করেছেন।”

কেরিক প্রায় চার বছর কারাদণ্ড ভোগ করেন। ২০১৫ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ “From Jailer to Jailed”-এ তিনি তাঁর উত্থান-পতনের কথা তুলে ধরেন।


কেরিক নিউ জার্সির প্যাটারসনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি “Lean on Me” চলচ্চিত্রে চিত্রিত ইস্টসাইড হাইস্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ না করেই বেরিয়ে আসেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত ছিলেন। এরপর সৌদি আরবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কাজে যুক্ত ছিলেন। দেশে ফিরে নিউ জার্সির একটি কারাগারে তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব নেন।

তিনি ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন এবং পরে নিউইয়র্কের কারা ব্যবস্থাপনা বিভাগের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকে ২০০০ সালে রুডি জুলিয়ানি তাঁকে পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেন। ৯/১১ হামলার পর তিনি শহরের নিরাপত্তা রক্ষায় জুলিয়ানির পাশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

কেরিক লিখেছিলেন, “আমেরিকার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার জন্য আমি সব কিছু করেছিলাম। তবে আমি প্রার্থনা করি, সেদিনটা যেন কখনও না ঘটত। আমি কেবল আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”

কারামুক্তির পর ২০০৫ সালে তিনি The Kerik Group নামে একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পরামর্শদাতা সংস্থা গঠন করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি পুনরায় জুলিয়ানির সঙ্গে যুক্ত হন, বিশেষ করে ২০২০ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হার মেনে না নেওয়ার প্রচারণায়।

কেরিকের মৃত্যুতে রাজনৈতিক ও পুলিশি মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর অবদান, বিতর্ক ও জীবনসংগ্রাম আজ ইতিহাসের অংশ।

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন