https://www.prothomalony.com/
13578
new-york
চকচকে আকাশছোঁয়া ভবন ও বড় বড় স্থাপনায় চেয়ে আছে নিউইয়র্ক শহর। আলোয় ঝলমলে এই শহরে আছে হাজারো গল্প, হাজারো সংগ্রামের ইতিহাস। যুগ যুগ ধরে এই শহরে পাড়ি জমিয়েছেন অসংখ্য সম্প্রদায়, অসংখ্য জাতি। যাদের ঘিরে এই শহরের আছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য। নিউইয়র্কের লিটল সিরিয়া তেমনি এক স্থান। যেখানে প্রথম আরব অভিবাসীরা নিজেদের গোড়াপত্তন করেন। একটা সময় মুসলমানদের গড়ে তোলা এক জীবন্ত বসতি এই শহরকে আলোকিত করে।
জানা গেছে, ১৮৮০ থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যে লোয়ার ম্যানহ্যাটনের ব্যাটারি প্লেস, ওয়াশিংটন স্ট্রিট এবং গ্রিনউইচ স্ট্রিটের মাঝে অবস্থিত এই এলাকা ছিল লেবানন, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বহু আরব শরণার্থীদের আবাসস্থল। তারা এখানে বসতি গড়ে তোলার পাশাপাশি বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং সামাজিক জীবন গড়ে তোলে। যদিও প্রথমত খ্রিস্টান আরবরা বেশি সংখ্যায় ছিলেন। ধীরে ধীরে মুসলিম আরব অভিবাসীরাও এই এলাকার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেন।
মুসলমানদের স্মৃতি বিজড়িত লিটল সিরিয়ার ইতিহাস তুলে ধরার মাধ্যমে এই বিস্মৃত অধ্যায়ের পুনর্জাগরণের চেষ্টা করছেন স্থানীয় ইতিহাসবিদ ও সমাজকর্মী আসাদ দানদিয়া। তিনি ‘নিউইয়র্ক ন্যারেটিভস’ নামে একটি ওয়াকিং ট্যুর কোম্পানি পরিচালনা করেন।
আসাদ দানদিয়া বলেন, লিটল সিরিয়া ছিল আরব বিশ্ব থেকে আগত মানুষের একটি সংস্কৃতিবান্ধব কেন্দ্র। যেখানে আরবি ভাষার পত্রিকা, মুদি দোকান এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের সুবাসময় বাজার ছিল। এই সবই ঐ অঞ্চলের মানুষের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের সাক্ষ্য বহন করে।
আসাদ দানদিয়া আরও জানান, রবার্ট মোজেসের আধুনিক নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হিউ লে. কেরি টানেল নির্মাণের সময় সরকারি অধিগ্রহণের মাধ্যমে লিটল সিরিয়ার শতবর্ষ পুরনো বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যা এক সময়ের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে নিঃশেষ করে দেয়।
লিটল সিরিয়ার ঐতিহাসিক গুরুত্বের এক দৃষ্টান্ত হলো নিউইয়র্ক শহরের বিখ্যাত ‘ওয়াল স্ট্রিট’। এটি ছিল যখন ডাচ উপনিবেশিকদের নির্মিত প্রতিরক্ষা প্রাচীর। যা ব্রিটিশ শাসন ও স্থানীয় আদিবাসীদের আক্রমণ থেকে শহরকে রক্ষা করতো। আসাদ দানদিয়া বলেন, ওয়াল স্ট্রিট শুধু অর্থনৈতিক কেন্দ্র নয় বরং এই শহরের গড়নে থাকা প্রতিরোধ ও অভিবাসনের গল্পের প্রতীক।
এদিকে বর্তমানে নিউইয়র্কের আরব-মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতা হিসেবে জোহরান মামদানির নাম উল্লেখযোগ্য। তিনি উগান্ডা, ভারত ও আমেরিকায় বেড়ে ওঠা একজন সমাজতান্ত্রিক অ্যাসেম্বলি সদস্য। মামদানির নেতৃত্বে এই সম্প্রদায় নতুন করে শক্তিশালী হচ্ছে এবং তারা ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছে।
নিউইয়র্কের মুসলমানরা মনে করেন, লিটল সিরিয়ার মতো স্থানগুলো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষার ক্ষেত্রে সকলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা উচিত। আধুনিক বিশ্বে যখন বহু সাংস্কৃতিক পরিচয় বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে তখন এই ইতিহাস সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তারা জোহরান মামদানির হাত ধরে আবারও মুসলমানদের পুনর্জাগরণের আশায় বুক বাঁধছেন।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন