https://www.prothomalony.com/
13500
new-york
উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, নিরাপত্তা উদ্বেগ ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তায় এক সংকটময় পরিস্থিতি কাটিয়েছে নিউইয়র্কবাসী। তবুও এই শহরের প্রতি টান কমেনি মানুষের। বরাবরের মতোই দেশের বড় শহরের তকমা ধরে রেখেছে নিউইয়র্ক। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই শহরে ৮৭ হাজার ১৮৪ জন নতুন বাসিন্দা যুক্ত হয়েছে। যা এর মোট জনসংখ্যাকে ৮.৪ মিলিয়নেরও বেশি করে দিয়েছে।
মে মাসে প্রকাশিত ভিনটেজ ২০২৪ ডেটা বলছে, নিউইয়র্ক সিটি এখনও দেশের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর। মূলত অর্থনৈতিক সুযোগ, উন্নত অবকাঠামো এবং সামাজিক বৈচিত্র্যই নিউইয়কর্কে আকর্ষণীয় করে তুলেছে নতুন মানুষের জন্য। অন্যদিকে, টেক্সাসের প্রিন্সটন শহর গত এক বছরে প্রায় ৩০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির হার।
এছাড়া, জ্যাকসনভিল (ফ্লোরিডা) এবং ফোর্ট ওয়ার্থ (টেক্সাস) শহরগুলো ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১ মিলিয়ন জনসংখ্যার সীমানা অতিক্রম করেছে। দেশের ছোট শহরগুলো তুলনামূলকভাবে কম বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে ৫ হাজার জনের নিচের শহরগুলোর গড় জনসংখ্যা বৃদ্ধি মাত্র ০.৩ শতাংশ।
এদিকে জনসংখ্যা বাড়ার মানেই শুধু অগ্রগতি নয়। এতে করে বাড়ছে বাসস্থানের সংকট, গাড়ির জট, স্কুল-হাসপাতালে চাপ এবং পরিবেশগত দুর্যোগের আশঙ্কা। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, শহর যত বাড়ছে, আমাদেরও পরিকল্পনার গভীরতা বাড়াতে হবে। জনসংখ্যা বাড়া আশার কথা, তবে তা টেকসই করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিউইয়র্কে জনসংখ্যা বাড়ার হার হয়তো কিছু সময়ের মধ্যে ধীর হবে। কিন্তু শহরের বৈচিত্র্য, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকার কারণে এ শহরের আকর্ষণ কমবে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিউইয়র্ক শহর কেবল সংখ্যা নয়। একটি স্বপ্ন, একটি গতিময় জীবনধারা। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দরকার দূরদর্শী পরিকল্পনা ও সুশাসন। নতুন বাসিন্দাদের আগমন সেই স্বপ্নের নতুন অধ্যায় রচনা করছে। যেখানে সুযোগ যেমন আছে, তেমনি দায়িত্বও অনিবার্য। নিউইয়র্ক এখনো ‘বিগ অ্যাপল’—তবে তার খোসা যাতে ছিঁড়ে না যায়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন